এক লেখক অন্য লেখকের লেখা পড়ছে কই?
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এসেছিলেন। সবাই গান গাওয়ার আবদার করল। হেমন্তবাবু বললেন, গান করতে তো আসিনি। এসেছি গজেন্দ্রবাবুর সঙ্গে দেখা করতে। সবাই মিলে কত আড্ডা হচ্ছে, এই তো ভাল। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় তো প্রতিবারই আসতেন। তিনি থাকলে যা হয় ! একাই আসর জমিয়ে দিতেন।
এক মঞ্চে লতা–আশা! জীবনের অন্যতম সেরা সন্ধ্যা
আশাজি যেন মহাভারতের কর্ণ
আশাজিকে সবসময় মহাভারতের কর্ণের মতো মনে হয়। ভাল ভাল গানগুলো কিন্তু আশাজিকে দেওয়া হয়নি। ওই গানগুলো গাওয়া যে কত কঠিন, নিজে গান গাই বলেই কিছুটা বুঝতে পারি। ওইসব গানে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা একমাত্র আশাজির পক্ষেই সম্ভব ছিল। অন্য কেউ গাইলে গানগুলো কোথায় হারিয়ে যেত! কেউ জানতেও পারত না।
দেওয়াল লেখা ও একটি মজার কাহিনি
তখন সত্যিই এত কিছু বুঝতাম না। কত দেওয়ালে এমন প্রতীক এঁকেছি। সেই হেড স্যার আজ আর বেঁচে নেই। সত্যিই, তখন পরিবেশটাই অন্যরকম ছিল। ছাত্র তাঁর রঙ করা দেওয়ালে অন্য দলের প্রতীক আঁকছে দেখেও তিনি বাধা দেননি। বরং, মুগ্ধ হয়ে এই ছেলেমানুষি দেখেছেন। এমনকী পরেও সেই প্রতীক মুছে ফেলেননি। সেই মানুষগুলোই আর হারিয়ে গেছেন। তাই সেই সহিষ্ণুতাও আর খুঁজে পাই না। সেদিনের রাজনীতি আর এদিনের রাজনীতি— ফারাক অনেকটাই।
ডিম রবে নিষ্ফলের, হতাশের দলে
অথচ সেও তো আরও পাঁচজনের মত নতুন জীবন পেতে পারত। এই পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ অনুভব করতে পারত। বাঁচার অধিকার তো তারও আছে। আমরা যেন ধরেই নিয়েছি আমাদের রসনা তৃপ্ত করাতেই যেন ডিমের জীবনের একমাত্র সার্থকতা। অথচ আমরা যখন অম্লান বদনে ডিম খাই, তখন কি একবারও ভাবি কত মুরগির কোল খালি হয়ে গেল। প্লেটের ওপর সাজানো ডিমটাই হয়তো একটা ছোট্ট ফুটফুটে বাচ্চা হতে পারত। মায়ের সঙ্গে ঘুরঘুর করতে পারত। ভোরবেলায় ‘কোঁকর কোঁক’ করে অন্যদের ঘুম ভাঙাতে পারত। ডিমের এই নিঃসার্থ আত্মত্যাগের ইতিহাস কি মানব জাতি মনে রাখবে? নাকি ‘ডিম রবে চিরকাল হতাশের নিস্ফলের দলে?’
আস্ত একটা মুড়ির মেলা বসে নদীর ধারে
শুধু বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় নয়; বর্ধমানের পানাগড়ের কাঁকসা গ্রামেও পৌষ সংক্রান্তির দিনও এই মুড়ি মেলা হয়। কাজেই মুড়ি খেলে স্ট্যাটাস বাড়ে বৈ কমে না। তাই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, বীরভূমের লোকেরা জল দিয়ে মেখে মুড়ি খায় বলে নাখ সিঁটকোবেন না। বরং তাদের মতো করে মুড়ি খেয়ে আপনিও মুড়ি প্রেমী হয়ে উঠুন।
জ্যোতিবাবুর দলের লোকেরা যদি তাঁর মতো একটু সহজ ভাষায় বলতে পারতেন!
হ্যাঁ, এই ছিল ভাষণের নির্যাস। বাকিরা ইংরাজিতে বললেও জ্যোতিবাবু সেদিন পরিষ্কার বাংলাতেই বলেছিলেন। বাকিরা চায়ের জগতের দিকপাল। চা সম্পর্কে তাঁদের বিস্তর জ্ঞান উগরে দিচ্ছিলেন। জ্যোতিবাবুও চাইলে সেক্রেটারিকে দিয়ে চা নিয়ে একটা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ তৈরি করে আনতে পারতেন। চায়ের বাণিজ্য, চা শিল্পের সম্ভাবনা, সঙ্কট, সরকারি পরিকল্পনা–এসব নিয়ে নিজের ঢাক পেটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই রাস্তাতেই গেলেন না। একেবারে সহজ–সরল, সাদামাটা ভাষায় নিজের অনুভূতি তুলে ধরলেন। বলাই বাহুল্য, তাঁর কাছে সবাই সেদিন ম্লান। শুধুমাত্র সরলতা এবং অকপট স্বীকারোক্তির জন্যই তিনি বাকিদের থেকে আলাদা। তাঁর দলের আর কাউকে এত সহজ ভাষায় কথা বলতে শুনিনি।
কবিতাগুলো বেঁচে থাক গান হয়ে
মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়, আবার রাগও হয়। বাংলা ছবি আপনাকে সেভাবে ব্যবহারই করতে পারল না। ‘সেদিন চৈত্রমাস’ ছবির কথা মনে পড়ছে। আপনার কণ্ঠে অসাধারণ একটা গান দিয়েছিলেন সুমন—‘সূর্য তাকেই দেখতে চায়, আকাশ তাকেই ডাক পাঠায়।’ গানটি যেন আপনার জন্যই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে আর সেভাবে ব্যবহার করা হল না কেন? কারা সঙ্গীত পরিচালনা করেন, তাঁরা কী চান, জানতে খুব ইচ্ছে করে।
মন জুড়ে তখন শুধুই রঞ্জিত মল্লিক
আমার মনে প্রথম দাগ কাটা ছবি শত্রু। তখন কে অঞ্জন চৌধুরি, চিনতাম না। আমার কাছে শত্রু মানে রঞ্জিত মল্লিক। এক সৎ ও সাহসী পুলিশ অফিসার। সেই ছবিতে চিরঞ্জিৎ ছিলেন, প্রসেনজিৎও ছিলেন। কিন্তু আমার মনজুড়ে একজনই রঞ্জিত মল্লিক। সেই ছবিটা দেখেই পুলিশকে সম্মান করতে শিখেছিলাম। দৈনন্দিন নানা ঘটনায় পুলিশ সম্পর্কে ধারণা খারাপ হয়। তবু এখনও যে বিশ্বাসটা তলিয়ে যায়নি, তার একটা বড় কারণ শত্রু।
