এমনটাই তো হওয়ার ছিল

ডোমকলের জয়টা অবশ্যই বামেদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে। এই জয় ফ্লুকে এসেছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আছে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা। সেইসঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য মুখে ভরসা রাখা। মুস্তাফিজুর রহমান রানা ফেসবুক নির্ভর রাজনীতি করেননি। দৈনন্দিন সংযোগকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে বামেরা ক্ষতায় আসবে না, এই সত্যিটা জানার পরেও মানুষ সেই তাঁকেই ভোট দিয়েছেন।

জ্যোতিবাবুর সময়েও বিধানসভা ভেঙেছিলেন রাজ্যপাল

আচ্ছা বামফ্রন্টের ৩৪ বছর কেন বলা হয়?‌ কেন ৩৫ নয়?‌ এই উত্তরটাও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। মনে প্রশ্নও আসে না। এবং অধিকাংশ লোকের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, তাঁরা বিষয়টা সম্পর্কে একেবারেই অবহিত নন। সেই কারণেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গেও তাঁরা পরিচিত নন।

বামেরা জিতবেন? বাঙালি এখনও এতটা সাবালক হয়নি

আঙ্গুর ফল টকের মত শোনালেও, বলতেই হচ্ছে, এখনই বামেরা জিতবেন, বাঙালি এখনও এতোখানি পরিণত হয়নি। যে বাঙালি সারাক্ষণ হিন্দু বনাম মুসলিম তর্কে মেতে থাকে, তৃণমূল বা বিজেপিই তাঁদের ভবিতব্য। বামেদের শাসক হিসেবে পাওয়ার মতো যোগ্যতা বাঙালি এখনও অর্জন করেনি।

স্থিতাবস্থা নাকি পরিবর্তন? চিন্তাশীল মানুষের উভয় সংকট

একদল বলছে, পরিবর্তন চাই। এই সরকারকে আর নেওয়া যাচ্ছে না। আবার আরেক দল বলছে, আর যাই হোক এই রাজ্যে বিজেপিকে ডেকে আনার কোনও মানে হয় না। রাজ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

দেওয়াল লেখা ও একটি মজার কাহিনি

তখন সত্যিই এত কিছু বুঝতাম না। কত দেওয়ালে এমন প্রতীক এঁকেছি। সেই হেড স্যার আজ আর বেঁচে নেই। সত্যিই, তখন পরিবেশটাই অন্যরকম ছিল। ছাত্র তাঁর রঙ করা দেওয়ালে অন্য দলের প্রতীক আঁকছে দেখেও তিনি বাধা দেননি। বরং, মুগ্ধ হয়ে এই ছেলেমানুষি দেখেছেন। এমনকী পরেও সেই প্রতীক মুছে ফেলেননি। সেই মানুষগুলোই আর হারিয়ে গেছেন। তাই সেই সহিষ্ণুতাও আর খুঁজে পাই না। সেদিনের রাজনীতি আর এদিনের রাজনীতি— ফারাক অনেকটাই।

মশাই, কদিন হাসপাতালে বা শ্মশানে গিয়েছেন?‌

রাস্তায় নামা, গণ আন্দোলন গড়ে তোলা। এগুলো তো অনেক বড় ব্যাপার। আগে এই ছোট ছোট কাজগুলো শুরু হোক। শূন্যের গেরো এমনি এমনি কাটবে না। কাজটাও সেই শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে।

এবার আর কারও দম বন্ধ হচ্ছে না তো!‌

বিজেপির বড় চমক অবশ্যই শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নন্দীগ্রামে দাঁড়াবেন, তা তো জানাই ছিল। কিন্তু পাশাপাশি ভবানীপুরেও তাঁকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বড়সড় ঝুঁকিই নিয়েছে বিজেপি। কোনও সন্দেহ নেই, শুভেন্দু নিজেও যথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আগেরবার মমতা ব্যানার্জির নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে যতটা সাহসিকতার পরিচায় দিয়েছিলেন, শুভেন্দুর এই ভূমিকা আরও বেশি দুঃসাহসী।

সবাই হাওয়া গরম করতেই ব্যস্ত, ভোগান্তি তো বাড়বেই

ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি হোক, এ নিয়ে কোনও মহলেই দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু তা করতে গিয়ে যে পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে, তা বেশ বিভ্রান্তিকর। এতবড় একটা কাজ আরও সময় নিয়ে, আরও প্রস্তুতি নিয়ে করা যেত। কী কী সমস্যা আসতে পারে, এলে কীভাবে তা সামাল দেওয়া যায়, সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছিল বলেও মনে হয় না।

জ্যোতিবাবুর দলের লোকেরা যদি তাঁর মতো একটু সহজ ভাষায় বলতে পারতেন!‌

হ্যাঁ, এই ছিল ভাষণের নির্যাস। বাকিরা ইংরাজিতে বললেও জ্যোতিবাবু সেদিন পরিষ্কার বাংলাতেই বলেছিলেন। বাকিরা চায়ের জগতের দিকপাল। চা সম্পর্কে তাঁদের বিস্তর জ্ঞান উগরে দিচ্ছিলেন। জ্যোতিবাবুও চাইলে সেক্রেটারিকে দিয়ে চা নিয়ে একটা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ তৈরি করে আনতে পারতেন। চায়ের বাণিজ্য, চা শিল্পের সম্ভাবনা, সঙ্কট, সরকারি পরিকল্পনা–‌এসব নিয়ে নিজের ঢাক পেটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই রাস্তাতেই গেলেন না। একেবারে সহজ–‌সরল, সাদামাটা ভাষায় নিজের অনুভূতি তুলে ধরলেন। বলাই বাহুল্য, তাঁর কাছে সবাই সেদিন ম্লান। শুধুমাত্র সরলতা এবং অকপট স্বীকারোক্তির জন্যই তিনি বাকিদের থেকে আলাদা। তাঁর দলের আর কাউকে এত সহজ ভাষায় কথা বলতে শুনিনি।

ভাইরাল হয়েই থেকে গেল ‘‌এমন তো কতই হয়’‌

কিন্তু ওই যে ‘‌ইট হ্যাপেন্স’। একটি বাংলা কাগজে তার বাংলা তর্জমা হয়ে গেল ‘‌এমন তো কতই হয়।’ সেটাই দশকের পর দশক ধরে ভাষণে ভাষণে ছড়িয়ে গেল। কেউ কেউ নিজের মতো করে অতিরঞ্জিত করে বসলেন। আজও সেই অতিরঞ্জনের ট্রাডিশন চলছে। আজও কোথাও নারী নির্যাতন ঘটলে তৃণমূল নেতারা বলে থাকেন, ‘‌বাম আমলেও এসব হত। সেদিনের মুখ্যমন্ত্রী নির্লজ্জের মতো বলেছিলেন, এমন তো ঘটতেই পারে। এমন তো কতই হয়। এ নিয়ে হইচই করার কী আছে?‌’