সৌম্যজিৎ চৌধুরি

আমার নামটা আপাতত গোপনই থাক। কারণ, নাম জানাজানি হয়ে গেলে সাংবাদিকরা পিছু নেবেন। কেউ জানতে চাইবেন, নতুন পরিবেশ কেমন লাগছে। কেউ জানতে চাইবেন, বক্সার জঙ্গলে পা দিয়েই প্রথম কী খেলাম। কেউ আবার মাইক্রোফোন মুখের সামনে ধরে বলবেন, ‘আপনি কি বক্সায় পর্যটন বাড়াতে এসেছেন?’

আরে বাবা, আমি বাঘ। আমার কি আর কোনও কাজ নেই? পর্যটন বাড়ানো, অর্থনীতি চাঙ্গা করা, হোমস্টের বুকিং বাড়ানো—এসবও কি এখন আমাকে দেখতে হবে?

বিহারের বাল্মিকী অরণ্যে দিব্যি ছিলাম। নিজের মতো ঘুরতাম, ফিরতাম। হঠাৎ একদিন দেখি, আমার চারপাশে হইচই। গাড়ি, লোকজন, ক্যামেরা। মনে হল, নিশ্চয়ই কোনও বড় শিকার সামনে পড়েছে। কে জানত, শিকারটা আসলে আমিই!

আমাকে নাকি বক্সায় নিয়ে যাওয়া হবে। বক্সা! নামটা শুনেই একটু আশ্বস্ত হয়েছিলাম। পাহাড় আছে, জঙ্গল আছে, নদী আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, বাঘ নেই। মানে, আমি না আসা পর্যন্ত ছিল না। বাঘ ছাড়া ব্যাঘ্র প্রকল্প—এমন একটা ব্যাপার। অনেকটা দাঁত ছাড়া বাঘের মতো। নামেই বাঘ, কাজে বাঘ নয়। এবার আমার কল্যাণে সেই আক্ষেপ ঘুচবে।

তবে একটা কথা বলি, আমাকে কেউ জিজ্ঞেসই করল না, আমি বক্সায় যেতে চাই কি না। গণতন্ত্রে নাকি মানুষের মতামতের খুব দাম। বাঘের মতামতের দাম কত, তা অবশ্য সংবিধানে লেখা নেই। থাকলে হয়তো জানাতে পারতাম, বিহারের জঙ্গল ছেড়ে বাংলার জঙ্গলে আসার আগে আমারও একটু মানসিক প্রস্তুতির দরকার ছিল।

তারপর একদিন খোদ মুখ্যমন্ত্রী এসে আমাকে ছেড়ে দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী! আমার মতো নিরীহ প্রাণীর জন্য এত বড় আয়োজন দেখে নিজেরই একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। মনে মনে ভাবলাম, হে বাঘেশ্বর, এ যে দেখি রাজকীয় ব্যাপার! আমার মতো বাঘের ভাগ্যে এমন সম্মান জুটল! কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল, সম্মানটা কি আমাকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি আমাকে দিয়ে অন্য কোনও সম্মান আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে?

সে যাকগে। বাঘের অত রাজনীতি বুঝে কাজ নেই। জঙ্গলে এসে প্রথমেই চারপাশটা একটু ঘুরে দেখলাম। নতুন জায়গা। নতুন গন্ধ। নতুন গাছপালা। অচেনা পথ। মনে মনে বললাম, বেশ, এখানেই এবার সংসার পাততে হবে। কিন্তু মুশকিল হল, আসার সঙ্গে সঙ্গেই রেডিও কলার না কী একটা সেঁটে দেওয়া হল। আমি কোথায় যাচ্ছি, কী করছি, সব নাকি ট্র‌্যাক করা যাবে। বোঝো কাণ্ড। আমার বুঝি প্রাইভেসি বলে কিছু থাকতে নেই!‌ সারাক্ষণ আমার গতিবিধির ওপর এত নজরদারি কেন?‌ আমি কি জঙ্গি নাকি?‌ কদিন পর আমার জন্য নাকি সঙ্গী আনা হবে। গোপনে একটু প্রেমালাপ করতেও পারব না?‌

জঙ্গলে ঢুকেই একটা খবর কানে এল। জয়ন্তী, বক্সা, লেপচাখার স্থানীয় বাসিন্দাদের নাকি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকরাও নাকি আর জয়ন্তীতে রাত কাটাতে পারবেন না। আমি তো শুনে থ! কেন ভাই? আমি কি বাঘ, না জমিদার? আমার জন্য মানুষকে ঘরছাড়া হতে হবে কেন?

