বাংলাদেশ নেই, দীর্ঘশ্বাস আছে

নাম কে ওয়াস্তে কয়েকটা লোকের ফেসবুক পোস্ট দেখে আমরা কী অবলীলায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলাম যে, বাংলাদেশের লোকেরা ভারতকে সহ্য করতে পারে না। একশ্রেণির বিকৃত মনের উন্মাদ সব দেশেই থাকে। তাঁদের সেই হুঙ্কারকে আমরা সেই দেশের আমজনতার কণ্ঠস্বর হিসেবে ধরে নিচ্ছি। এ যে আমাদের কতবড় অজ্ঞতা, তা আমরা বুঝতেও পারছি না।

কবিতাগুলো বেঁচে থাক গান হয়ে

মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়, আবার রাগও হয়। বাংলা ছবি আপনাকে সেভাবে ব্যবহারই করতে পারল না। ‘সেদিন চৈত্রমাস’ ছবির কথা মনে পড়ছে। আপনার কণ্ঠে অসাধারণ একটা গান দিয়েছিলেন সুমন—‘সূর্য তাকেই দেখতে চায়, আকাশ তাকেই ডাক পাঠায়।’ গানটি যেন আপনার জন্যই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে আর সেভাবে ব্যবহার করা হল না কেন? কারা সঙ্গীত পরিচালনা করেন, তাঁরা কী চান, জানতে খুব ইচ্ছে করে।

এক ঘণ্টায় বিরিয়ানি আসে, বই তো আসে না

উত্তম জানা কয়েক বছর আগেও যা ভাবা যেত না, আজ তা কত সহজে আয়ত্বে এসে গেছে। কোনও একটা অ্যাপে আপনি খাবারের অর্ডার দিলেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে তা আপনার দরজায় হাজির।...

সুরের ‘‌সলিলে’‌ প্রতিদিনই অবগাহন করি

বাঙালির কাছে প্রেমের গান মানেই একঝলক শীতল বাতাসের মতো, যে হাওয়াতে ফুল গাছে গাছে ফুল ফোটে। আর প্রতিবাদের গানের প্রকাশ হল ঝোড়ো হাওয়ার মতো, যা যে কোনও অন্যায়, অবিচার বা অনাচারকে ঝড়ের মতো উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু প্রেমের গান যদি ঝোড়ো বাতাসের মতো হয়? প্রেমের গানের মধ্যেও যদি ঝোড়ো হাওয়ার মতো একটা শিহরণ থাকে? তখন তা মনে হয় কথা, সুর এবং নিবেদনে অনন্য হয়ে ওঠে। এই অনন্যতার নামই সলিল চৌধুরি।জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে কলম ধরলেন সত্রাজিৎ চ্যাটার্জি।

এবার হোক জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসব

ঘটা করে হয়ে গেল চলচ্চিত্র উৎসব। এই চলচ্চিত্র উৎসহ হয়তো বইমেলার মতো এত মানুষের মিলনক্ষেত্র নয়, তবু শিক্ষিত, রুচিশীল বাঙালির কাছে এর আলাদা একটা আবেদন রয়েছে। এখন দেশ–‌বিদেশের ছবি মোবাইলেই...

হারিয়ে গেল হলুদ ট্যাক্সি, হারিয়ে গেলেন সর্দারজিরাও

কলকাতা থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক রাস্তায় ট্রাম দেখা যায় না। শীত এলে কাবুলিওয়ালা দেখা যায় না। রাস্তার ধারে খটাখট টাইপ রাইটার দেখা যায় না। সেই সর্দারজি ড্রাইভারদেরও আর...

সিনেমার আনন্দযজ্ঞে সবার নিমন্ত্রণ

মলয় সেন বাঙালির জীবনে নাকি বারো মাসে তেরো পার্বণ। যখন এমন প্রবাদ তৈরি হয়েছিল, তখন মূলত ধর্মীয় উৎসবকেই মাথায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু সময় এগিয়েছে। উৎসবের আঙিনাও বিস্তৃত হয়েছে। ধর্মীয় বা...

প্রচারে পিছিয়ে, তবে পুজোর সেরা ছবি বানালেন কিন্তু অনীক দত্তই

এখানে তারকার ভিড় নেই, আইটেম সংয়ের বাহুল্য নেই, অকারণ থ্রিলার নেই। যা আছে, তা ধাঁধা। মগজাস্ত্রে শান। রহস্যের ফাঁকেই ইতিহাসের সরণি বেয়ে একটু পায়চারি। প্রতিটি দৃশ্যই যেন যত্ন নিয়ে বানানো। সবমিলিয়ে মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতোই।

রাশি–‌গণের থেকে পাত্রের রাজনৈতিক বিশ্বাস জানাটা জরুরি

রাশি–‌গণ–‌গোত্র মেলানোর চেয়ে রাজনৈতিক বিশ্বাসের দিকটা মেলাও খুব জরুরি। রুচির মিলটাও জরুরি। টুকরো টুকরো অমিল থাকতে পারে। কিন্তু মানিয়ে নেওয়ার সহিষ্ণুতাটুকুও থাকুক। দীপ্তানুজ জানতেন, অনেকে কটাক্ষ করবেন। তবু তিনি এগিয়ে এসেছেন। তাঁকে কটাক্ষ নয়। আসুন, তাঁর এই বিজ্ঞাপন নিয়ে আমরাও নতুন করে ভাবি। আসুন, একটা সুস্থ বিতর্কের পরিসর তৈরি করি।

ধনতেরাস কোনওকালেই বাঙালির উৎসব ছিল না

টিভিতে সিরিয়ান মানেই যেন অলঙ্কারের বিজ্ঞাপন। রান্নাঘরে রান্না করছে, গা ভর্তি গয়না। ড্রয়িংরুমে কুটকচালি করছে। সেখানে গয়না। পাঁচ মহিলা দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছে, পাঁচজনের গায়েই দামী শাড়ি, পাঁচজনের পরণেই যেন বিয়েবাড়ির সাজ। সে ভোরের দৃশ্য হোক বা রাতের। সিনেমাতেও কায়দা করে পিসি চন্দ্র, অঞ্জলি জুয়েলার্স, বলরাম বসাক— এসব ঢুকে পড়ছে। কখনও দোকানের ছবিতে, কখনও নায়ক–‌নায়িকার সংলাপে। এভাবে বাঙালির অন্দরমহল না জেনে, না বুঝে গিলছে অলঙ্কারকে।