খেলা যেমন মাঠের ভিতর হয়, তেমনই হয় মাঠের বাইরেও। সেই খেলায় সত্যিই যেন চ্যাম্পিয়ন ছিলেন টুটু বসু। আটের দশকে একটা সময় ছিল, যখন মোহনবাগান একের পর এক ম্যাচে হেরেই চলেছে। একাই ফারাক গড়ে দিচ্ছিলেন চিমা ওকেরি।
অথচ, মোহনবাগানের ধনুকভাঙা পণ, বিদেশি খেলানো যাবে না। আমরা কি এভাবেই হেরে চলব? পাড়ায় কত আওয়াজ সহ্য করতে হয়েছে। আমাদের সেই যন্ত্রণা অনুভব করেছিলেন টুটু বসু। ঠিক করলেন, যেভাবেই হোক, ইস্টবেঙ্গলকে টেক্কা দিতে হবে। তার জন্য ছিনিয়ে আনতে হবে চিমা ওকেরিকে। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। সেবার চিমা ওকেরিকে তুলে নিয়েছিল মোহনবাগান। একদিকে মোহনবাগানে চিমার আগমন, অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল থেকে চিমার প্রস্থান। এ যেন জোড়া ধাক্কা ইস্টবেঙ্গলের কাছে।
টুটু বাবু বুঝেছিলেন, ভাল দল না গড়লে মাঠেও ভাল ফল পাওয়া যাবে না। ট্রফি জিততে গেলে খেলোয়াড়দের যেমন ভূমিকা থাকে, তেমনই কর্তাদেরও বড় ভূমিকা থাকে। তখনকার মোহনবাগানে স্পনসর ছিল না। কার্যত নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়েই দল গড়তেন এই মানুষটি। মোহনবাগানের জন্য কত টাকা যে খরচ করেছেন, তার কোনও হিসেব নেই। যখনই বাগান সংকটে, তখনই তিনি যেন ত্রাতার ভূমিকায়। বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন শতাব্দী প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানকে। সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়। বয়স হয়েছিল, দীর্ঘদিন অসুস্থও ছিলেন। কিন্তু তিন দশকের বেশি সময় ধরে যে ছাপ রেখে গেলেন, তা সত্যিই ভোলার নয়।