বাঘের নাম শুনে মানুষের ভয় পাওয়ার একটা ইতিহাস আছে। সেটা অস্বীকার করছি না। আমার পূর্বপুরুষেরা কেউ কেউ যে মানুষের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতেন না, সে কথাও জানি। তবে সব বাঘ এক রকম হয় নাকি? মানুষের মধ্যেই তো কত রকমফের। কেউ সাধু, কেউ চোর, কেউ আবার সাধুর বেশে চোর। বাঘের মধ্যেও ব্যক্তিত্বের তফাত থাকতে পারে।

আমি তো এখনও কারও কোনও ক্ষতি করিনি। বক্সায় এসেছি সবে। শুনেছি, এখানে নাকি সরকার বদলেছে। তাতে অবশ্য আমার তেমন কিছু যায় আসে না। আমি তো ভোটার নই। তবে মানুষকে বিশ্বাস নেই। কোনদিন বলবে, বাঘেদের এসআইআর হবে। পূর্বপুরুষদের নিয়ে টানাটানি চলবে। বাবার নামের পদবী কী, মায়ের বাপের ঘরের পদবী কী। তারপর হঠাৎ বলবে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। কী জানি, হয়তো বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ফরমান জারি করবে। তবে আপাতত চিন্তা নেই। আপাতত আমিই ভিআইপি। আমাকে নিয়ে এখন নানারকমের আদিখ্যেতা চলবে।

পায়ে পড়ি বাঘমামা—এ কথা তো মানুষের বলার কথা ছিল। এখানে দেখি উল্টো ব্যাপার। আমারই যেন বলা উচিত, পায়ে পড়ি ভাই, আমাকে নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কোরো না! তারপর শুনলাম, এই বাঘ আসায় নাকি পর্যটন বাড়বে। এ তো ভারী মজার কথা।

আমি বনে থাকব, মানুষ দূর থেকে আমাকে দেখার আশায় আসবেন, হোটেল ভরবে, গাড়ি চলবে, দোকানে বিক্রিবাটা বাড়বে। আমার ছবি তুলে কেউ সামাজিক মাধ্যমে লিখবেন, ‘আজ জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা!’ আর কেউ যদি আমাকে দেখতে না পান, তা হলে লিখবেন, ‘বাঘ দেখলাম না, সব পয়সা জলে!’ এত সব দায়িত্ব আমার একার কাঁধে?

তারপর যদি কোনও দিন আমার মেজাজটা একটু খারাপ থাকে? ধরুন, সারারাত ঘুম হয়নি। পেটে খিদে। জঙ্গলের মধ্যে খাবার খুঁজছি। এমন সময় সামনে একটা মানুষ পড়ে গেলেন। আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তিনিও আমার দিকে তাকালেন। দুজনেই দুজনকে দেখে চমকে উঠলাম। আমি ভাবলাম, এ আবার কোথা থেকে এল! তিনি ভাবলেন, হায় ভগবান, বাঘ! তারপর যদি তিনি দৌড়তে শুরু করেন? আমিও যদি স্বভাববশত দৌড়ই? যদি ভুল বোঝাবুঝিতে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়? ব্যস! পরদিন কাগজের শিরোনাম—‘বাঘের হালুমে পর্যটনে ধস!’

সব দায় আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া কেন বাপু!‌ বাঘের এলাকায় বাঘ থাকবে, মানুষের এলাকায় মানুষ থাকবে—এই সীমানাটা দুই পক্ষেরই বোঝা দরকার। আর সেই বোঝাপড়ার ব্যবস্থা না করে শুধু বাঘ এনে পর্যটন বাড়ানোর স্বপ্ন দেখলে বিপদ আছে বইকি। কেননা, পর্যটকরা বাঘ দেখতে আসেন ঠিকই, কিন্তু বাঘের পেটে যেতে আসেন না।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমি মোটেই পর্যটনবিরোধী নই। বরং পর্যটন বাড়লে আমারও সুবিধে হতে পারে। জঙ্গলের রাস্তা ভালো হবে, জলাশয় পরিষ্কার হবে, বনরক্ষীদের নজরদারি বাড়বে। জঙ্গলের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আমারও স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। আমার এখন অনেক কাজ। এলাকার পথঘাট চিনতে হবে, কোথায় জল পাওয়া যায় জানতে হবে, কোন দিকে গেলে নিরিবিলিতে একটু বিশ্রাম মিলবে বুঝতে হবে। তার মধ্যে শুনছি, আমার জন্য নাকি মানুষের বসবাসে সমস্যা! যারা কয়েক পুরুষ ধরে এখানে আছেন, সেই স্থানীয় মানুষকে সরিয়ে দিলে তাঁরা যাবেন কোথায়? তাঁদের জীবিকা কী হবে? যে মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই জঙ্গলের সঙ্গে বসবাস করছেন, তাঁরা কি হঠাৎ করে জঙ্গলের শত্রু হয়ে গেলেন?

