এই সমাজকে আমরা কতটুকুই বা চিনি!
শুধু একটি বছর
নতুন বছরে আমরা তাহলে কী করব? বাংলা ডেড ল্যাঙ্গুয়েজ, এটা বলে একটা বিকৃত আনন্দ পাব? নাকি হাহুতাশ করে যাব? এসব পন্থা ছেড়ে নিজেদের জীবন যাপনে যেন একটু হলেও বাংলাকে ফিরিয়ে আনতে পারি, সেই চেষ্টাই বোধ হয় করা উচিত। না, বাংলা ভাষার জন্য মিছিল করতে হবে না, প্রাণ দিতেও হবে না। মাসে অন্তত একটা ভাল বই পড়া, একটা ভাল বাংলা ছবি দেখা, অন্তত একটা চিঠি লেখা, কয়েকটা গান শোনা— এটুকু তো করতে পারি।
এই কমিশনকে পাসমার্ক দেওয়াও কঠিন
একটু বিচক্ষণতা থাকলে, একটু দূরদর্শিতা থাকলে এই ভোগান্তি এড়ানো যেত। বারবার কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হত না। মনোনয়ন জমা হয়ে গেল, ভোট আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। এখনও তালিকাই চূড়ান্ত হল না। এমনকী কোর্টও কার্যত হাত তুলে দিয়েছে।
এই উপেক্ষা কি আশাজির প্রাপ্য ছিল!
আশাজি পাশে বসে ছিলেন। এই কীর্তিমানদের কোনও ভ্রুক্ষেপই ছিল না। এঁরা আপন আপন খেয়ালে মোবাইল–চর্চা করেই চলেছেন। স্বয়ং আশাজির মনের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করুন। হয়ত মনে মনে ভাবছিলেন, এ কোন অর্বাচীনদের সঙ্গে এলাম। আমি পাশে বসে আছি, অথচ এরা মোবাইল ঘেঁটেই চলেছে!
যেমন মোদি, তেমন তাঁর গ্যারান্টি
কথায় কথায় তিনি বলেন, ‘ইয়ে মোদি সরকার কী গ্যারান্টি হ্যায়।’ এই বাক্যটা শুনলেই কেমন যেন লাগে। নিজের মুখে নিজেই বলছেন ‘মোদি সরকার’। এনডিএ সরকার নয়, বিজেপি সরকার নয়, একেবারে ‘মোদি সরকার’। এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রীকে এমন নির্লজ্জভাবে নিজের নামে প্রচার করতে শোনা যায়নি।
দেওয়াল লেখা ও একটি মজার কাহিনি
তখন সত্যিই এত কিছু বুঝতাম না। কত দেওয়ালে এমন প্রতীক এঁকেছি। সেই হেড স্যার আজ আর বেঁচে নেই। সত্যিই, তখন পরিবেশটাই অন্যরকম ছিল। ছাত্র তাঁর রঙ করা দেওয়ালে অন্য দলের প্রতীক আঁকছে দেখেও তিনি বাধা দেননি। বরং, মুগ্ধ হয়ে এই ছেলেমানুষি দেখেছেন। এমনকী পরেও সেই প্রতীক মুছে ফেলেননি। সেই মানুষগুলোই আর হারিয়ে গেছেন। তাই সেই সহিষ্ণুতাও আর খুঁজে পাই না। সেদিনের রাজনীতি আর এদিনের রাজনীতি— ফারাক অনেকটাই।
ডিম রবে নিষ্ফলের, হতাশের দলে
অথচ সেও তো আরও পাঁচজনের মত নতুন জীবন পেতে পারত। এই পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ অনুভব করতে পারত। বাঁচার অধিকার তো তারও আছে। আমরা যেন ধরেই নিয়েছি আমাদের রসনা তৃপ্ত করাতেই যেন ডিমের জীবনের একমাত্র সার্থকতা। অথচ আমরা যখন অম্লান বদনে ডিম খাই, তখন কি একবারও ভাবি কত মুরগির কোল খালি হয়ে গেল। প্লেটের ওপর সাজানো ডিমটাই হয়তো একটা ছোট্ট ফুটফুটে বাচ্চা হতে পারত। মায়ের সঙ্গে ঘুরঘুর করতে পারত। ভোরবেলায় ‘কোঁকর কোঁক’ করে অন্যদের ঘুম ভাঙাতে পারত। ডিমের এই নিঃসার্থ আত্মত্যাগের ইতিহাস কি মানব জাতি মনে রাখবে? নাকি ‘ডিম রবে চিরকাল হতাশের নিস্ফলের দলে?’
রাহুল জোট করতে যাবেন কেন?
বাংলায় দুজন বিধায়ক পাওয়ার থেকে লোকসভায় দুজন সাংসদ পাওয়া, সর্বোপরি তৃণমূলের সমর্থন পাওয়া যে অনেক বেশি জরুরি, এটা রাহুল বোঝেন। তাই খামোখা তিনি জোট করতে যাবেনই বা কেন?
কেউ কারও ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলে না
বিধানসভা বা লোকসভাকে বলা হয় আইনসভা। অর্থাৎ, সেখানে আইন তৈরি হয়। যাঁরা আইন তৈরি করছেন, যাঁরা সংবিধান সংশোধন করছেন, তাঁদের ন্যূনতম শিক্ষাটুকু থাকবে না? কোন আইন তৈরি হচ্ছে, কোন আইনের পরিবর্তন হচ্ছে, এটুকু বোঝার মতো বিদ্যেটুকুও যদি না থাকে, এমন মানুষদের আইনসভায় পাঠানো কি খুব জরুরি?
