সেই সময়ও নেই। পুরনো দূরদর্শনের সেই পর্দাও আর নেই। সন্ধ্যার নির্দিষ্ট সময়ে টিভির সামনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসার সেই অভ্যাসও আজ নিছকই অতীত। কিন্তু কোনও কোনও দৃশ্যের মতো কিছু স্মৃতি থেকে যায়। পুরনো কোনও গল্পের চরিত্র হঠাৎ মনে পড়ে যায়। মনে হয়, কোথাও যেন রাজা সেনের ক্যামেরা এখনও চলছে।
একই পরিবারে হয়তো বড় বউয়ের হয়নি, কিন্তু ছোট বউয়ের হয়েছে। এই বাড়িতে হয়নি, পাশের বাড়িতে হয়েছে। এর ফলে, একটা পারস্পরিক ঈর্ষাও তৈরি হচ্ছে। দুই গৃহবধূর মধ্যে একটা চাপা লড়াই তৈরি হয়ে যাচ্ছে। সরকার পক্ষ হয়তো যুক্তি দেখাবে, এত টাকা নেই। যুক্তি হিসেবে ভাল। কিন্তু প্রশ্ন উঠতেই পারে, টাকা যে নেই, সেটা ভোটের আগে জানা ছিল না?
বন্ধুত্ব কতখানি গভীর হলে আর সরবোধ কত প্রখর হলে এমন খুনসুটির চিঠি লেখা যায়। এই ছোট ছোট খুনসুটিগুলোই বোধ হয় বন্ধু্ত্বকে প্রাণবন্ত রেখেছিল। আবার তাঁর নিজের হৃদয়ের একূল–ওকুল দুকূল যখন ভেসে যাচ্ছে প্রেমের প্লাবনে, তখন সেই প্রতিবাদের কবিই যেন বেশ লাজুক প্রেমিক। তিনি ‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’। কিন্তু সাহস করে উঠতে পারছেন না। হারিয়ে যাচ্ছে কথার স্রোত।
সিবিআই কর্তাদের বরং খবরের কাগজে কয়েক মাসের জন্য ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হোক। কীভাবে দ্রুত কাজ করতে হয়, ভাল করে শেখানো হোক।
বিধানসভার সবথেকে মূল্যবান কমিটির চেয়ারম্যানের পদ আবার দলবদলুদের জন্যই। সরকার বদল হল। কিন্তু দলবদলু আর অযোগ্য লোকেদের মাথায় বসানোর প্রথা বন্ধ হল না। বহাল তবিয়তেই চলছে। কানাইয়ালালের প্রতি নয়, বিধানসভার প্রতিই বড় করুণা হচ্ছে।
তিনি এখনও বিতর্কিত, এখনও তীক্ষ্ণ, এখনও বেপরোয়া। কিন্তু একটা জিনিস তিনি প্রমাণ করেছেন—সবাই যখন নিরাপদ দিক খোঁজে, তখনও কেউ কেউ নিজের পুরনো ঘরটাতেই দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। রাজনীতিতে আনুগত্যের মূল্য নিয়ে যত প্রশ্নই থাক, এই দৃশ্যটি অন্তত মনে রাখার মতো। কুণালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন তাই হয়তো তাঁর মধ্যে নয়। পরিবর্তনটা ঘটেছে তাঁকে দেখার চোখে।
বিজেপিও আপাতত এই ‘পর্যটকদের’ সবাইকে নিজের ঘরে তুলে নিতে চাইছে না। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জুন মাসেই বলেছিলেন, তৃণমূলের নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ; ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেওয়া হবে না। ’ কিন্তু কতদিন এই দরজা বন্ধ থাকবে! যে কোনওদিন সেই আলিবাবা চল্লিশ চোরের মতো শোনা যাবে, ‘খুল যা সিম সিম’।
কুণাল দাশগুপ্ত সেই কুস্তি আজও চলেছে । সাতের দশকের মাঝমাঝি সময় থেকে কেন্দ্রে বহু ধরনের সরকার এসেছে । জনতা, কংগ্রেস ,বি জে পি , হরেক কিসিমের । রাজনীতি , অর্থনীতি...
প্রশ্নগুলো সহজ হলেও অনুচ্চারিতই থেকে যায়। কারণ, প্রশ্ন করলেই জুটে যেত দেশদ্রোহীর তকমা। বুঝিয়ে দেওয়া হত, শাসকের উত্তর দেওয়ার কোনও দায় নেই। বরং সে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। পাল্টা তকমা লাগিয়ে দেয়।
কথায় আছে, স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়, পরোধর্ম ভয়াবহ। লিওনেল স্কালোনি যদি এই সার কথাটা বুঝতেন! আর্জেন্টিনার কাছ থেকে শিল্পই দেখতে চাই, গুন্ডামি নয়। তাই এই আর্জেন্টিনা ট্রফি না পাওয়ায় সত্যিই কোনও দুঃখ নেই।