দু’বছর পরেও যদি তদন্ত শেষ না হয়, দু বছর পরেও যদি মূল প্রশ্ন অজানাই থেকে যায়, তাহলে এমন তদন্তকারি সংস্থা আদৌ রাখার দরকার আছে কিনা, সেই প্রশ্নটাই সবার আগে তোলা উচিত। বিচারের পথ যত দীর্ঘ হয়েছে, মানুষের আস্থা ততটাই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
এত মহিলাকে যে তিন হাজারি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া সম্ভব নয়, এই সত্যিটা তখন ইচ্ছে করেই উহ্য রাখা হয়েছিল। নিশ্চিতভাবেই অনেকে আশাহত হয়েছেন। এখন ভোট হলে রাগে তাঁরা হয়তো উল্টোদিকের বোতাম টিপবেন। তবু বলব, সরকারের সিদ্ধান্ত অপ্রিয় হলেও সময়োচিত।
আজ ২ জুলাই। কিংবদন্তী জননেতা অশোক ঘোষের জন্মদিন। বেশ কয়েক বছর আগে, তাঁর জন্মদিনে বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল বেঙ্গল টাইমসে। তার কয়েকটি লেখা আবার প্রকাশিত হচ্ছে। যাঁরা আগে পড়েননি, তাঁরা এখন পড়ে নিতে পারেন। যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা আবার পড়লেও মন্দ লাগবে না।
অশোক ঘোষের কথা বললেই মনের মধ্যে ভিড় করে টুকরো টুকরো কত স্মৃতি। আমার জীবনের সঙ্গে, আমার লড়াইয়ের সঙ্গে তিনিও যেন একাত্ম হয়ে আছেন। আজ তিনি আমাদের ধরাছোঁযার বাইরে। তবু কেন জানি না, চোখ বুজলেই তাঁকে দেখতে পাই। এখনও যখন কোনও বিষয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়, মনে মনে ভাবার চেষ্টা করি, তিনি থাকলে কী পরামর্শ দিতেন। তখন কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
করবেন। তাঁরা আসলে কার বিরোধী? শাসকের নাকি মমতার? শাসকের বিরোধিতা করার মুরোদ এঁদের অন্তত নেই। এঁরা ততটুকুই বলবেন, যতটুকু শাসক বলতে বলবে। এঁদের ঘড়িতে ততটুকুই দম দেওয়া আছে। এমন তাঁবেদার বিরোধী দল কোনও রাজ্যেই সম্ভবত নেই। দোহাই, এই অর্বাচীনদের আর যাই বলুন, বিদ্রোহী বলবেন না।
আইন নিশ্চয়ই আইনের কাজ করবে। কিন্তু বিরোধীরাও যেন তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্ভয়ে চালিয়ে যেতে পারে, সেটা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।
ডোমকলের জয়টা অবশ্যই বামেদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে। এই জয় ফ্লুকে এসেছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আছে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা। সেইসঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য মুখে ভরসা রাখা। মুস্তাফিজুর রহমান রানা ফেসবুক নির্ভর রাজনীতি করেননি। দৈনন্দিন সংযোগকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে বামেরা ক্ষতায় আসবে না, এই সত্যিটা জানার পরেও মানুষ সেই তাঁকেই ভোট দিয়েছেন।
আচ্ছা বামফ্রন্টের ৩৪ বছর কেন বলা হয়? কেন ৩৫ নয়? এই উত্তরটাও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। মনে প্রশ্নও আসে না। এবং অধিকাংশ লোকের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, তাঁরা বিষয়টা সম্পর্কে একেবারেই অবহিত নন। সেই কারণেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গেও তাঁরা পরিচিত নন।
আঙ্গুর ফল টকের মত শোনালেও, বলতেই হচ্ছে, এখনই বামেরা জিতবেন, বাঙালি এখনও এতোখানি পরিণত হয়নি। যে বাঙালি সারাক্ষণ হিন্দু বনাম মুসলিম তর্কে মেতে থাকে, তৃণমূল বা বিজেপিই তাঁদের ভবিতব্য। বামেদের শাসক হিসেবে পাওয়ার মতো যোগ্যতা বাঙালি এখনও অর্জন করেনি।
একদল বলছে, পরিবর্তন চাই। এই সরকারকে আর নেওয়া যাচ্ছে না। আবার আরেক দল বলছে, আর যাই হোক এই রাজ্যে বিজেপিকে ডেকে আনার কোনও মানে হয় না। রাজ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।