গোলপাহাড়ের দেশে যা, চা–‌পাহাড়ের দেশে যা

পাহাড়ের ভোর। সে এক অনাবিল আনন্দ। সাতসকালেই একমুখ হাসি নিয়ে হাজির মনোজ তামাং। বললেন, সামনের ওই পাহাড়টায় চলে যান। আজ ওয়েদার খুব ভাল। কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কার দেখা যাবে।

এত দেমাক কীসের কাঞ্চনজঙ্ঘার?

দরজা খুলে চোখটা একটু ধাতস্থ হতেই দেখি সামনেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। চাঁদের রুপোলি আলো পড়ে বরফের চূড়াগুলো ঝকঝক করছে। কী অপরূপ তার সেই রূপ! মনে হচ্ছিল যেন কী অপার বিস্ময় লুকিয়ে আছে ওই পাহাড়ে।

মেঘের দেশের হাতছানি, নির্জন সেই দাওয়াই পানি

বাড়ির সামনেই একটা বেঞ্চ পাতা। ঘরে ঢোকার আগেই সেদিকে চোখ চলে গেল। সামনে একেবারে খোলা জায়গা। সামনে কোনও বাড়ি নেই। কোনও জনপদ নেই। একেবারে খোলা পাহাড়। দূরে নাম না জানা সব পাহাড়ের সারি। আহা, এই বেঞ্চে বসেই তো অনন্ত সময় কেটে যায়। গেয়ে উঠলাম, ‘‌আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই। কিচ্ছু করার নেই।’‌

এখানে গেস্টহাউস!‌ কে থাকতে আসবে!‌

স্বরূপ গোস্বামী এখানে গেস্ট হাউস?‌ কে থাকতে আসবে এই জঙ্গলে?‌ কেনই বা আসবে?‌ ছেলের দিকে ঠিক এই প্রশ্নটাই ছুঁড়ে দিয়েছিলেন প্রবীণ মাস্টারমশাই। ছেলেও নাছোড়। এখানে তিনি গেস্ট হাউস বানিয়েই ছাড়বেন।...

চায়ের উপত্যকা পেরিয়ে কমলার বাগানে

স্বরূপ গোস্বামী কমলালেবুর গ্রাম বলতেই সবার আগে ভেসে ওঠে সিটংয়ের নাম। ঘরে ঘরে থরে থরে কমলালেবুর গাছ। ইচ্ছেমতো পেড়ে নিলেই হল। কমলালেবুর খোঁজে সিটং গিয়ে হতাশও হতে হয়েছে। কমলার সিজন...

এমন বিপর্যয়েও কাদা ছোড়াছুড়ির ইচ্ছে হয়!‌

বিপর্যয় কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উত্তরবঙ্গ। এবারের বিপদ হয়তো কাটানো গেল। কিন্তু আগামী বছর যেন আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, এখন থেকেই সতর্ক থাকা দরকার। পরিবেশবিদদের পরামর্শ নেওয়া হোক। কঠোরভাবে সেই নির্দেশ পালন করা হোক। কোথায় ড্রেজিং দরকার, কোথায় বাঁধ দরকার, কোথায় ক্যানাল কেটে জল অন্য কোনও জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার রূপরেখা তৈরি হোক। যত দ্রুত সম্ভব, সেই পরিকল্পনার রূপায়ণ হোক।

মাথার ওপর স্নিগ্ধ আকাশ, পায়ের তলায় তিস্তা

মুঙ্গেরজং তাহলে কী দিল?‌ এক প্রগাঢ় শান্তি। যেখানে সিবিআই নেই, ইডি নেই। কাকু নেই, ভাইপো নেই। বিরাট নেই, অনুষ্কাও নেই। অফিস যাওয়ার তাড়া নেই। টিভির ব্রেকিং নিউজ নেই। যেখানে টিভি চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজ নেই। আতঙ্কের সংক্রমণ নেই। যেখানে আপন মনে ময়ূর ডেকে চলেছে। যেখানে পায়ে পায়ে জঙ্গল পেরিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়া যায়। যেখানে পায়ের তলা দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা। মাথার ওপর রয়ে গেছে স্নিগ্ধ আকাশ। ‌‌

তাকদার সেই ব্রিটিশ বাংলোয়

এই তাকদাতেই সতেরোখানা বাংলো বানিয়েছিলেন ব্রিটিশরা। এখানেই ছিল তাঁদের ক্যান্টনেন্ট। কালের নিয়মে কোনওটা ভগ্নপ্রায়। কোনওটা হয়েছে স্কুল। কোনওটা হয়েছে গেস্ট হাউস। মেঘমাখানো তাকদার সেই ইতিহাস উঠে এল স্বরূপ গোস্বামীর লেখায়।

গা ছমছমে জঙ্গলে বোট সাফারি

এতবার ডুয়ার্সে এসেছি। কিন্তু এমন একটা জায়গায় কেন আসিনি! নিজেদের ওপরই রাগ হল। নৌকোয় বাবুও সঙ্গে ছিল। ভাগ্যিস বাবু সিকিয়াঝোরার প্রস্তাবটা দিল! নইলে তো এবারও আসা হত না। অন্তত আমাদের পরিকল্পনার মাঝে কোথাও ছিল না এই উত্তরের অ্যামাজন। বাবুকে কী ভাষায় ধন্যবাদ জানাব! শব্দভান্ডারের কোনও শব্দই জুৎসই মনে হল না। আমাদের রোমাঞ্চ, আমাদের মুগ্ধতা দেখে যা বোঝার, ও বুঝে নিক।

পাহাড়ের অচেনা ঠিকানা, তিনচুলে

দূরে কোথাও নয়। ভিনরাজ্যেও নয়। এই বাংলাতেই। নিশ্চয় দার্জিলিং! না, ঠিক তাও নয়। তবে খুব কাছাকাছি। আর ভনিতা না করে নামটা বলেই দেওয়া যাক- তিনচুলে। নামটা চেনা চেনা লাগছে ? যাঁরা বেড়ানোর ব্যাপারে খুব খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা হয়ত নাম শুনেছেন। যাঁরা শোনেনননি, তাঁদের হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নেই। কারণ, বাংলার পর্যটন মানচিত্রে তিনচুলে তেমন বিখ্যাত নাম নয়।