সব পরিচিতিকে তুচ্ছ করে মোহনবাগানকেই আঁকড়ে ধরেছেন
টুটু বসু বললেই সবার আগে মনে পড়ে মোহনবাগানের কথা। তিনি নিজেও নিজেকে মোহনবাগানী ভাবতে ও বলতে ভালবাসতেন। তাই বাকি সব পরিচিতিকে তুচ্ছ করে মোহনবাগানকেই আঁকড়ে ধরেছেন।
টুটু বসু বললেই সবার আগে মনে পড়ে মোহনবাগানের কথা। তিনি নিজেও নিজেকে মোহনবাগানী ভাবতে ও বলতে ভালবাসতেন। তাই বাকি সব পরিচিতিকে তুচ্ছ করে মোহনবাগানকেই আঁকড়ে ধরেছেন।
ষাট পেরোনো নস্টালজিয়া নিয়ে আবার খুঁজতে বেরোবো। ফিরে আসুক সেই ডাবল ডেকার। আবার সেই উদ্দেশ্যহীনভাবে না হয় বাসে উঠে পড়ব। ষাটোর্ধ্ব চোখ দিয়ে আবার খুঁজব আমার হারানো কলকাতাকে।
আমরা সবাই একেকজন খুদে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠব। আমাদের দেশ বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে কোথায় দাঁড়িয়ে, সেই প্রশ্ন আপাতত তোলা থাক। এই একটা মাস আমরা যথার্থই বিশ্ব নাগরিক।
সেইসঙ্গে আরও একটা উটকো উৎপাত আছে। তা হল ভিডিও কল। জোরে চিৎকার করে তিনি ভিডিও কলে কথা বলে যাবেন। আর সহযাত্রীদের সেগুলো বাধ্য হয়ে শুনতে হবে। এ তো অদ্ভুত আবদার। খুব জরুরি ফোন এলে নিশ্চয় ধরবেন। কিন্তু ভিডিও কল করে এত দেখানোর কী আছে?
বাংলাকে এত ভালবাসি, কলকাতাকে এত ভালবাসি। তাহলে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলে সেই আনন্দ হয় না কেন? কলকাতা হারলেই বা দুঃখ হয় না কেন? আসলে, কলকাতার এই দলটাকে ঘিরে কখনই সেই একাত্মতা তৈরি হয়নি। আমার মতো অনেকেই দেখেছি কেকেআর সম্পর্কে নিষ্পৃহ, উদাসীন। কেন আমাদের মধ্যে এই উদাসীনতা তৈরি হল, নাইট ম্যানেজমেন্ট ভেবে দেখুন।
এই মুহূর্তে টলিউডের কজন অভিনেতা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাহিত্য নিয়ে দেড় ঘণ্টা আলোচনা করতে পারেন? এই পর্যায়ের লেখাপড়া কজনের আছে? শীর্ষেন্দুর একটা উপন্যাস পড়েছেন, টলিউডে এমন লোক এখন খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। কে আসল পাঠক আর কে ওপর চালাকি করছে, লেখক ঠিক বোঝেন। রাহুলের আড্ডায় যেন ধরা দিলেন অন্য এক শীর্ষেন্দু।
ক্রমশ বঙ্গ জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠছে এই বোকা বোকা সিরিয়ালগুলো। রোজ সকাল থেকে কীসের আকর্ষণে টিভির সামনে বসে যায়, বুঝতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু যা বুঝেছি, এখান থেকে ভাল শিক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সারাক্ষণ শুধু কুচুটেপনা।লিখেছেন সুমিত চক্রবর্তী।।
ভাল কনটেন্ট অবশ্যই স্বাগত। নতুন প্রযুক্তি থেকেও মুখ ফিরিয়ে থাকার উপায় নেই। কিন্তু সেই প্রযুক্তির হাত ধরে, নতুন ধারার হাত ধরে আবার যদি সেই বিষবাষ্প ঢুকে পড়ে, তা বেশ উদ্বেগের। ওয়েব সিরিজের শুরুর দিনগুলোয় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গিয়েছিল, যাক, সিরিয়ালের কূটকচালি থেকে কিছুটা অন্তত মুক্তি পাওয়া গেল। কিন্তু গত কয়েক বছরে আস্তে আস্তে ওয়েব সিরিজেরও সিরিয়ালীকরণ হয়ে গেল। ভাল ছবিকে যেমন আর্ট ফিল্ম বলে দাগিয়ে দেওয়া হত, এখানেও ভাল কনটেন্ট আবার সেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে না তো!
একটা সময় ছিল, যখন বিয়েবাড়ি, উপনয়ন, জন্মদিনে মানুষ বই উপহার দিতেন। সেই নিয়মে কোথাও যেন ছেদ পড়েছে। স্মার্ট ফোন এসেছে, পড়ার অভ্যেস কমেছে, এটাকে অস্বীকার করা যায় না। তবু বইমেলাকে ঘিরে এই উন্মাদনা বুঝিয়ে দেয়, বই চিরন্তন। বইয়ের বিপণন ব্যবস্থাও অনেক আধুনিক হয়েছে। এখন ঘরে বসেই বই অর্ডার দেওয়া যায়। সামনেরবার বইমেলার পঞ্চাশ বছর। তার আগে বাঙালি আবার সেই হারানো অভ্যেস ফিরিয়ে আনুক।