হরিশ মুখার্জি
বাংলায় এখন রাজনৈতিক পণ্ডিতের কোনও অভাব নেই। টিভিতে সান্ধ্যকালীন আলোচনা বসছে ঠিকই, চায়ের দোকানে, স্কুলের কমনরুমে, মাছের বাজারেও আলোচনা থেমে নেই। যে যার মতো করে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। কেউ বলেছিলেন, বিজেপি আসছে। কেউ বলেছিলেন, তৃণমূলই থেকে যাবে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বোদ্ধার ছড়াছড়ি। কেউ কেউ আবার বামেদেরও সরকার গড়ে দিচ্ছিলেন।
ভোটের ফল বেরোনোর পরেই কত লোকের সুর বদলে গেল। সবাই বলতে শুরু করেছিলেন, বলেছিলাম না, এবার দুশো পেরিয়ে যাবে! অথচ, ফলাফলের দুদিন আগেও তিনিই বলেছিলেন, ‘এবার বিজেপি যদি একশো কুড়ি হয়ে যায়, তাহলেই তৃণমূল থেকে অনেকে চলে আসবে। বিজেপির সরকার হয়ে যাবে।’ অর্থাৎ, একশো কুড়ি পেরোবে, এমন ভরসাও ছিল না। একশো কুড়িকেই সর্বোচ্চ ধরে নিয়েছিলেন। কেউ কেউ বলেছিলেন, ‘বিজেপি একশোও পেরোবে না।’ তাঁরাও বেমালুম বলে বসছেন, ‘ভেতরে ভেতরে একটা কারেন্ট ছিল। যেটা ঠিক বুঝতে পেরেছিলাম। আমরা তো মানুষের সঙ্গে মিশি। তাই পালসটা বুঝতে পারি।’
অথচ, কয়েকদিন আগে ফেসবুকে ফলাও করে লিখেছিলেন, ‘মিলিয়ে নেবেন, বিজেপি কোনওভাবেই একশো পেরোবে না। সত্তরের নীচেও নেমে যেতে পারে।’ যথারীতি ফল বেরোনোর পর সেই পোস্ট উধাও। এখন তিনি এটা প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন যে, তিনি বলেছিলেন, বিজেপি দুশো পেরিয়ে যাবে। কিন্তু হায়! কিছু প্রমাণ যে নিজের অজান্তেই থেকে যায়! আসলে, তিনি তখন শুধু ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষান্ত থাকেননি। সেই পোস্টের স্ক্রিনশট জনে জনে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে রেখেছিলেন। ফেসবুক পোস্ট না হয় মোছা গেল, কিন্তু পরিচিতদের মোবাইলে সেই স্ক্রিন শট গুলো তো থেকে গেল!
এটা ঘটনা, বিজেপির এত বড় সংখ্যা গরিষ্ঠতা আসতে পারে, অনেকেই ভাবেননি। খোদ বিজেপি সভাপতিও সংখ্যা বলেননি। অমিত শাহ, যিনি আগেরবার কয়েকশোবার ‘দোশো পার’ হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, তিনিও এবার সংখ্যার প্রশ্নে কিছুটা সাবধানীই ছিলেন। দিলীপ ঘোষ যিনি পাঁচ বছর আগে ‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’ বলে বলে প্রায় প্রবাদের স্তরে নিয়ে এসেছিলেন, তিনিও এবার বলেছিলেন, ‘বাংলায় বিজেপির সরকার হচ্ছে।’ অধিকাংশ এগজিট পোলও একশো সত্তর, একশো আশিতেই থেমে গিয়েছিল।
সহজ কথা, হিসেব না মিলতেই পারে। কিন্তু এমন তুমুল ডিগবাজি মারার কী আছে? খোদ বিজেপি সভাপতি যখন ভাবতে পারেননি, আপনিও না হয় পারেননি। এটা মেনে নিতে কুণ্ঠা কীসের? কিন্তু ওই যে, সবজান্তা সাজতেই হবে। আমি মিলিয়ে দিলাম, এটা বোঝাতেই হবে। আরে বাবা, স্ক্রিন শট গুলো তো থেকে গেছে। যিনি চায়ের দোকানে ফলাও করে বলেছিলেন, এখন যতই বয়ান বদলান, যাঁদের সামনে বলেছিলেন, তাঁরা ঠিক মুচকি হাসছেন।
