এই গুন্ডামির নাম ‘‌রাষ্ট্রবাদ’‌ নয়

‘‌গেরুয়া গুন্ডামি’‌ কেন লেখা হল, তা নিয়ে হুঙ্কার না দিয়ে, গেরুয়ার সম্মান নিয়ে কারা এই গুন্ডামি করার সাহস পাচ্ছে, আগে তাদের হুঙ্কার দিন। শিক্ষাঙ্গনে এই দুর্বৃত্তদের প্রবেশ বন্ধ করুন। দোহাই, এই অসভ্যতাকে, এই গুন্ডামিকে রাষ্ট্রবাদ বলে চালাবেন না।

আগে আসল সমস্যা চিনুন, সিলেবাস নিয়ে পরে ভাববেন

এইসব কাজে প্রচার পাওয়া যায়। আসল সমস্যাকে গুলিয়ে দেওয়া যায়। নিজেদের দায়িত্বকে এড়ানোও যায়। কিন্তু সমস্যা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থেকে যায়।

১৫ আগস্টের আড়ালে এক কিশোর কবির আগমনবার্তা

১৫ আগস্ট তাই শুধু স্বাধীন ভারতের জন্মদিন নয়। এক তরুণ কবির জন্মদিনও। যে কবি লিখেছিলেন মানুষের জন্য, ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য। তাঁর জীবন থেমেছিল যাদবপুরের হাসপাতালের এক নিঃসঙ্গ ঘরে; কিন্তু তাঁর স্বপ্ন থামেনি।

স্বাধীনতার দিন, তিনি ছিলেন বেলেঘাটায়

পনেরোই আগস্ট সেই মানুষটা কোত্থাও যাননি। বেলেঘাটার গান্ধী আশ্রমে প্রার্থনা করে গেছেন আর একা একা চরকা কেটেছেন। না, সারাদিন কিছুই মুখে তোলেননি। উৎসব থেকে দূরে, একাকী এক সন্ন্যাসী।

‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ কোথায় হারিয়ে গেল?

দু’বছর পরেও যদি তদন্ত শেষ না হয়, দু বছর পরেও যদি মূল প্রশ্ন অজানাই থেকে যায়, তাহলে এমন তদন্তকারি সংস্থা আদৌ রাখার দরকার আছে কিনা, সেই প্রশ্নটাই সবার আগে তোলা উচিত। বিচারের পথ যত দীর্ঘ হয়েছে, মানুষের আস্থা ততটাই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

চেনা শহরকে নতুন করে চিনে নিন

আবার কলকাতার রাস্তায় হাঁটুন। গঙ্গার ধারে বসুন। বইয়ের দোকানে ঢুকুন। কোনও পুরনো বন্ধুর সঙ্গে চা খান। শহরটাকে আবার নিজের চোখে দেখুন। এ কলকাতার মধ্যে আছে আরেকটা কলকাতা— সেটা আপনার থেকে ভাল কে জানে!‌

জয় গোস্বামীর হেনস্থা দেখে এত বিকৃত উল্লাস?

রক্তিম মিত্র রবীন্দ্র সদনে সেদিন যাঁর ভিড় করেছিলেন, তাঁরা আসলে কারা? কেউ কেউ সত্যিই তসলিমা নাসরিনের অনুরাগী। কেউ কেউ মুক্তচিন্তার সমর্থক। কেউ কেউ সত্যিই সেদিন তসলিমাকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু...

তসলিমা আসলে কাদের বিরুদ্ধে বলে গেলেন!‌

উনিশ বছর পর তিনি বাংলায়। আবেগ ছিল। চাপা কান্না ছিল। নির্বাসিত থাকার যন্ত্রণা ছিল। উদ্বেগ ছিল। কলকাতা তাঁর সেই পবিত্র অনুভূতির শরিক হয়েছে। মুক্তচিন্তার মানুষেরা মুক্তকণ্ঠে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু যেটা বলে গেলেন, ঠিকঠাক মানে বুঝলে সরকারপক্ষের খুব একটা উল্লসিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তাঁরা যে মর্মার্থ বুঝবেন, তাঁদের চেতনার ওপর এতখানি আস্থা রাখা কঠিন।

এবার ব্রাজিল!‌ আর যেন মুখ না পোড়ে‌

কয়েক মাস আগে মেসিকে আনতে গিয়ে যে বিপত্তি হয়েছিল, এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়। সেবার মেসিকে ঘিরে অতিরিক্ত আদিখ্যেতায় মাঝপথেই অনুষ্ঠান পণ্ড হয়েছিল। কলকাতার মুখ পুড়েছিল। এবার যেন উদ্যোক্তারা বাড়তি সতর্ক থাকেন। আর টিকিটের মূল্য যেন আকাশছোঁয়া না হয়। হাজারের মধ্যেই যেন বাঙালি ব্রাজিলের খেলা দেখার সুযোগ পায়, সেটুকুও দেখা উচিত। আবেগের এই মুহূর্ত যেন ব্যবসায়িক ইভেন্টে না বদলে যায়।

‌নেপথ্যের সেই সংবাদ–‌সৈনিকদের কথা মনে পড়ে!‌

এমনিতেই কাগজ পড়ার রেওয়াজ কমছে। তার মধ্যেও যাঁরা সকালে কাগজটা হাতে নিচ্ছেন, তাঁরা কি একবারও ভেবে দেখেছএন এই বিশাল কর্মকাণ্ড মাত্র এক দেড় ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে!‌ নেপথ্যে থাকা সেই সংবাদ–‌সৈনিকদের কথা আড়ালেই থেকে যায়।