অনেকে বলেন, মেসি নাকি রূপকথার নায়ক। যাঁরা বলেন, হয়তো আবেগ থেকেই বলেন। তাঁদের সেই আবেগকে অসম্মান করার কোনও ইচ্ছেই নেই। সত্যিই তো, মাঠের মধ্যে তিনি যে ম্যাজিক দেখান, তাঁকে রূপকথা বলাই যায়।
কিন্তু আমার কাছে মেসি মানে রক্ত মাংসের এক মানুষ। যিনি ফাইনালে উঠেও হেরে যান। যিনি শিশুর মতো কাঁদেন। যিনি কষ্ট করে কান্না আড়াল করেন। দিনের শেষে ফিরে যান সুখী গৃহকোণে। যেখানে অপেক্ষা করছেন তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান।
তারকাদের জীবনে নাকি নারীদের ছড়াছড়ি। কত কেচ্ছা, কত মুখরোচক গল্প শোনা যায়। কিন্তু গত দুই দশকে মেসিকে নিয়ে তেমন কোনও মুচমুচে কাহিনি তৈরি হল না। ঘুরেফিরে সেই একটিই নাম। এই মেসি কি আমাদের প্রেরণা হতে পারেন না?
আমরা কত অল্পেই হাল ছেড়ে দিই। ধরে নিই, এটা আর হল না। কিন্তু মেসিকে দেখুন। আশি মিনিট পর্যন্ত দু’গোলে পিছিয়ে। তারপরেও কী ঠান্ডা মাথায় পাস বাড়াচ্ছেন। তারপরেও ম্যাচের রঙ বদলে দিচ্ছেন। অর্থাৎ, মাথা ঠান্ডা রাখলে, শান্ত থাকলে, লক্ষ্য স্থির থাকলে, প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো যায়। আমরা নাইবা খেললাম বিশ্বকাপ। আমাদের জীবনে কি এই শিক্ষা প্রয়োগ করতে পারি না?
এতদিন ধরে মেসিকে দেখে আসছি। কোনও প্রাক্তন খেলোয়াড়কে অসম্মান করতে দেখিনি। বিপক্ষ বা সতীর্থদের সঙ্গেও কত সহজভাবে মেশেন। তিনি যে এত বড় মাপের তারকা, তা বুঝতেও দেন না। অথচ, কত অল্পেই অহঙ্কারে মাটিতে আমাদের পা পড়ে না। অন্যকে যথাযোগ্য সম্মান দিলে নিজের সম্মান কমে যায় না, এই সহজ কথাটা মেসির মতো এত সহজ করে আর কে বুঝিয়েছেন?
তাই মেসি শুধু ফুটবলার নন, তার থেকেও অনেক বড় কিছু। তাঁর জীবনের টুকটো টুকরো ঘটনাগুলো আমাদের নতুন করে আলো দেখাতে পারে। সেখান থেকে আমরা যদি একটু শিখতে পারতাম!
