স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাবে বক্সা, জয়ন্তী!‌


আরণ্যক ঘোষ

বক্সায় নাকি নতুন বাঘিনী ছাড়া হচ্ছে। পর্যটকদের কাছে নিঃসন্দেহে খুশির খবর। কিন্তু যখনই শুনলাম, এর জন্য ওই এলাকার সমস্ত মানুষকে অন্যত্র সরে যেতে হবে, তখন মন কিছুটা ভারাক্রান্ত হয়ে এল।
আমি বেড়াতে ভালবাসি। মাঝে মাঝেই পাহাড় বা ডুয়ার্সে যাই। দশ–‌পনেরো দিনের লম্বা ছুটিও পাই না। তাছাড়া, বারবার লম্বা সফরে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই। এদিকে, ঘোরার ইচ্ছে ষোল আনা। তাই আমার পছন্দ তিন–‌চার দিনের ছোট ছোট সফর।

রাজাভাতখাওয়া আমার খুব প্রিয় একটি জায়গা। বেশ মনোরম পরিবেশ। কোনও বন্ধুর সঙ্গে আপন মনে ঘুরে বেড়াতে বেশ লাগে। জঙ্গল আছে, তবে খুব ঘন জঙ্গল নয়। দিনের বেলায় অন্তত হাতি বা চিতাবাঘ বেরোনোর ভয় নেই। তাই নিশ্চিন্ত মনে হেঁটে বেড়ানো যায়। সেই প্রান্তিক স্টেশনে অনন্তকাল বসে থাকা যায়। মাঝে মাঝেই অটো বা টোটোয় চড়ে চলে যেতাম জয়ন্তী বা সান্তালাবাড়ি।

বক্সা দুর্গ মানেই বেশ একটা গা ছমছমে ব্যাপার। এত আগে এই দুর্গম জায়গায় কারা এই দুর্গ বানিয়েছেন?‌ অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের এখানে এনে রাখা হত, ভাবতেই গায়ে কেমন যেন কাঁটা দেয়। বক্সার থেকেও অনেকটা উপরে থাকা সুন্দর গ্রাম লেপচা খা। পাহাড়ের উপর যে এত হাজার হাজার মানুষ বাস করেন, তা পাহাড়ে না উঠলে অজানাই থেকে যেত।

বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে তাঁরা এইসব এলাকায় আছেন। কিন্তু একটি বাঘিনী আসছে বলে সেই হাজার হাজার মানুষকে সেখান থেকে সরে যেতে হবে, এটা ভাবতেই কেমন লাগছে। জয়ন্তীর ওই ভাঙা রেল ব্রিজকে ঘিরে কত স্মৃতি। পায়ে হেঁটে মহাকাল যাত্রাও বেশ রোমাঞ্চকর। সব কি তবে হারিয়ে যাবে!‌ জয়ন্তী, বক্সায় আর নাকি থাকা যাবে না। এত এত মানুষকে সরিয়ে দেওয়ায় পর্যটনের বিকাশ হবে বলে মনে হয় না। নিশ্চয় ব্যঘ্র প্রকল্পের নিজস্ব কিছু প্রোটোকল আছে। কিন্তু এত প্রাচীন জনপদ এভাবে হারিয়ে যাবে, এটা ভাবতে সত্যি কষ্ট হচ্ছে।

Previous post একটি–‌দুটি নয়, একেবারে সাতশো পাহাড়ের দেশ
Next post ‌ব্রাজিল ম্যাচেও মুখ পোড়া সময়ের অপেক্ষা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *