জটায়ু নির্ঘাত লিখে ফেলতেন, সারান্ডায় স্যারেন্ডার
স্নিগ্ধতায় মোড়া দু–তিনটে দিন। যার রেশ থেকে যাবে ফেরার পরেও। মনে হবে, সারান্ডার সেই রাস্তা, সেই শালবন, সেই মেঘাতুবুরুর মেঘ—সব কিছু বুঝি এখনও পিছনে পড়ে আছে।
স্নিগ্ধতায় মোড়া দু–তিনটে দিন। যার রেশ থেকে যাবে ফেরার পরেও। মনে হবে, সারান্ডার সেই রাস্তা, সেই শালবন, সেই মেঘাতুবুরুর মেঘ—সব কিছু বুঝি এখনও পিছনে পড়ে আছে।
এই তাকদাতেই সতেরোখানা বাংলো বানিয়েছিলেন ব্রিটিশরা। এখানেই ছিল তাঁদের ক্যান্টনেন্ট। কালের নিয়মে কোনওটা ভগ্নপ্রায়। কোনওটা হয়েছে স্কুল। কোনওটা হয়েছে গেস্ট হাউস। মেঘমাখানো তাকদার সেই ইতিহাস উঠে এল স্বরূপ গোস্বামীর লেখায়।
পাহাড়ের ভোর। সে এক অনাবিল আনন্দ। সাতসকালেই একমুখ হাসি নিয়ে হাজির মনোজ তামাং। বললেন, সামনের ওই পাহাড়টায় চলে যান। আজ ওয়েদার খুব ভাল। কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কার দেখা যাবে।
ওই সিনেমাতেও দেখেছিলাম, শেষপর্যন্ত ওই বন্ধুরাও আর ট্যুর ব্যবসা করেনি। যে যার নিজের নিজের ধান্দা খুঁজে নিয়েছিল। একটা ট্যুরেই ওরা বুঝে নিয়েছিল, এত ঝক্কি–ঝামেলা নেওয়া ওদের কম্ম নয়। আমরাও ওই একটা ছবি দেখেই বুঝলাম, নিজেরা বেড়াতে যাব, সেটাই ভাল। ট্যুর অপারেটর হওয়া আমাদের কম্ম নয়।
খুব শখ করেই পাসপোর্ট করিয়েছিলাম। যদি কোনওদিন কাজে লাগে! কালাপানি পেরোব এমন আশা করিনি। কিন্তু প্রতিবেশী দেশে তো যেতেই পারি। অন্ততপক্ষে বাংলাদেশ। না, সেখানেও যাওয়ার সৌভাগ্য এখনও অর্জন করিনি। তাই পাসপোর্ট যেমনকার তেমনই আছে। কোথাও কোনও ছাপ পড়েনি।কিছুদিন হল বিদেশ থেকে ঘুরে এসে দেশের মাটিতে পা দিয়েছি। কিন্তু অত শখ করে বানানো পাসপোর্ট কোনও কাজেই লাগলো না।
সকালে উঠে হাঁটতে বেরিয়ে পড়া। রাস্তা ধরে অলস পায়ে এগিয়ে যাওয়া। কোথাও বসে থাকা। দূরের পাহাড় দেখা। আবার ফিরে আসা। কোনও তাড়া নেই। কোথাও পৌঁছতে হবে না। এই ‘কোথাও পৌঁছতে না হওয়ার’ আনন্দটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিলাসিতা।
এত ভাল লেগেছিল, জমিই কিনে ফেলেছিলেন মহানায়ক। দিগন্তজুড়ে নীল জলাশয়। ওপারেই সবুজ পাহাড়। বেশি দূরে নয়, কাছেই আছে তোপচাঁচি। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন। লিখেছেন অভিরূপ কুমার।