সৃজন শীল
আচ্ছা, এত এত দেশ থাকতে বাঙালি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার ভক্ত হল কেন? বাংলার পাড়ায় পাড়ায় এই দুই দেশের পতাকা কেন? নিজের দেশ বিশ্বকাপের ত্রিসীমানায় নেই, ভিন মহাদেশের দুই দেশ নিয়ে এত মাতামাতি কেন? সমর্থনের জন্য দেশ কি কম পড়িয়াছে! ইওরোপের এত এত দেশ ছিল। এশিয়ারও বেশ কিছু দেশ বিশ্বকাপে খেলে। তবু খামোখা ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা কেন?
শুধু বাঙালি বলছি কেন? সারা বিশ্বেই তো ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা অনুরাগীর ছড়াছড়ি। এমনকী যে দেশগুলো খেলছে, তাঁরা নিজের দেশের খেলার সময় নিজের দেশকে সমর্থন করে ঠিকই, কিন্তু নিজের দেশ ছিটকে গেলে তারাও তো ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনায় ভাগ হয়ে যায়।
আসল কথা হল, শিল্প, ঘরানা। এই দুই দেশের খেলায় এমন কিছু আমরা প্রত্যাশা করি, যে প্রত্যাশা আমাদের রাত জাগিয়ে রাখে। যে প্রত্যাশা আমাদের কাকভোরে তুলে দেয়। আর্জেন্টিনা যখন পিছিয়ে পড়ে, মনে হয়, একজন মেসি আছেন। তিনি শেষ পাঁচ মিনিটে ঠিক খেলা ঘুরিয়ে দেবেন। তাই দিয়েওছেন। দুরন্ত কোনও পাস, দুরন্ত কোনও ফ্রিকিক নিমেশে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু ফাইনালে এ কোন আর্জেন্টিনাকে দেখলাম? লিওনেল স্কালোনি নিঃসন্দেহে বড় মাপের কোচ। তাঁর নানা কৌশল ও স্ট্র্যাটেজি রয়েছে। কিন্তু এ কেমন কৌশল যেখানে নিজেদের স্বাভাবিক ঘরানাকে ছুঁড়ে ফেলে নেতিবাচক এক ঘরানাকে আঁকড়ে ধরতে হয়। অন্যান্য ইউরোপীয় দলের মতো আর্জেন্টিনা যে বিপক্ষকে থামাতে বেশি ব্যস্ত রইল। শুরু থেকেই মারামারি, ধাক্কাধাক্কির রাস্তায় চলে গেল। অকারণে ফাউল করে ম্যাচকে বিরক্তিকর জায়গায় নিয়ে গেল। এই আর্জেন্টিনাকে চিনি না, চিনতেও চাই না। নিজেদের স্বাভাবিক খেলা তুলে ধরার বদলে ধাক্কাধাক্কি করে অন্যের খেলা নষ্টের চেষ্টাতেই বেশি সময় ও মনোযোগ দিল। নব্বই মিনিটে একটাও গোলমুখী শট নেই, ভাবা যায়! এমনকী একশো কুড়ি মিনিটেই বা কটা বল বিপক্ষের গোলপিকাপের হাতে পৌঁছেছে! মেসি কার্যত দাঁড়িয়ে থেকেছেন। তাঁর দিকে বল বাড়ানোর লোক নেই। কারণ, সবাই নীচে নেমে ধাক্কাধাক্কিতে ব্যস্ত।
চিরকাল দেখে এসেছি, আর্জেন্টিনাকে থামাতে অন্যরা ফাউল করছে। এবার দেখলাম, অন্যের খেলা ধ্বংস করতে আর্জেন্টিনা ফাউল করতে শুরু করেছে। সারাক্ষণ নীতে নেমে অন্য দলকে আটকাতে ব্যস্ত থাকছে। তাও আবার ফাইনালে।
কথায় আছে, স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়, পরোধর্ম ভয়াবহ। লিওনেল স্কালোনি যদি এই সার কথাটা বুঝতেন! আর্জেন্টিনার কাছ থেকে শিল্পই দেখতে চাই, গুন্ডামি নয়। তাই এই আর্জেন্টিনা ট্রফি না পাওয়ায় সত্যিই কোনও দুঃখ নেই।
