টুটু বসু আর মোহনবাগান যেন সমার্থক। পোশাকি নাম স্বপনসাধন বসু। আরও নানা পরিচিতি ছিল। এই শহরের সফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। নির্দিষ্ট একটি ব্যবসায় নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। কে বলে বাঙালির দ্বারা ব্যবসা হয় না? বাঙালি চাইলে ব্যবসাতেও সফল হতে পারে, বর্তমান সময়ে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত টুটু বসু। একাধারে তিনি একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র সাড়ে তিন দশক ধরে চালিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদও হয়েছেন। কখনও জাহাজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে, তো কখনও শহরে প্রথমসারির হাসপাতালের দায়িত্ব নিয়েছেন।
কিন্তু তারপরও টুটু বসু বললেই সবার আগে মনে পড়ে মোহনবাগানের কথা। তিনি নিজেও নিজেকে মোহনবাগানী ভাবতে ও বলতে ভালবাসতেন। তাই বাকি সব পরিচিতিকে তুচ্ছ করে মোহনবাগানকেই আঁকড়ে ধরেছেন। অথচ, এই মোহনবাগান থেকে তাঁর কোনও আর্থিক লাভ তো নেইই, উল্টে ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ ঢেলে দিয়েছেন ক্লাবের উন্নয়নে। দলগঠন থেকে শুরু করে ক্লাবের নানা প্রয়োজনে তিনিই যেন ‘গৌরী সেন’ হয়ে সামাল দিয়েছেন। এখন না হয় ক্লাবে স্পনসর এসেছে। কিন্তু যখন স্পনসর ছিল না, কার্যত একা হাতে সামলেছেন। এমনকী স্পনসর আনার পিছনেও তাঁর ভূমিকা সবথেকে বেশি। বিজয় মালিয়াই হোন বা সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই তাঁরা মোহনবাগানের স্পনসর হতে এগিয়ে এসেছেন।
আগের বছর মোহনবাগান ক্লাব তাঁকে মোহনবাগান রত্ন সম্মানে ভূষিত করেছে। তিনি অবশ্যই এই সম্মানের যোগ্য দাবিদার। সরকারের কাছে অনুরোধ, বাংলার খেলাধুলো এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে টুটু বসুর অবদানের কথা স্মরণে রেখে টুটু বসুর নামে কোনও রাস্তার নামকরণ করা হোক।
