ফুটবল সম্রাট এলেন ঠিকই। কিন্তু তখনও সংশয় দূর হল না। কারণ, পরদিন বৃষ্টি হয়েছে। ইডেনের মাঠ ভিজে। এই ভারী মাঠে চোট পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আদৌ মাঠে নামবেন তো? তিনি যেন মাঠে না নামেন, ইন্সিওরেন্স কোম্পানির নিষেধাজ্ঞাও ছিল। কিন্তু পেলে সাফ জানিয়ে দিলেন, এত এত মানুষ আমাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, এত মানুষ মাঠে আসবেন, আমি খেলব।
তাজমহল একবারই বানানো হয়। ‘বনলতা সেন’ বা ‘জাতিস্মর’ একবারই লেখা হয়। ‘গীতাঞ্জলি’ও একবারই লেখা হয়। ‘শোলে’ একবারই হয়। তাই বলে কি এগুলো মিথ্যে? মহৎ সৃষ্টি বারবার হয় না। কেন সেদিন রোনাল্ডিনহোর এই গোলের সঙ্গে বনলতা সেন, গীতাঞ্জলি–এসবের তুলনা টেনেছিলাম? এভাবেই খেলার সঙ্গে মিশে যায় কবিতা। ভেঙে যায় দেশ–কালের সীমারেখা। রোনাল্ডিনহোর সঙ্গে মিশে যান জীবনানন্দ, কবীর সুমন।
কোনটা কোন মঞ্চে বলতে হয়, কোনটা কোন মঞ্চে বলতে নেই। এই ন্যূনতম শিক্ষাটা রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নেই। এবং বলাই বাহুল্য, তাঁর গুণধর ভাইপোরও নেই। ক্ষমতার দম্ভ আর ঔদ্ধত্য চরমে পৌঁছে গেলে, যা হয়, তাই হচ্ছে।
পার্থ চ্যাটার্জির বাড়িতে কী কী পাওয়া গেল, কোথায় কোথায় বেনামি সম্পত্তি এগুলো সামনে আসতে দুদিনও সময় লাগল না। এমনকী মানিক ভট্টাচার্য কার কার কাছ থেকে টাকা তুলতেন, সেগুলোও সামনে এসে গেল। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে সেই টাকা কোন প্রভাবশালীর কাছে যেত, তা নিয়ে আর কিছুই বেরিয়ে এল না।
দু’বছর হল পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে তিনি পাড়ি দিয়েছেন অন্য এক দুনিয়ায়। এই পৃথিবীর খবর কি তাঁর কাছে পৌঁছোয়! আচ্ছা, সেখানে কি টিভি আছে? সেখানে কি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম— এ–সব কাজ করে! প্রতিনিয়ত ছবি পোস্ট করে, স্টেটাস আপডেট দিয়ে তাঁকে প্রাসঙ্গিক থাকতে হয় না। তবু তাঁর ছবিগুলো কী করে ঘুরে বেড়ায় ফেসবুকের এক দেওয়াল থেকে অন্য দেওয়ালে!
এমন সময়টায় বাঙালির অন্তত ফুটবলে মেতে থাকার কথা নয়। পুজোর পর অল্প শীত শীত আমেজ। এই সময় ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ক্রিকেট এসে যেত দৈনন্দিন জীবনে। কিন্তু এখন খেলার ক্ষেত্রে আর...
ট্রফি থেকে আর মাত্র দু’ধাপ দূরে। বিদায় নিলেও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না। কিন্তু দুটো ধাপ উতরে গেলে নতুন ইতিহাসের হাতছানি। শুধু মরক্কোর জন্য নয়, বিশ্বকাপের জন্যও এ যেন এক সন্ধিক্ষণ। মরক্কো জিতলে ইউরোপ–লাতিন আমেরিকার গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ পাড়ি দেবে অন্য এক পৃথিবীতে। বলা যায়, বিশ্বকাপটাই জাতে উঠবে।
বেড়াতে গিয়ে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা মনের মধ্যে একটা ছাপ ফেলে যান। তেমনই একজন মানুষ ভোটাদা। ঘুরতে যাওয়া অযোধ্যায়। নিছক ঘুরতে নয়, একটা অভিযানই বলা ভাল। ভাগ্যিস ভোটাদা ছিলেন, নইলে কত যে ভোগান্তি হত। এই ভোটাদার মতো মানুষেরা আছেন বলেই এখনও পৃথিবীটা এত সুন্দর। লিখেছেন শান্তনু পাঁজা।
দুই দলের সেরা তারকা কারা? আর্জেন্টিনা বললেই যেমন লিওনেল মেসির কথা ভেসে ওঠে, তেমনই ক্রোয়েশিয়া বললে ঘুরেফিরে একটা নামই আসে— লুকা মডরিচ। মিলগুলোয় একটু চোখ বোলানো যাক। ১) দুজনেই দলের অধিনায়ক। ২) মেসির বয়স ৩৫, মডরিচের ৩৭। দু’বছর ফারাকটা বড় কথা নয়। আসল কথা হল, দুজনেরই এটা শেষ বিশ্বকাপ। ৩) দুজনেরই জার্সি নম্বর দশ। ৪) লিওনেল মেসিকে বলা হয় এল এম টেন। কী আশ্চর্য, লুকা মডরিচও সেই এল এম টেন। ৫) একজন দীর্ঘদিন খেলছেন এসি মিলানে, অন্যজন বহু বছর বার্সিলোনায়। দুজনেই নিজের দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন।
সবাই জানেন, এটা রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ। এই নিয়ে দেশের জার্সি গায়ে পাঁচবার বিশ্বকাপ খেললেন। পাঁচবার ব্যালন ডিওর জিতেছেন। হতেই পারে, এখন আগের ছন্দে নেই। হতেই পারে, তাঁকে প্রথম দলে রাখা গেল না। কিন্তু বিদায়বেলায় কাটা ঘায়ে এমন নুনের ছিটে না দিলেই পারতেন। এমন বিদায় অন্তত রোনাল্ডোর প্রাপ্য ছিল না।