কেকেআই কখনই আমার দল নয়

যাই যাই বসন্তের আবহে হাজির আইপিএল। দু’‌মাস ধরে সন্ধেবেলায় নিয়ম করে ক্রিকেটের মহাযুদ্ধ। শুধু কি ক্রিকেটের মহাযুদ্ধ। রিমোটের কন্ট্রোল কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও কি ঠান্ডা লড়াই হবে না!‌ বাড়ির বউ চাইছেন সিরিয়াল দেখতে। কিন্তু কর্তা বা ছেলের পছন্দ আইপিএল। এদিকে, বাড়িতে একটাই টিভি। তাই সন্ধেয় সিরিয়াল না আইপিএল?‌

কয়েক বছর আগেও সন্ধেবেলায় এটা নিয়েই চলত নানা টানাপোড়েন। কিন্তু এখন সবার হাতেই স্মার্ট ফোন। কেউ আর টিভি নির্ভর নয়। মা যদি টিভিতে সিরিয়াল দেখতেও চায়, ছেলে কোনও না কোনও অ্যাপ ইনস্টল করে ঠিক আইপিএল দেখে নেবে। বলা যায়, একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।

আমি বাঙালি। যুক্তি অনুযায়ী, আমার কলকাতা নাইট রাইডার্সেরই সমর্থক হওয়ার কথা। কিন্তু কেন জানি না, নাইট রাইডার্সের প্রতি সেই আকর্ষণ কখনই অনুভব করি না। একমাত্র সৌরভ গাঙ্গুলি যতদিন অধিনায়ক ছিলেন, তখন কিছুটা হলেও নাইটের সমর্থক ছিলাম। তারপর থেকে নাইট জিতল না হারল, তা বিশেষ রেখাপাত করে না। নাইট হারলে রাগও হয় না, দুঃখও হয় না। বা জিতলেও বিরাট কোনও আনন্দ হয় না। বরং, চেন্নাই জিতলে অনেক বেশি আনন্দ পাই। এমনকী গতবার মনে প্রাণে চেয়েছিলাম, এবার বিরাট কোহলির দল চ্যাম্পিয়ন হোক। ১৮ বছর ধরে একই দলের হয়ে খেলছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকার মুকুটে কোনও আইপিএল ট্রফি থাকবে না?‌ তাই আগেরবার বেঙ্গালুরু চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বেশ ভালই লেগেছিল।

মাঝে মাঝেই ভাবি, বাংলাকে এত ভালবাসি, কলকাতাকে এত ভালবাসি। তাহলে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলে সেই আনন্দ হয় না কেন?‌ কলকাতা হারলেই বা দুঃখ হয় না কেন?‌ আসলে, কলকাতার এই দলটাকে ঘিরে কখনই সেই একাত্মতা তৈরি হয়নি। আমার মতো অনেকেই দেখেছি কেকেআর সম্পর্কে নিষ্পৃহ, উদাসীন। কেন আমাদের মধ্যে এই উদাসীনতা তৈরি হল, নাইট ম্যানেজমেন্ট ভেবে দেখুন।

Previous post বেঙ্গল টাইমস। ই–‌ম্যাগাজিন। ১ এপ্রিল সংখ্যা।।
Next post আইপিএল যতটা তরুণদের, ততটাই তারকাদেরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *