ট্রেনে কাগজ পড়ার দিনগুলো যেন রূপকথা মনে হয়

সবাই মগ্ন মোবাইলে। সবাই মগ্ন মোবাইলে। ট্রেনে ওঠার সাথে সাথেই পকেট থেকে বা ব্যাগ থেকে বেরিয়ে পড়ে ওই যন্ত্রখানা। সিটে বসার আগেই কানে ইয়ার ফোন গোঁজা হয়ে গেল। এবার তিনি শুনবেন। কী শুনবেন, কে জানে!‌ কে কেউ আবার ইয়ার ফোনের ধার ধারেন না। তারস্বরে রিলস চালিয়ে যান। পাশের সহযাত্রীর অসুবিধা হচ্ছে কিনা, ভাবতে বয়েই গেছে।

পরিষদীয় আইন কানুন সম্পর্কে এতখানি অজ্ঞতা!‌

হতেই পারেন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু বিধানসভার কাছে অভিষেক ব্যানার্জি কে? তাঁর চিঠির কী মূল্য আছে?‌ অভিষেক তিনবারের সাংসদ। এখন আবার সংসদীয় দলনেতা। তারপরেও এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকু নেই!‌

ঝোড়ো ইনিংস, ক্যাচও কিন্তু বেশ উঠছে

হানিমুনের আবহেও প্রশ্নগুলো থাকুক। এই অতি উৎসাহ কিন্তু আগামীদেনের অশনি সংকেত। উৎসবের আবহে আত্মসমীক্ষাটুকু যেন হারিয়ে না যায়।

ফিরে এসো, প্রিয় ডাবল ডেকার

ষাট পেরোনো নস্টালজিয়া নিয়ে আবার খুঁজতে বেরোবো। ফিরে আসুক সেই ডাবল ডেকার। আবার সেই উদ্দেশ্যহীনভাবে না হয় বাসে উঠে পড়ব। ষাটোর্ধ্ব চোখ দিয়ে আবার খুঁজব আমার হারানো কলকাতাকে।

ট্রেনে তারস্বরে রিলসে লাগাম টানা হোক

সেইসঙ্গে আরও একটা উটকো উৎপাত আছে। তা হল ভিডিও কল। জোরে চিৎকার করে তিনি ভিডিও কলে কথা বলে যাবেন। আর সহযাত্রীদের সেগুলো বাধ্য হয়ে শুনতে হবে। এ তো অদ্ভুত আবদার। খুব জরুরি ফোন এলে নিশ্চয় ধরবেন। কিন্তু ভিডিও কল করে এত দেখানোর কী আছে?‌

বিপুল জনাদেশ ও কয়েকটি অদৃশ্য থাপ্পড়

প্রধানমন্ত্রীর দলকে জিতিয়ে কিনা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা জানানো!‌ হ্যাঁ, গণতন্ত্র এমন আজব কাণ্ডও ঘটাতে পারে। সে সবাইকেই তার মতো করে আয়না দেখিয়ে দেয়।

জ্যোতিবাবুর সময়েও বিধানসভা ভেঙেছিলেন রাজ্যপাল

আচ্ছা বামফ্রন্টের ৩৪ বছর কেন বলা হয়?‌ কেন ৩৫ নয়?‌ এই উত্তরটাও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। মনে প্রশ্নও আসে না। এবং অধিকাংশ লোকের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, তাঁরা বিষয়টা সম্পর্কে একেবারেই অবহিত নন। সেই কারণেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গেও তাঁরা পরিচিত নন।

শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী, এটাও নাকি ব্রেকিং নিউজ!‌ হে মোর দুর্ভাগা মিডিয়া

অতএব, শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা তাঁদের কাছে ব্রেকিং নিউজ। গলা ফুলিয়ে বলতে হয়, আমাদের কথাই মিলে গেল। কোনদিন বলে বসবে, কাল সকালে পূ্র্বদিকে সূর্য উঠবে। তারপর সকাল হলেই তারস্বরে চিৎকার জুড়বে, আমরাই প্রথম বলেছিলাম, সূর্য পূর্বদিকে উঠবে। আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেল। হে মোর দুর্ভাগা বাংলা, এই গণৎকারদের থেকে সাবধান।

তু মান ইয়া না মান, ম্যায় তেরা মেহমান

নেত্রীর আদর্শে যাঁরা এত বেশি ‘‌অনুপ্রাণিত’, নেত্রী একটু বিপাকে পড়তেই তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার কী হুড়োহুড়ি। মমতার প্রতি এঁদের আনুগত্য বা দলের প্রতি এঁদের আনুগত্য কতখানি, তা বেশ বোঝা গেল। এঁরা আসলে কেউই মমতা পন্থী ছিলেন না, ছিলেন ক্ষমতাপন্থী। ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। তাই, এঁদের ডিগবাজি শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সেদিনও বলেছিলেন, গিল পারচেজড

দিনভর এত চ্যানেলের এত খবরের ভিড়েও গিল পারচেজড এর বিষয়টি উঠে এল না। কোনও ইউটিউব চ্যানেলেও এর কোনও উল্লেখ নেই। কোনও বিশেষজ্ঞের আলোচনাতেও নয়। কারণটা কী?‌ যাঁরা এখন চ্যানেলের সঞ্চালক বা যাঁরা ইউটিউব চ্যানেল খুলে বসেছেন, তাঁদের অধিকাংশই হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা বিশেষজ্ঞ। ২০০১ সালের ঘটনাক্রম সম্পর্কে তাঁরা পরিচিত নন। আসলে, তখন তাঁরা রাজনীতির খবরই সেভাবে রাখতেন না।