গোলপাহাড়ের দেশে যা, চা–‌পাহাড়ের দেশে যা

পাহাড়ের ভোর। সে এক অনাবিল আনন্দ। সাতসকালেই একমুখ হাসি নিয়ে হাজির মনোজ তামাং। বললেন, সামনের ওই পাহাড়টায় চলে যান। আজ ওয়েদার খুব ভাল। কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কার দেখা যাবে।

পিছনে পড়ে রইল সেই শালবন, কিরিবুরুর সেই মেঘ

সকালে উঠে হাঁটতে বেরিয়ে পড়া। রাস্তা ধরে অলস পায়ে এগিয়ে যাওয়া। কোথাও বসে থাকা। দূরের পাহাড় দেখা। আবার ফিরে আসা। কোনও তাড়া নেই। কোথাও পৌঁছতে হবে না। এই ‘কোথাও পৌঁছতে না হওয়ার’ আনন্দটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিলাসিতা।

বুদ্ধদেব গুহর বাংলো, চলে গেল অপর্ণা সেনের হাতে

চাইলে নির্জন স্টেশনে বসে থাকতে পারেন। চাইলে জঙ্গলের বুক-চেরা রাস্তা দিযে হেঁটে আসতে পারেন। আর নইলে কয়েক ঘণ্টার জন্য একটা গাড়ি ভাড়া নিয়ে আশপাশের এলাকা ও প্রকৃতি ঘুরে দেখতে পারেন।
হয়ত গিয়ে দেখবেন অন্য কোনও পর্যটক নেই। হয়ত আপনারাই একমাত্র পর্যটক। দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। ভাল জায়গায় অল্প লোকেই যায়।

নিবিঢ় অরণ্যের হাতছানি সুতানে

ওইরকম গভীর জঙ্গলের মাঝখানে এইরকম খাবার! আহা! মনে পড়লে এখনও জিভে জল আসে। সকলে ডায়েটিং ভুলে গেল। বাড়িতে যা খায় তার চেয়ে কিছুটা বেশি পরিমানেই খেয়ে ফেলল। শীতের বেলা। খাওয়া শেষ হল, যখন তখন সূর্য পাটে বসেছে।

এমন বিপর্যয়েও কাদা ছোড়াছুড়ির ইচ্ছে হয়!‌

বিপর্যয় কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উত্তরবঙ্গ। এবারের বিপদ হয়তো কাটানো গেল। কিন্তু আগামী বছর যেন আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, এখন থেকেই সতর্ক থাকা দরকার। পরিবেশবিদদের পরামর্শ নেওয়া হোক। কঠোরভাবে সেই নির্দেশ পালন করা হোক। কোথায় ড্রেজিং দরকার, কোথায় বাঁধ দরকার, কোথায় ক্যানাল কেটে জল অন্য কোনও জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার রূপরেখা তৈরি হোক। যত দ্রুত সম্ভব, সেই পরিকল্পনার রূপায়ণ হোক।

‌এই সবুজের উপত্যকা আমার দেশ

অন্তরা চৌধুরি ভুবন বাদ্যকরের কাঁচাবাদাম গান সমতলকে ছাড়িয়ে যে পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামেও পৌঁছে গেছে, এতটা আশা করিনি। ভুলটা ভাঙল কচিকাঁচাদের কণ্ঠে নেপালি ভার্সেনে সেই গান শুনে। ছয় হাজার ছ’শো ফুট...

জঙ্গলের মাঝে কুঁড়েঘরের হাতছানি

ইচ্ছে হল, একঝলক গ্রাম দেখার। গ্রামে রাত কাটানোর। জঙ্গলের মাঝে গ্রামের আমেজ পেলে মন্দ কী? আবার শহুরে সাচ্ছন্দ্যও আছে। ঘুরে আসতেই পারেন জয়পুরের বনলতা রিসর্টে।

মেঘ, পাহাড়, নদী, অরণ্য–‌কী নেই উত্তরবঙ্গে?‌

কোথাও উত্তাল নদী। কোথাও মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে পাহাড়ের বুকে। কোথাও গা ছমছম করা জঙ্গল। প্রকৃতি দু’‌হাত ভরে সাজিয়ে দিয়েছে উত্তরবঙ্গকে। আমাদের কি কোনও দায়িত্ব নেই?‌ আমরা কি আরও উত্তরবঙ্গকে আরও ভালভাবে তুলে ধরতে পারি না?‌ লিখেছেন তিস্তা ঘোষাল।

বাঙালি আর পশ্চিমে যায় না

এখন ট্যুর অপারেটরদের পাল্লায় পড়ে বাঙালি অনেক দূরে দূরে যেতে শিখেছে। কথায় কথায় কাশ্মীর, রাজস্থান, আন্দামান ছুটছে। কেউ কেউ তো ইউরোপ, আমেরিকা ট্যুর করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ঘরের কাছে এই প্রিয় জায়গাগুলো যেন মানচিত্রের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
অথচ, কয়েক দশক আগেও ছবিটা এমন ছিল না। বাঙালি একটু অবসর পেলেই ছুটত শিমুলতলা, মধুপুর, গিরিডি, তোপচাঁচি, হাজারিবাগ। হাওয়া বদল বা পশ্চিমে যাওয়া বলতে এগুলোকেই বুঝত।