পূর্ব সিকিমের ছোট্ট গ্রামে
এই দীর্ঘ যাত্রার অনেকটা সময় ধরেই আমাদের সঙ্গিনী ছিলেন তিস্তা নদী। যাত্রাপথে তার সান্নিধ্যও কম উপভোগ্য নয়। পাহাড় ঘেরা একটি অজানা গ্রামের মাঝে এত সুন্দর একটি হোমস্টে দেখে আমরা তো আনন্দে আত্মহারা।
এই দীর্ঘ যাত্রার অনেকটা সময় ধরেই আমাদের সঙ্গিনী ছিলেন তিস্তা নদী। যাত্রাপথে তার সান্নিধ্যও কম উপভোগ্য নয়। পাহাড় ঘেরা একটি অজানা গ্রামের মাঝে এত সুন্দর একটি হোমস্টে দেখে আমরা তো আনন্দে আত্মহারা।
সবকিছুরই নিজস্ব খদ্দের আছে। কেউ খুনখারাপি দেখতেই ভালবাসেন। কেউ ভালবাসেন সারাক্ষণ ঝগড়া দেখতে। কূটকচালি তো দারুণ উপাদেয়। সিরিয়ালে দেখে নিজের সংসারে সেগুলো প্রয়োগ করা। মফস্বলের কত পরিবারে নিত্য অশান্তি সেইসব কূটকচালির প্রয়োগকে ঘিরে। এসব নিয়ে আর্থসামাজিক সমীক্ষা হওয়াটা খুব জরুরি। শুধু কিছু সিরিয়াল জনজীবনকে কতখানি বিষিয়ে দিয়েছে, তার কোনও হিসেব নেই। সেই প্রবণতা এবার কি ওয়েব সিরিজের হাত ধরেও চলে আসছে!
নন্দ ঘোষের কড়চা। নিছকই একটি মজার কলাম। বিদ্যাসাগরকে অসম্মান করার বা ছোট করার কোনও ইচ্ছেই আমাদের নেই। যাঁরা নিয়মিত পড়েন, তাঁরা জানেন। কিন্তু যাঁরা নতুন পাঠক, তাঁরা এই কলামকে মজা হিসেবেই দেখুন। এই লেখা থেকে যেন কোনও ভুল বার্তা না যায়।
শিরোনামটা দেখে মনে হতে পারে, নির্ঘাত কোনও তৃণমূলি এই লেখাটা লিখছে। নির্ঘাত বলতে চাইছে, সিবিআই নির্দোষ লোকেদের ধরে হেনস্থা করছে, বাংলার সরকারকে বদনাম করতে চাইছে। লেখাটা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হলে, শুধু শিরোনাম দেখেই কমেন্ট বক্স গালমন্দে ভরে যেত। সত্যিই তো, এত পড়ার ধৈর্য কোথায়? ‘চটিচাটা’ ‘তৃণমূলের দালাল’ এই শব্দগুলো তো মুখস্থই আছে। লিখে দিলেই হল।
তার আগে বার তিনেক দার্জিলিংয়ে গিয়েছি। কিন্তু সত্যি বলছি, ক্যাভেন্টার্সের কথা তার আগে কেউ বলেনি। তাই যাওয়াও হয়নি। সেখানে কার পা পড়েনি? সত্যজিৎ রায় থেকে ঋত্বিক ঘটক। অমিতাভ বচ্চন থেকে রাজেশ খান্না। এডমন্ড হিলারি থেকে তেনজিং নোরগে। এতলোক যখন গিয়েছেন, তখন নিশ্চয় দামও আকাশছোঁয়া হবে। সে এক পাঁচতারা এলাহি ব্যবস্থা হবে। ভয়মিশ্রিত একটা রোমাঞ্চ নিয়েই গিয়েছিলাম।
যদি সে একটা উপন্যাসের অডিওবুক পুরো শুনত, তাহলেও বলতে পারত, আমি এই উপন্যাসটা পুরো শুনেছি। যদি সে একটা সিনেমাও পুরো দেখত, তাহলেও বলতে পারত, ওই ছবিটা পুরো দেখেছি। দিনের শেষে সেটাও একটা প্রাপ্তি হত। যে প্রাপ্তির কথা তার পাঁচ বছর পরেও মনে থাকত। কিন্তু আসলে সে কিছুই দেখেনি। তাই পরের দিন কোনওটাই মনে থাকে না। প্রাপ্তির ভাঁড়ার কার্যত শূন্য। হ্যাঁ, তারা কিছুই গ্রহণ করে না। শুধু প্রত্যাখ্যান করে চলে।
রোজ ঝগড়া লেগেই আছে। কখনও প্রকাশ্যে। আবার কখনও ঠান্ডা যুদ্ধ। প্রায় সব পরিবারেই এটা চেনা ছবি। সিরিয়াল দেখা বন্ধ করুন। দেখবেন, অনেক ঝগড়া থেমে গেছে। লিখেছেন স্নেহা সেন।
এই প্রজন্ম হয়ত ‘ভিয়েন’ শব্দটার সঙ্গেই পরিচিত নয়। হয়ত সবজান্তা গুগল হাতড়ে যাবে। শুধু মহানগর নয়, মফস্বল শহর থেকেও হারিয়ে যেতে বসেছে শব্দটা। শোনা যায়, ইদানীং ভিয়েনের কারিগরও নাকি পাওয়া যায় না। যে লোকটা মিঠাই বানাত, তার উত্তসূরী হয়ত চাউমিনের স্টল দিয়েছে বা হয়ত পিঠে জোমাটোর ইয়াব্বড় ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে। বদলে যাওয়া সময়, বদলে যাওয়া খাবারের ভিড়ে সেই ভিয়েন কোথায় যেন হারিয়ে গেল!