উপেক্ষার উপযুক্ত জবাব দিন বাবররা

ধীমান সাহা

আমাকে আপনারা অনায়াসে দেশদ্রোহী বলতে পারেন। গত কয়েক বছরে দেশপ্রেম নিয়ে যে ধরনের বাড়াবাড়ি দেখি, তাতে দেশপ্রেমী হতে তেমন ইচ্ছেও করে না। মনে হয়, দেশপ্রেমী মানে বোধ হয় মোদি, অমিত শাহদের নির্বোধ ভক্তগণ। অন্যদিকে, দেশদ্রোহী মানে একঝাঁক মুক্তচিন্তার মানুষ। যদি পক্ষ বেছে নিতেই হয়, তাহলে সেই মুক্তমনা মানুষদেরই বেশি কাছের মানুষ বলে মনে হয়।

সরাসরি ক্রিকেটে আসা যাক। আমি বাপু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভক্ত। এমনকী যখন ভারতের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা হত, তখনও কেন জানি না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকেই যেন ঝুঁকে থাকতাম। ভিভ রিচার্ডস ব্যাট করছেন, এর থেকে ভাল দৃশ্য আমার কাছে আর কিছুই ছিল না।

সময়ের অ্যালবামে ধুলো জমেছে। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজও নেই। আর সেই ক্রিকেটও নেই। প্রযুক্তির যুগে সবই কেমন যেন প্রাণহীন। আইপিএল–‌কে মেনে নিতে পারি না। এখনও টেস্ট ম্যাচ হলে দেখতে ইচ্ছে করে। নিদেনপক্ষে, দিনের শেষে স্কোরটা অন্তত জানতে ইচ্ছে করে।

টি২০ বিশ্বকাপে আমার ঘোড়া কে?‌ সত্যি বলছি, নির্দিষ্ট কোনও ঘোড়া নেই। আমার সেই প্রিয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো মূলপর্বেই উঠতে পারেনি। তাই আমারও বিশেষ উৎসাহ ছিল না। ভারত জিতলে ভাল লাগত, ব্যাস এই টুকুই। এর বেশি কিছু নয়।

পরিকাঠামোগত দিক থেকে ভারতের ধারেকাছেও নেই পাকিস্তান। একদিকে ভারত যখন কার্যত আইসিসি–‌কে নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে পাকিস্তান বছরের পর বছর যেন অচ্ছুৎ। কোনও দেশ তাদের দেশে সিরিজ খেলতে যেত না। নিরাপত্তাটা খুব বড় কারণ বলে মনে হয় না। আসল কারণ অন্যকিছু। পাকিস্তানকে ব্রাত্য করে রাখার পেছনে ভারতের বড় ভূমিকা ছিল। যেটা মন থেকে মেনে নিতে পারিনি।

আইপিএলে এক দশকের বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের কোনও খেলোয়াড় নেই। সব ফ্র‌্যাঞ্চাইজির কছে অলিখিত ফতোয়া, কোনও পাক ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া চলবে না। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক যেমনই হোক, ক্রিকেটাররা কী দোষ করলেন?‌ বরং, দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সম্প্রীতির আবহ বেশ ভাল। তাহলে ভারত কেন পাকিস্তানে খেলতে যায় না?‌ পাকিস্তানকে কেন ভারতে খেলতে আমন্ত্রণ জানানো হয় না?‌

ভারতের নাগরিক হয়েও ভারতের এই তথাকথিত ‘‌দাদাগিরি’‌ মানতে পারিনি। বারবার মনে হয়েছে, এটা খুবই অন্যায় হচ্ছে। এই উপেক্ষা, এই অপমান পাক ক্রিকেটারদের প্রাপ্য নয়। হয়ত সেই কারণেই মন চেয়েছে, আন্তর্জাতিক আসরে পাকিস্তান ভাল কিছু করুক। বাবর আজম, মহম্মদ রিজওয়ানরা রান করুন। শাহিন শাহ আফ্রিদিরা উইকেট নিন। যেভাবে ক্রিকেট বিশ্ব তাঁদের নিয়ে হেলাফেলা করছে, তার যোগ্য জবাব দিন এই ক্রিকেটাররা। তাতে ভারতীয় বোর্ডের অহমিকা যদি কিছুটা কমে।

Previous post এমন ‘‌গুরুদক্ষিণা’‌ সত্যিই কি আদবানির প্রাপ্য ছিল!‌
Next post রাজ্যভাগের জল্পনায় অদ্ভুত এক ধোঁয়াশা সব শিবিরেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *