অতএব, অভিষেকের বাড়িতে পৌরসভা নোটিশ পাঠাবে। আপনার বাড়ির পাঁচিলটা একটু বেরিয়ে আছে, এই মর্মে জবাবদিহি চাওয়া হবে। কখনও মাঝরাতে সিআইডি হানা দেবে। এই ছ্যাবলামি টুকুই আমরা দেখব। তাই নিয়ে ধেই ধেই করে নাচবো। কোন তদন্ত নয়, কোন সুবিচারও নয়, দিনের শেষে এই ছ্যাবলামি টুকুই আমাদের প্রাপ্য।
এদের হাতে আর যাই হোক, বিধানসভার সুরক্ষিত থাকতে পারে না। এখনও অধিবেশন শুরুই হল না। তার আগেই একরাশ কলঙ্ক নিয়ে পথ চলা শুরু করল নতুন বিধানসভা। এ কত বড় লজ্জা, এটুকু বোঝার ক্ষমতা স্পীকার সাহেবের নিশ্চিতভাবেই এখনও হয়নি।
যাঁরা তৃণমূল বিরোধী, তাঁরা তৃণমূলের এই ভাঙনে উল্লসিত হতেই পারেন। কিন্তু বাংলার গণতন্ত্রের পক্ষে এটা খুব উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন নয়। দল ভাঙানোর সংস্কৃতি এই রাজ্যে আগেও ছিল। তৃণমূলের বিরুদ্ধেও বারবার এই অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বিরোধী দলে এমন ভাঙন শুধু বাংলা নয়, দেশের রাজনীতিতেই বিরল।
করবেন। তাঁরা আসলে কার বিরোধী? শাসকের নাকি মমতার? শাসকের বিরোধিতা করার মুরোদ এঁদের অন্তত নেই। এঁরা ততটুকুই বলবেন, যতটুকু শাসক বলতে বলবে। এঁদের ঘড়িতে ততটুকুই দম দেওয়া আছে। এমন তাঁবেদার বিরোধী দল কোনও রাজ্যেই সম্ভবত নেই। দোহাই, এই অর্বাচীনদের আর যাই বলুন, বিদ্রোহী বলবেন না।
আইন নিশ্চয়ই আইনের কাজ করবে। কিন্তু বিরোধীরাও যেন তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্ভয়ে চালিয়ে যেতে পারে, সেটা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।
মলয় সেন এক সরকার যায়। এক সরকার আসে। মুদ্রার এক পিঠে থাকে বিগত সরকারের প্রতি অনাস্থা। আর মুদ্রার উল্টোদিকে থাকে নতুন সরকারের প্রতি আস্থা। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, নতুন সরকারের...
বাংলার রাজনীতিতে পালাবদল। একেবারে ঝোড়ো হাওয়ার মতোই সরকারে এল বিজেপি। কাজ শুরুও ঝড়ের গতিতেই। সেই কাজের অভিমুখ কী? কতটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে আমজনতার মধ্যে? তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কোথাও কি ফাঁক থেকে যাচ্ছে? কেন এভাবে তাসের ঘরের মতে ভেঙে পড়ছে তৃণমূল? বামেদের এমন ফলই বা কেন? তাই নিয়েই বেঙ্গল টাইমসের ই–ম্যাগাজিন।
বেঙ্গল টাইমস আগের সরকারের সময়ও স্তাবকতার রাস্তায় হাঁটেনি। তার সীমিত কণ্ঠ নিয়ে নানা বিষয়ে সোচ্চার থেকেছে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ভূমিকা তার মতো করে পালন করার চেষ্টা করেছে। বেঙ্গল টাইমসের অন্তত একশোটি ই ম্যাগাজিন তার সাক্ষী। সেগুলো এখনও আর্কাইভে আছে।
হতেই পারেন তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু বিধানসভার কাছে অভিষেক ব্যানার্জি কে? তাঁর চিঠির কী মূল্য আছে? অভিষেক তিনবারের সাংসদ। এখন আবার সংসদীয় দলনেতা। তারপরেও এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকু নেই!
হানিমুনের আবহেও প্রশ্নগুলো থাকুক। এই অতি উৎসাহ কিন্তু আগামীদেনের অশনি সংকেত। উৎসবের আবহে আত্মসমীক্ষাটুকু যেন হারিয়ে না যায়।