অন্তরা চৌধুরি
সারান্ডার জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি কিরিবুরুর দিকে। মাঝখানে একটা চৌমাথার মোড় আসতেই হাত দেখিয়ে এক নবীন যুবক লিফট চাইল। তাও আবার ঝরঝরে বাংলা ভাষায়। অচেনা জায়গায় অপরিচিত কাউকে গাড়িতে তুলতে একটু ভয় লাগলেও বাঙালি দেখে আমরা গাড়িতে ওঁকে তুলে নিলাম। জানতে পারলাম কয়েক কিলোমিটার দূরে এক মেডিক্যাল ক্যাম্প আছে। উনি ওই ক্যাম্পের মেডিক্যাল সুপারভাইজার। প্রাথমিক পরিচয় পর্ব সারা হলে উনি জানতে চাইলেন,
‘এখানে কি আপনাদের কোনও রিলেটিভের বাড়ি?’
আমরা প্রচণ্ড আগ্রহের সঙ্গে বললাম, ‘না না। আমরা তো এখানে বেড়াতে এসেছি।’
উনি সামনের সিটে বসেছিলান। আমাদের কথা শুনে পেছন ঘুরে তাকিয়ে বিস্ময়ের সঙ্গে বললেন,
‘বেড়াতে এসেছেন? আপনারা আর বেড়াতে যাওয়ার জায়গা পেলেন না? এখানে দেখার কী আছে? শুধুই জঙ্গল। ওয়েস্ট বেঙ্গলে এত সুন্দর সুন্দর জায়গা ছেড়ে এখানে কেউ বেড়াতে আসে!’
লোকটার কথা শুনে মাথাটা গরম হয়ে গেল। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে একটা তেতো হাসি হাসলাম। ওই হাসিটাই ছিল ওঁর যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর। এদিকে সকাল থেকে ট্রেনের বিভ্রাটজনিত কারণে সারাদিন আমাদের বেশ ভাল রকম দুর্ভোগ পোয়াতে হয়েছিল। আসলে আমাদের বুকিং ছিল মনোহরপুর ফরেস্ট বাংলোতে। কিন্তু কিন্তু টাটাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও যখন মনোহরপুরগামী ট্রেন কিছুতেই এল না, তখন বাধ্য হয়ে টাটা থেকে আমাদের গাড়িতে করতে হল।
চাঁইবাসাতে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর আবার আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করল। কিন্তু রাস্তা আর কিছুতেই ফুরোতে চায় না। দু হাত ছাড়া ছাড়া রাস্তার দু’পাশে হাঁড়িয়া ছাড়া আর অন্য কোনও দোকান পাট চোখে পড়ে না। রোদ ক্রমশঃ কমতে শুরু করেছে। পথশ্রমে সকলেই ক্লান্ত। চার ঘণ্টার কাছাকাছি পথ চলার পর ড্রাইভার মশাই জানালেন যে, ‘মনোহরপুর এখনও প্রায় আশি কিলোমিটার। সেখানে পৌঁছোতে পৌঁছোতে রাত হয়ে যাবে। তার চেয়ে আপনারা বরং কিরিবুরুতে থেকে যান।’ ড্রাইভারের প্রস্তাবে রাজি হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। কিন্তু কিরিবুরুতে থাকব কোথায়? কোথাও তো আমরা বুকিং করে আসিনি। ড্রাইভার এবং সেই মেডিক্যাল সুপারভাইজার খুব জোর দিয়ে বললেন, ওখানে অনেক থাকার জায়গা আছে। বিশেষত বনবাংলো তো আছেই। একটু রিকোয়েস্ট করলে ওরা ঠিক দিয়ে দেবে। গন্তব্য চলে আসায় সেই ব্যক্তি ধন্যবাদ জানিয়ে নেমে গেলেন।
