অনেককে বলতে শুনি, সিবিআই–এর ওপর আস্থা আছে। সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা আছে। কেন আস্থা আছে, বুঝি না। লোকদেখানো দু একটা চুনোপুঁটি ধরা আর গ্যালারি শো করা ছাড়া আস্থা অর্জনের জন্য সিবিআই কী এমন করেছে? কেন আমরা জোর গলায় বলতে পারি না, সিবিআই–এর প্রতি এতটুকুও আস্থা নেই। সিবিআই আগে আস্থার যোগ্য হয়ে উঠুক।
টিভিতে সিরিয়ান মানেই যেন অলঙ্কারের বিজ্ঞাপন। রান্নাঘরে রান্না করছে, গা ভর্তি গয়না। ড্রয়িংরুমে কুটকচালি করছে। সেখানে গয়না। পাঁচ মহিলা দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছে, পাঁচজনের গায়েই দামী শাড়ি, পাঁচজনের পরণেই যেন বিয়েবাড়ির সাজ। সে ভোরের দৃশ্য হোক বা রাতের। সিনেমাতেও কায়দা করে পিসি চন্দ্র, অঞ্জলি জুয়েলার্স, বলরাম বসাক— এসব ঢুকে পড়ছে। কখনও দোকানের ছবিতে, কখনও নায়ক–নায়িকার সংলাপে। এভাবে বাঙালির অন্দরমহল না জেনে, না বুঝে গিলছে অলঙ্কারকে।
বেঙ্গল টাইমস প্রকাশনের নতুন ই–বুক।
নন্দ ঘোষের কড়চা প্রকাশিত হয়েছে। এবার নন্দ ঘোষকে নিয়ে আরও একটি খণ্ড। আবার ১৫টি লেখাকে নিয়ে। এবার নাম— নন্দ ঘোষ হইতে সাবধান।
ছবি হয়তো সফল হবে। বক্স অফিসে বাণিজ্যও হবে। কিন্তু সেই বাণিজ্যের অঙ্ক যেন বিপথগামী না করে। শিবু–নন্দিতার কাছে একটাই অনুরোধ, নিজেদের ঘরানাটা হারিয়ে ফেলবেন না। বহুরূপী বা রক্তবীজের জন্য নয়, দর্শক আপনাদের মনে রাখবেন রামধনু, বেলাশেষে বা গোত্র–র জন্যই।
প্রথম কিস্তিতে আপাতত একডজন লেখা হাজির করা হল। প্রায় সব লেখাই ২০১৫–১৬ এই সময়ের। নন্দ ঘোষ নিয়ে এমন সংকলন কতগুলো বেরোবে, এখনই বলা মুশকিল। ঝাড়াই বাছাই করেও গোটা দশেক তো হতেই পারে। আপাতত শুরু তো হোক। ই–বুকের কলেবর বেশি হলে পড়ার ধৈর্য থাকে না। তাই, সচেতনভাবেই এই কলেবর একশো পাতার নিচেই রাখা হল। পরের কিস্তি কখন? অপেক্ষায় থাকুন, হয়তো দিন দশেকের মধ্যেই।
পুলিশ নিজেকে কোথায় টেনে নামাচ্ছে? আর জি করে যাঁরা ভাঙচুর চালিয়েছে, সেই দুর্বৃত্তরা জানত, পুলিশ কিছুই করতে পারবে না। পুলিশের অপদার্থতা সম্পর্কে তাদের ধারণা যে একেবারে ঠিক ছিল, সেটা পুলিশ নিজেই প্রমাণ করে দিয়েছে। এক্ষেত্রেও সেই বিশেষ এলাকায় যারা পঙ্কজ বাবুকে হেনস্থা করল, তারা কি শুধু পঙ্কজবাবুকে হেনস্থা করল! থানা চত্বরে একজন প্রবীণ নাগরিক হেনস্থার শিকার হলেন, এটা পুলিশের লজ্জা। সেই দুর্বৃত্তরাও জানে, পুলিশ কিছু করতে পারবে না।
হয়তো অনেকে বলবেন, যদি লোকে নাই কিনবে, তাহলে ছাপা হচ্ছে কেন? নিশ্চয় বিক্রি হচ্ছে। হ্যাঁ, হচ্ছে। কিন্তু আপনার পরিচিত কজনের বাড়িতে আগে পুজো সংখ্যা নেওয়া হত আর এখন কজনের বাড়িতে নেওয়া হয়, একটু খোঁজ নিন। তাহলেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। পাঁচটা–ছটা পুজো সংখ্যা নিতে বলছি না। কিন্তু বছরে একটা পুজো সংখ্যা বাড়িতে নেওয়া যায় না!
বাড়ির সামনেই একটা বেঞ্চ পাতা। ঘরে ঢোকার আগেই সেদিকে চোখ চলে গেল। সামনে একেবারে খোলা জায়গা। সামনে কোনও বাড়ি নেই। কোনও জনপদ নেই। একেবারে খোলা পাহাড়। দূরে নাম না জানা সব পাহাড়ের সারি। আহা, এই বেঞ্চে বসেই তো অনন্ত সময় কেটে যায়। গেয়ে উঠলাম, ‘আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই। কিচ্ছু করার নেই।’
আমাদের দেশে বা আমাদের রাজ্যে কোনও আন্দোলন শুরু হয় ঠিকই, কিন্তু দ্রুত তা কোনও না কোনও রাজনৈতিক দল হাইজ্যাক করে নেয়। কদিন যেতে না যেতেই রাজনীতির লোকেরা এসে পড়েন। তাঁদের কথাতেই আন্দোলন পরিচালিত হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমনটা হচ্ছে না। এঁরা যথেষ্ট বিচক্ষণ। নিজেরাই নিজেদের চালিকাশক্তি। কারও কথায় ওঠা–বসা করার বান্দা অন্তত এঁরা নন।
দেখতে দেখতে দশ বছর হয়ে গেল। এই নিয়ে টানা দশ বছর পুজোয় আত্মপ্রকাশ করল বেঙ্গল টাইমস। চাইলে হয়তো আগেই বের করা যেত। কিন্তু এই বিলম্ব কিছুটা ইচ্ছাকৃত। পুজোর গন্ধ গায়ে মেখেই ডালা মেলে দিল বেঙ্গল টাইমস।