তসলিমাকে হজম করা এই অর্বাচীনদের কম্ম নয়

তাই যাঁরা উল্লসিত হচ্ছেন, যাঁরা এই সুযোগে আরও একবার বামেদের গাল পেড়ে নিচ্ছেন, তাঁরা বোধ হয় তসলিমার একটি বইও পড়েননি। ধর্মীয় হিংসা ছড়ানোই যাঁদের হাতিয়ার, তসলিমাকে হজম করা তাঁদের কম্ম নয়।

তিনহাজারি ভাণ্ডার সবাই কেন পাবেন?‌

এত মহিলাকে যে তিন হাজারি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া সম্ভব নয়, এই সত্যিটা তখন ইচ্ছে করেই উহ্য রাখা হয়েছিল। নিশ্চিতভাবেই অনেকে আশাহত হয়েছেন। এখন ভোট হলে রাগে তাঁরা হয়তো উল্টোদিকের বোতাম টিপবেন। তবু বলব, সরকারের সিদ্ধান্ত অপ্রিয় হলেও সময়োচিত।

জ্যোতি বসু, ছোট্ট নাম, বিরাট ব্যক্তিত্ব

সোশ্যাল মিডিয়ায় আচ্ছন্ন প্রজন্মের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, জ্যোতি বসু ঠিক কেমন ছিলেন। সিলেবাসেও নিজেকে ঢোকানোর চেষ্টা করেননি। নিজের কাজের ভিডিও করেও রাখেননি। ছবি তুলিয়েও রাখেননি। তাই ইউটিউব বা সবজান্তা গুগল ঘাঁটলেও বিরাট কিছু পাবেন না। ঢালাও বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারের আনুকূল্যে জ্যোতি বাবুদের ভেসে থাকতে হয় না। তাঁরা থেকে যান কাজে। তাঁরা থেকে যান চেতনায়। ‘‌জ্যোতি বসু, ছোট্ট নাম, কী বিরাট ব্যক্তিত্ব’‌।‌

ভাইরাল হয়েই থেকে গেল ‘‌এমন তো কতই হয়’‌

কিন্তু ওই যে ‘‌ইট হ্যাপেন্স’। একটি বাংলা কাগজে তার বাংলা তর্জমা হয়ে গেল ‘‌এমন তো কতই হয়।’ সেটাই দশকের পর দশক ধরে ভাষণে ভাষণে ছড়িয়ে গেল। কেউ কেউ নিজের মতো করে অতিরঞ্জিত করে বসলেন। আজও সেই অতিরঞ্জনের ট্রাডিশন চলছে।

জ্যোতিবাবুর দলের লোকেরা যদি তাঁর মতো একটু সহজ ভাষায় বলতে পারতেন!‌

ম্যানেজার বলল, স্যার, এটা ফেমাস দার্জিলিং টি। ওই ছোকরা আমাকে দার্জিলিং চেনাচ্ছে। ও জানে না যে দার্জিলিংটা পশ্চিমবঙ্গে আর আমি সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। ও জানুক আর না জানুক, বিদেশির মুখে দার্জিলিং চায়ের সুনাম শুনে ভাল লাগল। বেশ গর্বই হল। কিন্তু দার্জিলিং চা খেতে আমাকে লন্ডন যেতে হবে কেন?‌

বনস্পতির ছায়া দিলেন, সারাজীবন

আজ ২ জুলাই। কিংবদন্তী জননেতা অশোক ঘোষের জন্মদিন। বেশ কয়েক বছর আগে, তাঁর জন্মদিনে বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল বেঙ্গল টাইমসে। তার কয়েকটি লেখা আবার প্রকাশিত হচ্ছে। যাঁরা আগে পড়েননি, তাঁরা এখন পড়ে নিতে পারেন। যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা আবার পড়লেও মন্দ লাগবে না।

সবাইকে মন্ত্রী, এমপি বানিয়েছেন, নিজে হননি

অশোক ঘোষের কথা বললেই মনের মধ্যে ভিড় করে টুকরো টুকরো কত স্মৃতি। আমার জীবনের সঙ্গে, আমার লড়াইয়ের সঙ্গে তিনিও যেন একাত্ম হয়ে আছেন। আজ তিনি আমাদের ধরাছোঁযার বাইরে। তবু কেন জানি না, চোখ বুজলেই তাঁকে দেখতে পাই। এখনও যখন কোনও বিষয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়, মনে মনে ভাবার চেষ্টা করি, তিনি থাকলে কী পরামর্শ দিতেন। তখন কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

কেনেডির কাছেও ভিজিট চেয়েছিলেন!‌

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাড়িতে নিয়ম করে রোগী দেখতেন বিধানচন্দ্র রায়। কারও কাছেই কোনও ভিজিট নিতেন না। একেবারেই নিখরচায়। সেই বিধানচন্দ্রই ভিজিট চেয়ে নিয়েছিলেন বিশেষ একজনের কাছে। তিনিও আবার যেমন তেমন রোগী নন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ড জন কেনেডি।

নিজেদের গুন্ডাদের আগে সামলান

কাইফি আজমির লেখা একটা জনপ্রিয় গজল ছিল। তুম ইতনা যো মুসকুরা র‌্যাহেহো, ক্যা গম হ্যায় জিসকো ছুপা র‌্যাহে হো। বাংলা করলে দাঁড়ায়, এত যে হাসছো, কোন দুঃখকে আড়াল করতে চাইছো? নতুন মুখ্যমন্ত্রীকেও প্রশ্ন করাই যায়, ‘‌এত যে হুঙ্কার দিচ্ছেন, কী এমন ভয়, যাকে আড়াল করতে চাইছেন!‌’‌

কাকে দিলি রাজার পার্ট

আচ্ছা, লাইব্রেরি দপ্তরের জন্য যথার্থ শিক্ষত, বই মনষ্ক লোকের কি সত্যিই এত অভাব?‌ এই দপ্তরটাকে আস্তাকূঁড় ভেবে নেওয়া কি খুব জরুরি?‌ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে ইচ্ছে করে, কাকে দিলেন রাজার পার্ট?‌