ওড়িশাতেও একটা কাশ্মীর আছে!

শোনা যায়, শীতে নাকি এখানে বরফ পড়ে। আমার অবশ্য শীতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে যখনই যান, শীতবস্ত্র নিয়ে যাবেন। শোনা যায়, রেন ফরেস্ট, জন্তু জানোয়ার থাকতে পারে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একসময় মাওবাদী আতঙ্ক ছিল। এখনও পুরোপুরি সেই আতঙ্ক গেছে, এমনটা নয়। তবে ভরসা করে যেতেই পারেন।

ইতিহাস বিস্মৃত বাঙালি যদি একবার কর্মাটাঁড়ে যেত!

ইতিহাস বিস্মৃত জাতি হিসেবে বাঙালির বিশেষ একটা ‘‌সুনাম’‌ আছে। ইতিহাস তাঁর ভেতর রোমাঞ্চ আনে না। তাঁকে শিহরিত করে না। তাই বছরভর বাঙালি এত এত জায়গায় বেড়াতে যায়, তাঁদের কজনই বা আসেন এই কর্মাটাঁড়ে!‌ আপনার পরিচিত একশো জনের মধ্যে খোঁজ নিন। দেখুন, একজনও সেখানে যাননি।

মাথার ওপর স্নিগ্ধ আকাশ, পায়ের তলায় তিস্তা

মুঙ্গেরজং তাহলে কী দিল?‌ এক প্রগাঢ় শান্তি। যেখানে সিবিআই নেই, ইডি নেই। কাকু নেই, ভাইপো নেই। বিরাট নেই, অনুষ্কাও নেই। অফিস যাওয়ার তাড়া নেই। টিভির ব্রেকিং নিউজ নেই। যেখানে টিভি চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজ নেই। আতঙ্কের সংক্রমণ নেই। যেখানে আপন মনে ময়ূর ডেকে চলেছে। যেখানে পায়ে পায়ে জঙ্গল পেরিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়া যায়। যেখানে পায়ের তলা দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা। মাথার ওপর রয়ে গেছে স্নিগ্ধ আকাশ। ‌‌

‌এই সবুজের উপত্যকা আমার দেশ

অন্তরা চৌধুরি ভুবন বাদ্যকরের কাঁচাবাদাম গান সমতলকে ছাড়িয়ে যে পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামেও পৌঁছে গেছে, এতটা আশা করিনি। ভুলটা ভাঙল কচিকাঁচাদের কণ্ঠে নেপালি ভার্সেনে সেই গান শুনে। ছয় হাজার ছ’শো ফুট...

আর কোনও জাতি এতখানি ভ্রমণপ্রিয়!‌

ভূতের রাজা তিনটি বর দিতে চেয়েছিল। গুপী–‌বাঘা কী চেয়েছিল?‌ ১)‌ যেথা খুশি যাইতে পারি, ২)‌ যা খুশি খাইতে পারি, ৩)‌ মনের সুখে গাইতে পারি। অর্থাৎ, তারা একটু ঘুরতে চেয়েছে, ভাল–‌মন্দ...

তাকদার সেই ব্রিটিশ বাংলোয়

এই তাকদাতেই সতেরোখানা বাংলো বানিয়েছিলেন ব্রিটিশরা। এখানেই ছিল তাঁদের ক্যান্টনেন্ট। কালের নিয়মে কোনওটা ভগ্নপ্রায়। কোনওটা হয়েছে স্কুল। কোনওটা হয়েছে গেস্ট হাউস। মেঘমাখানো তাকদার সেই ইতিহাস উঠে এল স্বরূপ গোস্বামীর লেখায়।

ট্যুর অপারেটর হতে চান?‌ এই ছবিটি দেখুন

অনেকেই হয়ত ট্যুর অপারেটর হতে চান। পর্যটন ব্যবসায় নামতে চান। ভাল–‌মন্দ দুটো দিকই জেনে রাখা দরকার। একটা ছবি দেখতে পারেন, ধারণাটা কিছুটা পরিষ্কার হবে।

উঠল বাই, ভুটান যাই

খুব শখ করেই পাসপোর্ট করিয়েছিলাম। যদি কোনওদিন কাজে লাগে! কালাপানি পেরোব এমন আশা করিনি। কিন্তু প্রতিবেশী দেশে তো যেতেই পারি। অন্ততপক্ষে বাংলাদেশ। না, সেখানেও যাওয়ার সৌভাগ্য এখনও অর্জন করিনি। তাই পাসপোর্ট যেমনকার তেমনই আছে। কোথাও কোনও ছাপ পড়েনি।কিছুদিন হল বিদেশ থেকে ঘুরে এসে দেশের মাটিতে পা দিয়েছি। কিন্তু অত শখ করে বানানো পাসপোর্ট কোনও কাজেই লাগলো না।

নতুন জায়গা খুঁজেই পর্যটনের বিস্তার ঘটাতে হবে

বাঙালির পর্যটন মানে শুধু দিঘা, পুরী, দার্জিলিং— এই বৃত্তে কেন আটকে থাকবে?‌ এর বাইরে বেরোতে হবে। এই বাংলায় এত বৈচিত্র। আরও বেশি করে ভ্রমণপ্রেমী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তবেই পর্যটনের যথার্থ বিস্তার ঘটবে।

গা ছমছমে জঙ্গলে বোট সাফারি

এতবার ডুয়ার্সে এসেছি। কিন্তু এমন একটা জায়গায় কেন আসিনি! নিজেদের ওপরই রাগ হল। নৌকোয় বাবুও সঙ্গে ছিল। ভাগ্যিস বাবু সিকিয়াঝোরার প্রস্তাবটা দিল! নইলে তো এবারও আসা হত না। অন্তত আমাদের পরিকল্পনার মাঝে কোথাও ছিল না এই উত্তরের অ্যামাজন। বাবুকে কী ভাষায় ধন্যবাদ জানাব! শব্দভান্ডারের কোনও শব্দই জুৎসই মনে হল না। আমাদের রোমাঞ্চ, আমাদের মুগ্ধতা দেখে যা বোঝার, ও বুঝে নিক।