কিরিবুরুতে পৌঁছে যেখানে আমাদের গাড়ি থামল সেই জায়গাটার নাম কিরিবুরু হিলটপ বা সানরাইজ পয়েন্ট। খোঁজ নিয়ে জানা গেল বনবাংলো খালি নেই। সেখানে পুলিশের ট্রেনিং চলছে। হোটেলের কোনও চিহ্ন তো নেইই। এদিকে সন্ধে প্রায় নেমে এসেছে। একে তাকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল ওখানে একটা প্রাইভেট গেস্ট হাউস আছে। সেটা পাওয়া যেতে পারে। লোকজন সেই গেস্টহাউসের মালিককে ফোন করার মিনিট দশেকের মধ্যে উনি চলে এলেন। খুব অমায়িক ভদ্রলোক। গেস্টহাউস মানে একচালা দুটো ঘর। পাশেই ফল ফুলে ভর্তি বিশাল বাগান। বড় রুমটা আমাদের জন্য খুলে দিলেন। সেই রুমে ছয় সাতজন অনায়াসে থাকতে পারে। অ্যাটাচ বাথ ও রুমের লাগোয়া কিচেন। সেই জঙ্গলের মাঝে ওই বাড়িটাই হয়ে উঠেছিল তখন আমাদের পরম আশ্রয়।
এই অঞ্চলে খুব বেশি ট্যুরিস্ট আসে না বলে দীর্ঘদিন অ-ব্যবহারে ঘরদোর একটু মলিন ছিল। কিন্তু আধঘণ্টার মধ্যেই কাজের লোক এনে বিছানা থেকে ঘর, বাথরুম সব সাফ সুতরো করে দিলেন। আমরা ছিলাম তিনজন। আমি, আমার কর্তা ও আমার মা। স্নানটান সেরে ফ্রেশ হতেই উনি আমাদের পরিবেশন করলেন গরম গরম চাওমিন আর চা। সারাদিনের ক্লান্তি ও বিরক্তি একটু একটু করে কাটতে শুরু করেছিল। চা-পর্ব সেরে আমরা তিনজনে মিলে হাঁটতে বেরোলাম। পাশাপাশি লোকজনের ঘরবাড়ি রয়েছে। অনেকটা কলোনি টাইপের। আকাশে ঝকঝকে চাঁদ উঠেছে। এর আগে অনেকবার নর্থ বেঙ্গল গেছি। সন্ধে বেলায় যখনই হাঁটতে বেরোতাম তখনই মনে হত আকাশের সব তারাগুলো ওই সামনের পাহাড়ে চলে এসেছে। সারান্ডাটাও সেইরকম লাগছিল। সাতশো পাহাড়ের দেশের এক পাহাড়ে আমরা রয়েছি। আর আমাদের চারপাশে না জানি আরও কত অজস্র পাহাড় রয়েছে। পাহাড় থেকে দূরে বোকারো স্টিলসিটির আলোগুলো তারার মতোই মিটমিট করে জ্বলছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাওয়ার দাপট ও ঠাণ্ডার দাপট বাড়তে থাকায় রুমে ফিরে এলাম। ততক্ষণে আমাদের ডিনার রেডি হয়ে গেছে। গরমাগরম ধোঁয়া ওঠা ভাত। তার সঙ্গে আলু বেগুন ভাজা, ফুলপকপির তরকারি ও ডিমের কষা। মা তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ল। খাওয়ার পর আমি আর কর্তামশাই বেরোলাম একটু জ্যোৎস্না পোয়াতে। সত্যি কথা বলতে কী ওইরকম জংলি চাঁদ আর ডাইনী জ্যোৎস্না-যাপন ছিল কিরিবুরুর সেরা পাওনা।
ভোর বেলায় পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। বাকি দু’জন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আমি একা একাই সেই কাকভোরে বেরিয়ে পড়লাম। ভোরবেলায় কিরিবুরুর চারপাশের প্রকৃতি দেখে মনটা ভোরের আলোর মতো নরম হয়ে গেল। মনে হল গতকাল আসল গন্তব্যে পৌঁছোতে না পেরে একদিক থেকে ভালই হয়েছে। তারপর যখন পূব আকাশ একটু একটু করে লাল আভায় ভরে যেতে লাগল তখন মনে হল জীবনে যা কিছু ঘটে ভালর জন্যই ঘটে। সাময়িক আমাদের খারাপ লাগে। কিন্তু তার সুদূর প্রসারী ফল ভালই হয়। বড় বড় শাল গাছে ঘেরা সেই পাহাড়ি টিলায় আমি একা ওই অপূর্ব ভোরের সাক্ষী হয়ে রইলাম। তারপর যখন মেঘ সরিয়ে সূর্য উঠতে শুরু করল, তখন মনে হল এই অসাধারণ মহাজাগতিক দৃশ্য থেকে আমার বর ও মা-কে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আসলে প্রকৃতি প্রতিদিনই আমাদের জন্য দু’বার বিনামূল্যে আসধারণ লাইট-সাউন্ডের ব্যবস্থা করে। কিন্তু সে আর আমরা দেখি কই। সেই সময় আমাদের কোথায়!
