জিতলেও জামানত বাজেয়াপ্ত হবে ‘‌প্রশাসক’‌ শুভেন্দুর

বিরাট জয় বললে কমই বলা হয়। শাসকের সেই বিরাট জয়ের পর বিরোধী শক্তিও ভেঙে চুরমার। মূল বিরোধী দল এখন শাসকেরই অনুগত। তৃণমূল সেই ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি। বাম বা কংগ্রেস কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে উঠলেও এখনও মূল বিরোধী হয়ে ওঠেনি। এখনই তারা কোনও নির্বাচনে জিতে যাবেন, এমনটা কল্পনা করা দিবাস্বপ্নের মতোই।

কিন্তু তারপরেও দুই উপনির্বাচনকে ঘিরে শাসকের যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্রকে যথেষ্ট সংকটেই ফেলে দিয়েছে। নন্দীগ্রামে যে বিজেপি বড় ব্যবধানেই জিতবে, এ নিয়েও সংশয় নেই। কিন্তু সেই বড় ব্যবধানকে আরও বড় করতে গিয়ে প্রশাসন যে ভূমিকা নিচ্ছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। কখনও তৃণমূল প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে হচ্ছে। কখনও কংগ্রেস প্রার্থীকে ১৯ বছরের পুরনো মামলায় জেলে ভরে দেওয়া হচ্ছে। এত তৎপরতার কোনও দরকারই ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী মাঝে একবার একলাখের হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন। কর্তা ধরে আনতে বললে পারিষদরা বেঁধে আনবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আগের জমানাতেও তাই হয়েছে। এই জমানাতেও তাই হচ্ছে। পুলিশ যেন অতি তৎপর। যেখানে জয় অনিবার্য, সেখানেও চলছে পুলিশের হুমকি সংস্কৃতি। কাউকে মিথ্যে মামলা, কাউকে পুরনো মামলায় জেল। কাউকে নিষ্ক্রিয় থাকার ফতোয়া।

রেজিনগরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা অন্যরকম। ধর্মীয় মেরুকরণে বিজেপি খানিকটা পিছিয়ে। তারপরেও সেই চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করে জেতার চেষ্টা করা যেতেই পারত। কিন্তু হুমায়ুন কবীরকে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তা স্বচ্ছ প্রশাসনের নমুনা হতে পারে না। হুমায়ুন যদি সাম্প্রদায়িক প্রচার করেও থাকেন, বিজেপির প্রচার তার থেকে অনেক বেশি নিন্দাজনক। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কথায় প্ররোচনা তার থেকে ঢের বেশি। এখানেও ভোটে জিততে হুমায়ুনের দলের লোকেদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রশাসনিক স্তর থেকে নানা প্রলোভন বা হুমকি তো আছেই। তৃণমূলের মতোই বিজেপিও নিজেদের সংগঠন নয়, পুলিশের ওপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একটা কেন্দ্রে যদি হুমায়ুন পুত্র জিততেন, কী এমন ক্ষতি হয়ে যেত!‌ সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় বিজেপি পিছিয়ে থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। এত ঘৃণা যখন ছড়িয়েছেন, এই অনাস্থাটুকু হজম করার দম নেই কেন?‌

এই উপনির্বাচন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ। জেতাটা বড় চ্যালেঞ্জ নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকবে কিনা, সেটা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথম চ্যালেঞ্জে হয়তো উতরে যাবেন (‌যদিও রেজিনগর নিয়ে সংশয় আছেই)‌। কিন্তু দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জে এর মধ্যেই হেরে বসে আছেন। ভয়মুক্ত ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি। ভোটের দিন সেই সন্ত্রাস আরও বাড়বে, এখনই হলফ করে বলা যায়। বিজেপি হয়তো জিতবে, কিন্তু প্রশাসক শুভেন্দুর বড় পরাজয় অনিবার্য। এই দেওয়াল লিখনটা এখনই পড়ে ফেলা যায়।

Previous post ‌ব্রাজিল ম্যাচেও মুখ পোড়া সময়ের অপেক্ষা
Next post হুমায়ুনের কাছে সব ‘‌মাস লিডার’‌কেই ম্লান মনে হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *