এই দিনটি নিজের ভাষাকে ভালবাসার দিন। পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে, আমার মাতৃভাষা যেমন আমার কাছে প্রিয়, তেমনই অন্যের ভাষাও তার কাছে প্রিয়। আমার ভাষাকে বড় করে দেখাতে গিয়ে আমরা যেন কখনই অন্য ভাষাকে ছোট করে না দেখি।
প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক বিষ্ণুপুরে ভ্রমণ করলেও এরকম একটি পুণ্যস্থান দর্শন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রচারের অভাবেই। তাই পর্যটন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, এ বিষয়ে একটু উদ্যোগী হোন। সেনবাড়িটিকে ঘোষণা করা হোক হেরিটেজ বিল্ডিং রূপে। যেখানে গেলে মায়ের ব্যবহৃত গৃহটিকে দেখার ও শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হবে।
স্বাধীনতা দিবসের কথা সবাই জানি। কিন্তু তার আড়ালে আরও কতকিছু চাপা পড়ে রইল। এই পনেরোই আগস্ট যে আরও অনেককিছু। সবদিকেই আলো ফেললেন ময়ূখ নস্কর।। ভারত হয়তো নব্বই বছর আগেই স্বাধীন...
অন্তরা চৌধুরি বাঁকুড়ার লোকের মুড়ি খাওয়া নিয়ে যে যতই কুৎসা করুক, শুধু মুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করেই বাঁকুড়াতে একটা আস্ত মুড়ি মেলা হয়। এই মেলার বয়স প্রায় দুশো বছর। মাঘ মাসের...
ছৌ নাচের কথা কে না জানেন! কোথায় তৈরি হয় সেই ছৌ–মুখোশ? অযোধ্যার লাগোয়া সেই চড়িদা গ্রাম থেকে ঘুরে এসে লিখলেন সংহিতা বারুই।
পাংচুয়্যাল পাখি অন্তরা চৌধুরি আমার বাবা যখন কোলিয়ারির কোয়াটারে থাকতেন, তখন রোজ দেখতাম সকাল হলেই পাখিকে চাল আর জল দিতে। পাখিগুলোও বোধহয় অপেক্ষা করে থাকত। খেতে দেওয়া মাত্রই তারাও কিচিরমিচির...
এখন ট্যুর অপারেটরদের পাল্লায় পড়ে বাঙালি অনেক দূরে দূরে যেতে শিখেছে। কথায় কথায় কাশ্মীর, রাজস্থান, আন্দামান ছুটছে। কেউ কেউ তো ইউরোপ, আমেরিকা ট্যুর করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ঘরের কাছে এই প্রিয় জায়গাগুলো যেন মানচিত্রের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
অথচ, কয়েক দশক আগেও ছবিটা এমন ছিল না। বাঙালি একটু অবসর পেলেই ছুটত শিমুলতলা, মধুপুর, গিরিডি, তোপচাঁচি, হাজারিবাগ। হাওয়া বদল বা পশ্চিমে যাওয়া বলতে এগুলোকেই বুঝত।
আন্তর্জাতিক সাফল্য বা স্বীকৃতি না এলে বাঙালি ঘরের মানুষকে ঠিক চেনে না। রবীন্দ্রনাথ নোবেল না পেলে তিনি কি এতখানি শ্রদ্ধার পাত্র হতেন? আর দশজন কবির সঙ্গে কি আমরা তাঁকে গুলিয়ে ফেলতাম না! সত্যজিৎ রায় অস্কার না পেলে তিনি কি আমাদের কাছে ‘বিশ্ববরেণ্য’ হয়ে উঠতেন! অর্থাৎ, বিশ্ব যখন চিনিয়ে দেয়, তখন আমরা চিনতে শুরু করি।
বিজয়ার বিষাদ শেষে একটু একটু করে শরৎ চলে যায়। কাশফুল পরের বছর ‘আবার আসব’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোথায় যেন নিমেষে হারিয়ে যায়। শিউলি ফুল টিকে থাকলেও কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এই কার্তিক মাসের শিউলি মাটিতে ঝরে পড়া পছন্দ করে না। বরং ফুরিয়ে যাওয়ার আগে সে গাছের সঙ্গে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। তাকেও টিকে থাকার লড়াই করতে হয়। হেমন্তের শিউলির মধ্যে শরতের সেই প্রাণ চঞ্চলতা থাকে না। কারণ তার বিদায় নেওয়ার সময় আসন্ন।
এই প্রজন্ম হয়ত ‘ভিয়েন’ শব্দটার সঙ্গেই পরিচিত নয়। হয়ত সবজান্তা গুগল হাতড়ে যাবে। শুধু মহানগর নয়, মফস্বল শহর থেকেও হারিয়ে যেতে বসেছে শব্দটা। শোনা যায়, ইদানীং ভিয়েনের কারিগরও নাকি পাওয়া যায় না। যে লোকটা মিঠাই বানাত, তার উত্তসূরী হয়ত চাউমিনের স্টল দিয়েছে বা হয়ত পিঠে জোমাটোর ইয়াব্বড় ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে। বদলে যাওয়া সময়, বদলে যাওয়া খাবারের ভিড়ে সেই ভিয়েন কোথায় যেন হারিয়ে গেল!