সূর্যোদয় দেখা হলে আমরা ফ্রেশ হয়ে বেড়াতে বেরোলাম। সত্যি কথা বলতে কী আগের দিনের আলো-আঁধারি আর ক্লান্তিতে জায়গাটা তেমন ভাল লাগেনি। কিন্তু সকালের ওই ঝকঝকে আলোয় কিরিবুরুর সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আসলে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘সারান্ডায় শয়তান’ পড়ে, ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’ সিনেমাটা দেখেই মাথাটা আমার ঘুরে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল সারান্ডার জঙ্গলে আমায় যেতেই হবে। কলেজে দু-তিনদিন ছুটি নিয়েছিলাম। মা বলেছিল শান্তিনিকেতন যেতে। কর্তা বলেছিল নর্থ বেঙ্গল যেতে। কিন্তু আমি কারও কথা শুনিনি।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে লক্ষ্য করলাম মা ও বরের চোখে অদ্ভুত বিস্ময়। অর্থাৎ জায়গাটা তাদের ভাল লাগতে শুরু করেছে। তাদের হাসিমুখ দেখে নিজের অপরাধবোধ কিছুটা কমল। ‘কিরি’ শব্দের অর্থ পোকা। আর ‘বুরু’ মানে পাহাড়। কিরিবুরু অর্থাৎ পোকা-পাহাড়। রাস্তায় যেসব লেখা চোখে পড়ল সেসব অধিকাংশই উড়িয়া ভাষায় লেখা। কিন্তু ঝাড়খণ্ডে উড়িয়া ভাষা কেন? লোকজনকে জিজ্ঞাসা করতেই জানতে পারলাম, কিরিবুরু আসলে উড়িষ্যার মধ্যেই পড়ে। সারান্ডার জঙ্গলে দুই রাজ্যের সীমানা রয়েছে।
কিরিবুরু জায়গাটা অজস্র শাল গাছের জঙ্গলে পরিপূর্ণ। মাথার ওপর ঝকঝকে নীল আকাশ, সবুজ বনানী আর লালমাটির রাস্তা-সে এক অপূর্ব দৃশ্যপট। বেশ কিছু মুহূর্ত ক্যামেরা বন্দি করা হল। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দূরে বেশ কিছু দোকান চোখে পড়ল। জায়গাটা ছোটখাটো গঞ্জ টাইপের। তেমন টুরিস্ট আসে না বলে লোকজন আমাদের অবাক হয়ে দেখছিল। অতটা রাস্তা হেঁটে মায়ের ততক্ষণে চা-তেষ্টা পেয়ে গেছে। সামনেই একটা দোকানে আমরা চায়ের অর্ডার দিলাম। দোকানী খুব যত্ন সহকারে চা তৈরি করে আমাদের পরিবেশন করলেন। সব দোকানেই দেখলাম জগন্নাথের ছবি রয়েছে। উড়িষ্যার মিষ্টি খুব বিখ্যাত। প্রত্যেক মিষ্টির দোকানেই মিল্ককেক রয়েছে। আমরা ফেরার সময় বেশ অনেকটা মিল্ককেক কিনে আনলাম। অসাধারণ তার স্বাদ।
কাছেই ছিল একটি জগন্নাথ মন্দির। মাকে নিয়ে সেখানে গেলাম। মন্দির বন্ধ থাকলেও বাইরে দর্শন করতে অসুবিধে হয়নি। জগন্নাথ, বলরাম, ও সুভদ্রা সেই মন্দিরে বিরাজ করছেন। মা খুব খুশি হল সকাল সকাল জগন্নাথ দর্শন করে। ফিরে এসে ব্রেকফাস্ট ও স্নান পর্ব চুকিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম আয়রন মাইনস ও ঘাঘরি ফলসের উদ্দেশে।
বাবার চাকরি সূত্রে জীবনে অনেক কয়লা খনি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু লোহার খনি কখনও দেখিনি। বলে রাখা ভাল, আয়রন মাইনস-এ ঢোকার আগে অনুমতি করিয়ে নিতে হয়। মাথা পিছু ২০০ টাকা। আমরা প্রথমেই গেলাম আয়রন মাইনস দেখতে। সে এক অদ্ভুত ব্যাপার। মাটিতে লোহার পরিমাণ খুব বেশি থাকায় মাটির রঙ লাল। নালা দিয়ে যে জল যাচ্ছে তার রঙও লাল। আমরা সামনের এক কারখানায় যেতেই ওখানে কর্মরত লোকজন আমাদের বোঝালেন যে এখানে শুধু কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ মাটি থেকে লোহাকে আলাদা করা হয়। তারপর সেই লোহা পাঠিয়ে দেওয়া হয় বোকারো। সেখানেই নানারকম জিনিসপত্র তৈরি হয়।
আয়রণ মাইনস দেখা হলে নিবিড় জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আমরা এগিয়ে চললাম ঘাঘরি ফলসের উদ্দেশ্যে। দু’পাশে এমন নিবিড় ঘন জঙ্গল যে কথা বলতেও ভয় হয়। জঙ্গলের নানা রঙের সবুজ আমাদের অভ্যর্থনা জানাল। মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বেশ কিছুক্ষন সেই জঙ্গলের নৈঃশব্দকে উপভোগ করছিলাম। পাহাড়, নদী, সমুদ্র-এদের সকলকে ভালবাসলেও জঙ্গল একটু বেশি টানে আমাকে। জঙ্গল থেকে ঘুরে যাওয়ার পর লোকজন জানতে চায়, ‘জঙ্গলে কী আছে দেখার?’ এরকম প্রশ্ন শুনলে বড় হাসি পায়। তাদেরকে কী করে বোঝাই যে জঙ্গলটাই তো দেখার। তাকেই তো মন ভরে দেখতে হয়। মনে হয় গভীরে আরও গভীরে ওই সবুজ ক্লরোফিলের মাঝে হারিয়ে যাই। কোনও এক আদিম বৃক্ষমাতার কোলে মাথা রেখে জীবনের সব কষ্টের উপশম ঘটাই। কতরকম পাখি আপন মনে নির্ভয়ে খেলে বেড়াচ্ছে। ডিটক্স ওয়াটার খেলে শরীরের টক্সিন হয়তো বেরিয়ে যায়। কিন্তু মনের টক্সিন বের করতে হলে বারবার আমাদের ছুটে যেতে ওই আদি অকৃত্রিম প্রকৃতির কাছে। কারণ ওই প্রকৃতিই যে আমাদের বেঁচে থাকার বিশল্যকরণী।
‘তোকে আর অত লেডি বিভূতিভূষণ হতে হবে না। গাড়িতে উঠে আয়। অনেক কাব্য হয়েছে।’ গাড়ির ভেতর থেকে মায়ের ধমকে আমার সম্বিত ফিরল। জঙ্গলের মাঝে আমি আর কর্তামশাই নামলেও মা কিন্তু নামেনি। কারণ সারান্ডায় আসার আগেই মা শুনেছিল এখানে নাকি ভালুক আছে। কিন্তু সেটা যে এই তল্লাটে নয়, ভালুকের গুহা আছে থালকোবাদে সেটা মাকে কে বোঝায়! যাইহোক আমরা পৌঁছে গেলাম ঘাঘরি ফলসে। নীচ থেকে তেমন ভাল লাগছিল না। কিন্তু হ্যাংগিং ব্রিজ ধরে যত সেই ঝর্ণার কাছে এগোতে থাকি ততই বাড়তে থাকে তার রূপ ও গর্জন। সে এক অদ্ভুত অনুভূতি। ঝাড়খণ্ড সরকার ওই ঝর্ণার কাছেই বেশ কিছু কটেজ তৈরি করছে। খুব সাহসী আর অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় লোকজন ছাড়া ওই জনহীন দুর্গম বন-জঙ্গল ঘেরা জায়গায় ক’জন থাকবে সেই নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।
ফিরে এসে বিকেলে গেলাম সানসেট পয়েন্ট দেখতে। সাতশো পাহাড়ের দেশে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই বড় মনোরম। ওই সানসেট পয়েন্টে গিয়ে মনে হচ্ছিল চেনা পৃথিবী থেকে বহু দূরে কোন এক অচেনা সবুজ দ্বীপে আমরা এসে পড়েছি। ফেরার পথে সেলের গেস্ট হাউস, সরকারি বনবাংলো, মেঘাতুবুরু, স্থানীয় কিরিবুরু বাজার দেখে আমরা ফিরে এলাম।
পরের দিন ছিল বৃহস্পতিবার। ভোর বেলায় উঠে আমরা তিনজন মিলে হাঁটতে বেরোলাম। কিছুটা পথ এগোলেই শুরু হচ্ছে স্থানীয় মানুষ যারা স্টিল প্লান্ট কাজ করে তাদের সারিবদ্ধ কোয়াটার। একটা অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়ল। প্রত্যেকের বাড়ির সামনে গোবর দিয়ে নিকোনো। তার ওপর আতপ চালের অপূর্ব সুন্দর আলপনা। এক টুকরো গোবরের ওপর আলো চাল, ফুল, মিষ্টি, পদ্মফুল দিয়ে সাজানো। পাশেই জ্বলছে ধূপ ও প্রদীপ। বাড়ির মহিলারা ওই তীব্র ঠাণ্ডায় তেল হলুদ মেখে স্নান সেরে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্যস্ত। গোটা কলোনি জুড়ে বড় সুন্দর এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ। কিরিবুরুর চারপাশে প্রচুর ভেষজ গাছও রয়েছে। যেমন বনতুলসী, বাসক, নিম, বহেড়া, অড়হর, কারি পাতা ইত্যাদি। আমাদের ট্রেন ছিল বিকেলে। দুপুরে তাড়াতাড়ি লাঞ্চ সেরে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বড়া জামদার উদ্দেশে। সারান্ডার জঙ্গল থেকে ফিরে এলেও মনের মধ্যে সারান্ডা থেকে যাবে আজীবন।
