হেমন্ত রায়
ইস্টবেঙ্গল আবার ভারত সেরা। কতদিন পর আবার সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। এই বাইশ বছরে ট্রফি কি আসেনি? ফেডারেশন কাপ, ডুরান্ড কাপ, সুপার কাপ এসেছে। কাগজে কলমে এগুলিও সর্বভারতীয় টুর্নামেন্ট। কিন্তু আইএসএলের সঙ্গে এগুলির তুলনা হয় না। তাই এই জয়ের আনন্দই আলাদা।
২০০৪ সালে যেবার জাতীয় লিগে জয় এল, পরেরবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়েই ছিল ইস্টবেঙ্গল। এমনকী লিগের শেষদিনেও ছিল টানটান উত্তেজনা। সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে পরপর তিনবার জাতীয় লিগ জয়ের ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু নেমে এসেছিল স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। তারপর থেকে শুধুই অপেক্ষা।
আই লিগে সুযোগ যে আসেনি, এমন নয়। বিশেষ করে ট্রেভর জেমন মর্গ্যানের কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে হতেও হাত থেকে ট্রফি যেন ফস্কে গিয়েছে। আইএসএলে অবশ্য শুরু থেকেই হতাশা। মোহনবাগান যখন বিশাল অঙ্কের দল তৈরি করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলছে, ইস্টবেঙ্গল তখন তালিকার একেবারে নীচের দিকে। তারপরেও আশায় বুক বেঁধেছেন সমর্থকরা। কোনও আশা নেই বুঝেও তাঁরা ঠিক হাজির হয়ে গেছেন ম্যাচের দিন।
এবার আইএসএল আদৌ হবে কিনা, তা নিয়েই ছিল প্রশ্নচিহ্ন। ম্যাচ সংখ্যা যেমন অর্ধেকেরও বেশি কমে গেল। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে এটা হয়তো শাপে বরই হল। কারণ, দু’দফা করে ম্যাচ হলে শেষমেশ হয়তো লড়াইয়ে পিছিয়ে যেতেই পারত। তখন আরও বেশি করে চোট–আঘাত দেখা দিত। সব দলের ক্ষেত্রেই এটা ঘটত। কিন্তু বড় বাজেটের দলে অনেক বেশি বিকল্প থাকে। রিজার্ভ বেঞ্চ অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। তাই লম্বা রেশে তারা এগিয়ে থাকে।
এবারের এই দুরন্ত জয়ের পর একটাই প্রত্যাশা, এবার দলগঠনে যেন গড়িমসি না হয়। কোচ অস্কার ব্রুজোন থাকছেন কিনা, দ্রুত তার নিষ্পত্তি হোক। এখন থেকেই দলগঠনে নেমে পড়া হোক। শুধু এজেন্ট নির্ভর দলগঠন নয়। কর্তাদের পাশাপাশি প্রাক্তন ফুটবলারদেরও মতামত নেওয়া হোক। আরও বেশি করে বাঙালি প্রতিভা তুলে আনা হোক।
