বেঙ্গল টাইমস।। ই ম্যাগাজিন।। ২০ মে সংখ্যা।।

বাংলার রাজনীতিতে পালাবদল। একেবারে ঝোড়ো হাওয়ার মতোই সরকারে এল বিজেপি। কাজ শুরুও ঝড়ের গতিতেই। সেই কাজের অভিমুখ কী?‌ কতটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে আমজনতার মধ্যে?‌ তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কোথাও কি ফাঁক থেকে যাচ্ছে?‌ কেন এভাবে তাসের ঘরের মতে ভেঙে পড়ছে তৃণমূল?‌ বামেদের এমন ফলই বা কেন?‌ তাই নিয়েই বেঙ্গল টাইমসের ই–‌ম্যাগাজিন।

হানিমুন পিরিয়ডের মাঝেও সংশয় নথিবদ্ধ থাকুক

বেঙ্গল টাইমস আগের সরকারের সময়ও স্তাবকতার রাস্তায় হাঁটেনি। তার সীমিত কণ্ঠ নিয়ে নানা বিষয়ে সোচ্চার থেকেছে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ভূমিকা তার মতো করে পালন করার চেষ্টা করেছে। বেঙ্গল টাইমসের অন্তত একশোটি ই ম্যাগাজিন তার সাক্ষী। সেগুলো এখনও আর্কাইভে আছে।

পরিষদীয় আইন কানুন সম্পর্কে এতখানি অজ্ঞতা!‌

হতেই পারেন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু বিধানসভার কাছে অভিষেক ব্যানার্জি কে? তাঁর চিঠির কী মূল্য আছে?‌ অভিষেক তিনবারের সাংসদ। এখন আবার সংসদীয় দলনেতা। তারপরেও এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকু নেই!‌

ঝোড়ো ইনিংস, ক্যাচও কিন্তু বেশ উঠছে

হানিমুনের আবহেও প্রশ্নগুলো থাকুক। এই অতি উৎসাহ কিন্তু আগামীদেনের অশনি সংকেত। উৎসবের আবহে আত্মসমীক্ষাটুকু যেন হারিয়ে না যায়।

এমনটাই তো হওয়ার ছিল

ডোমকলের জয়টা অবশ্যই বামেদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে। এই জয় ফ্লুকে এসেছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আছে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা। সেইসঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য মুখে ভরসা রাখা। মুস্তাফিজুর রহমান রানা ফেসবুক নির্ভর রাজনীতি করেননি। দৈনন্দিন সংযোগকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে বামেরা ক্ষতায় আসবে না, এই সত্যিটা জানার পরেও মানুষ সেই তাঁকেই ভোট দিয়েছেন।

কী!‌ দিলাম তো মিলিয়ে!‌

হিসেব না মিলতেই পারে। কিন্তু এমন তুমুল ডিগবাজি মারার কী আছে?‌ খোদ বিজেপি সভাপতি যখন ভাবতে পারেননি, আপনিও না হয় পারেননি। এটা মেনে নিতে কুণ্ঠা কীসের?‌ কিন্তু ওই যে, সবজান্তা সাজতেই হবে।

বিপুল জনাদেশ ও কয়েকটি অদৃশ্য থাপ্পড়

প্রধানমন্ত্রীর দলকে জিতিয়ে কিনা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা জানানো!‌ হ্যাঁ, গণতন্ত্র এমন আজব কাণ্ডও ঘটাতে পারে। সে সবাইকেই তার মতো করে আয়না দেখিয়ে দেয়।

জ্যোতিবাবুর সময়েও বিধানসভা ভেঙেছিলেন রাজ্যপাল

আচ্ছা বামফ্রন্টের ৩৪ বছর কেন বলা হয়?‌ কেন ৩৫ নয়?‌ এই উত্তরটাও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। মনে প্রশ্নও আসে না। এবং অধিকাংশ লোকের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, তাঁরা বিষয়টা সম্পর্কে একেবারেই অবহিত নন। সেই কারণেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গেও তাঁরা পরিচিত নন।

শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী, এটাও নাকি ব্রেকিং নিউজ!‌ হে মোর দুর্ভাগা মিডিয়া

অতএব, শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা তাঁদের কাছে ব্রেকিং নিউজ। গলা ফুলিয়ে বলতে হয়, আমাদের কথাই মিলে গেল। কোনদিন বলে বসবে, কাল সকালে পূ্র্বদিকে সূর্য উঠবে। তারপর সকাল হলেই তারস্বরে চিৎকার জুড়বে, আমরাই প্রথম বলেছিলাম, সূর্য পূর্বদিকে উঠবে। আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেল। হে মোর দুর্ভাগা বাংলা, এই গণৎকারদের থেকে সাবধান।

তু মান ইয়া না মান, ম্যায় তেরা মেহমান

নেত্রীর আদর্শে যাঁরা এত বেশি ‘‌অনুপ্রাণিত’, নেত্রী একটু বিপাকে পড়তেই তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার কী হুড়োহুড়ি। মমতার প্রতি এঁদের আনুগত্য বা দলের প্রতি এঁদের আনুগত্য কতখানি, তা বেশ বোঝা গেল। এঁরা আসলে কেউই মমতা পন্থী ছিলেন না, ছিলেন ক্ষমতাপন্থী। ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। তাই, এঁদের ডিগবাজি শুধু সময়ের অপেক্ষা।