বাইচুং, ওকোরোদের ছাপিয়ে নায়ক কিনা জুনিয়র! সত্যিই যেন রূপকথার মতো। কিন্তু এই জুনিয়রকে ধরে রাখা যায়নি। নিঃশব্দে তাঁকে তুলে নিয়েছিল ডেম্পো। কী করে ভুলব ফেডারেশন কাপ ফাইনালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা! মাঠেই প্রাণ হারিয়েছিলেন আমাদের প্রিয় জুনিয়র। তাঁর শেষ টাচটাও গোলের ঠিকানা চিনে নিতে ভুল করেনি।
সবাই মগ্ন মোবাইলে। সবাই মগ্ন মোবাইলে। ট্রেনে ওঠার সাথে সাথেই পকেট থেকে বা ব্যাগ থেকে বেরিয়ে পড়ে ওই যন্ত্রখানা। সিটে বসার আগেই কানে ইয়ার ফোন গোঁজা হয়ে গেল। এবার তিনি শুনবেন। কী শুনবেন, কে জানে! কে কেউ আবার ইয়ার ফোনের ধার ধারেন না। তারস্বরে রিলস চালিয়ে যান। পাশের সহযাত্রীর অসুবিধা হচ্ছে কিনা, ভাবতে বয়েই গেছে।
এবারের এই দুরন্ত জয়ের পর একটাই প্রত্যাশা, এবার দলগঠনে যেন গড়িমসি না হয়। কোচ অস্কার ব্রুজোন থাকছেন কিনা, দ্রুত তার নিষ্পত্তি হোক। এখন থেকেই দলগঠনে নেমে পড়া হোক। শুধু এজেন্ট নির্ভর দলগঠন নয়। কর্তাদের পাশাপাশি প্রাক্তন ফুটবলারদেরও মতামত নেওয়া হোক। আরও বেশি করে বাঙালি প্রতিভা তুলে আনা হোক।
বাংলার রাজনীতিতে পালাবদল। একেবারে ঝোড়ো হাওয়ার মতোই সরকারে এল বিজেপি। কাজ শুরুও ঝড়ের গতিতেই। সেই কাজের অভিমুখ কী? কতটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে আমজনতার মধ্যে? তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কোথাও কি ফাঁক থেকে যাচ্ছে? কেন এভাবে তাসের ঘরের মতে ভেঙে পড়ছে তৃণমূল? বামেদের এমন ফলই বা কেন? তাই নিয়েই বেঙ্গল টাইমসের ই–ম্যাগাজিন।
বেঙ্গল টাইমস আগের সরকারের সময়ও স্তাবকতার রাস্তায় হাঁটেনি। তার সীমিত কণ্ঠ নিয়ে নানা বিষয়ে সোচ্চার থেকেছে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ভূমিকা তার মতো করে পালন করার চেষ্টা করেছে। বেঙ্গল টাইমসের অন্তত একশোটি ই ম্যাগাজিন তার সাক্ষী। সেগুলো এখনও আর্কাইভে আছে।
হতেই পারেন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু বিধানসভার কাছে অভিষেক ব্যানার্জি কে? তাঁর চিঠির কী মূল্য আছে? অভিষেক তিনবারের সাংসদ। এখন আবার সংসদীয় দলনেতা। তারপরেও এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকু নেই!
হানিমুনের আবহেও প্রশ্নগুলো থাকুক। এই অতি উৎসাহ কিন্তু আগামীদেনের অশনি সংকেত। উৎসবের আবহে আত্মসমীক্ষাটুকু যেন হারিয়ে না যায়।
ডোমকলের জয়টা অবশ্যই বামেদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে। এই জয় ফ্লুকে এসেছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আছে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা। সেইসঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য মুখে ভরসা রাখা। মুস্তাফিজুর রহমান রানা ফেসবুক নির্ভর রাজনীতি করেননি। দৈনন্দিন সংযোগকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে বামেরা ক্ষতায় আসবে না, এই সত্যিটা জানার পরেও মানুষ সেই তাঁকেই ভোট দিয়েছেন।
টুটু বসু বললেই সবার আগে মনে পড়ে মোহনবাগানের কথা। তিনি নিজেও নিজেকে মোহনবাগানী ভাবতে ও বলতে ভালবাসতেন। তাই বাকি সব পরিচিতিকে তুচ্ছ করে মোহনবাগানকেই আঁকড়ে ধরেছেন।
ষাট পেরোনো নস্টালজিয়া নিয়ে আবার খুঁজতে বেরোবো। ফিরে আসুক সেই ডাবল ডেকার। আবার সেই উদ্দেশ্যহীনভাবে না হয় বাসে উঠে পড়ব। ষাটোর্ধ্ব চোখ দিয়ে আবার খুঁজব আমার হারানো কলকাতাকে।