সবাই মগ্ন মোবাইলে। সবাই মগ্ন মোবাইলে। ট্রেনে ওঠার সাথে সাথেই পকেট থেকে বা ব্যাগ থেকে বেরিয়ে পড়ে ওই যন্ত্রখানা। সিটে বসার আগেই কানে ইয়ার ফোন গোঁজা হয়ে গেল। এবার তিনি শুনবেন। কী শুনবেন, কে জানে! কে কেউ আবার ইয়ার ফোনের ধার ধারেন না। তারস্বরে রিলস চালিয়ে যান। পাশের সহযাত্রীর অসুবিধা হচ্ছে কিনা, ভাবতে বয়েই গেছে।
বাংলার রাজনীতিতে পালাবদল। একেবারে ঝোড়ো হাওয়ার মতোই সরকারে এল বিজেপি। কাজ শুরুও ঝড়ের গতিতেই। সেই কাজের অভিমুখ কী? কতটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে আমজনতার মধ্যে? তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কোথাও কি ফাঁক থেকে যাচ্ছে? কেন এভাবে তাসের ঘরের মতে ভেঙে পড়ছে তৃণমূল? বামেদের এমন ফলই বা কেন? তাই নিয়েই বেঙ্গল টাইমসের ই–ম্যাগাজিন।
বেঙ্গল টাইমস আগের সরকারের সময়ও স্তাবকতার রাস্তায় হাঁটেনি। তার সীমিত কণ্ঠ নিয়ে নানা বিষয়ে সোচ্চার থেকেছে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ভূমিকা তার মতো করে পালন করার চেষ্টা করেছে। বেঙ্গল টাইমসের অন্তত একশোটি ই ম্যাগাজিন তার সাক্ষী। সেগুলো এখনও আর্কাইভে আছে।
হতেই পারেন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু বিধানসভার কাছে অভিষেক ব্যানার্জি কে? তাঁর চিঠির কী মূল্য আছে? অভিষেক তিনবারের সাংসদ। এখন আবার সংসদীয় দলনেতা। তারপরেও এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকু নেই!
হানিমুনের আবহেও প্রশ্নগুলো থাকুক। এই অতি উৎসাহ কিন্তু আগামীদেনের অশনি সংকেত। উৎসবের আবহে আত্মসমীক্ষাটুকু যেন হারিয়ে না যায়।
ষাট পেরোনো নস্টালজিয়া নিয়ে আবার খুঁজতে বেরোবো। ফিরে আসুক সেই ডাবল ডেকার। আবার সেই উদ্দেশ্যহীনভাবে না হয় বাসে উঠে পড়ব। ষাটোর্ধ্ব চোখ দিয়ে আবার খুঁজব আমার হারানো কলকাতাকে।
হিসেব না মিলতেই পারে। কিন্তু এমন তুমুল ডিগবাজি মারার কী আছে? খোদ বিজেপি সভাপতি যখন ভাবতে পারেননি, আপনিও না হয় পারেননি। এটা মেনে নিতে কুণ্ঠা কীসের? কিন্তু ওই যে, সবজান্তা সাজতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দলকে জিতিয়ে কিনা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা জানানো! হ্যাঁ, গণতন্ত্র এমন আজব কাণ্ডও ঘটাতে পারে। সে সবাইকেই তার মতো করে আয়না দেখিয়ে দেয়।
আচ্ছা বামফ্রন্টের ৩৪ বছর কেন বলা হয়? কেন ৩৫ নয়? এই উত্তরটাও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। মনে প্রশ্নও আসে না। এবং অধিকাংশ লোকের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, তাঁরা বিষয়টা সম্পর্কে একেবারেই অবহিত নন। সেই কারণেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গেও তাঁরা পরিচিত নন।
অতএব, শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা তাঁদের কাছে ব্রেকিং নিউজ। গলা ফুলিয়ে বলতে হয়, আমাদের কথাই মিলে গেল। কোনদিন বলে বসবে, কাল সকালে পূ্র্বদিকে সূর্য উঠবে। তারপর সকাল হলেই তারস্বরে চিৎকার জুড়বে, আমরাই প্রথম বলেছিলাম, সূর্য পূর্বদিকে উঠবে। আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেল। হে মোর দুর্ভাগা বাংলা, এই গণৎকারদের থেকে সাবধান।