আমার পূর্বপুরুষেরা আমাকে একটা কথা শিখিয়ে গিয়েছেন। জঙ্গল শুধু গাছপালা আর জন্তুর নাম নয়। সেখানে হরিণ আছে, হাতি আছে, পাখি আছে, পোকামাকড় আছে। আর জঙ্গলের আশপাশে আছে মানুষও। তাদের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি, স্মৃতি—সব মিলিয়েই একটা অঞ্চল। সেই ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করে আমাকে একা বসিয়ে রাখলে লাভ কী?

আমাকে যদি বক্সায় আনার উদ্দেশ্য হয় বাঘের সংখ্যা বাড়ানো, তা হলে অবশ্যই ভালো কথা। বাঘ থাকা দরকার। জঙ্গলের বাস্তুতন্ত্রে তার ভূমিকা আছে। কিন্তু বাঘের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান, পর্যাপ্ত শিকার, নিরাপদ চলাচলের পথ, নিয়মিত নজরদারি—এসবেরও তো দরকার। শুধু একটা বাঘ ছেড়ে দিয়ে ব্যাঘ্র প্রকল্পের গায়ে বাঘের ছবি সেঁটে দিলেই তো আর সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না!

আরও শুনছি, আমার পরে নাকি আরও দুটো বাঘ আসবে। বাবা রে! এক রামে রক্ষে নেই, সুগ্রিব দোসর! আমি একা এসেই এত আলোচনা, এত আয়োজন, এত বিধিনিষেধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আরও দুজন এলে কী হবে? তখন কি আমাদের জন্য আলাদা পঞ্চায়েত বসবে? নাকি তিনজনের নামে তিনটে আলাদা পর্যটন প্যাকেজ চালু হবে? আগের মুখ্যমন্ত্রী নাকি নামকরণের ব্যাপারে বিখ্যাত ছিলেন। সুযোগ পেলেই যার তার নাম দিয়ে দিতেন। এই রোগগুলো কিন্তু খুব ছোঁয়াচে। নাম দেওয়ার সুযোগ পেলে কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। কী জানি, আমাদেরও হয়তো বিচিত্র সব নাম দেওয়া হবে। একেবারে ‘‌সনাতনী’‌ ছাপ্পা মারা নাম। বাঘ হওয়ার কত জ্বালা বলুন তো!‌ এক তো রেডিও কলার পরিয়ে দিলি। তারপর যা খুশি নাম দিয়ে দিবি!‌ আমাকে নিয়ে একটা কথা খুব চালু আছে, বাঘ, তুই ভাগ। যদিও এটা মানুষের বলার কথা। কিন্তু মানুষ যদি আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত আদিখ্যেতা করতে থাকে, তা হলে আমিই একদিন বলব, বাঘ তুই ভাগ! মানে, আমি নিজেই পালাব। এত ঝামেলা সহ্য করার চেয়ে অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়া ভালো।

তবে একটা সমস্যা আছে। আমাকে যদি আবার অন্য কোথাও নিয়ে যেতে চায়, তখন তো আর পালানোর উপায় নেই। আবার গাড়ি, আবার লোকজন, আবার ক্যামেরা। তার চেয়ে এখানেই থিতু হওয়া ভালো। যদি মানুষজন একটু বুঝেশুনে চলেন।

আর একটা কথা না বললেই নয়। আমার নামে এত হইচই হচ্ছে, অথচ আমার নিজের মতামত নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। একটা হরিণের মতামত নেওয়া হয় না, একটা হাতির মতামত নেওয়া হয় না, বাঘেরও হয় না। অথচ এই সব প্রাণীদের ঘিরেই তো বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের এত আয়োজন। মানুষ নিজেদের সুবিধেমতো জঙ্গলের মানচিত্র আঁকেন। কোথাও পর্যটনকেন্দ্র হয়, কোথাও রাস্তা হয়, কোথাও রিসর্ট হয়। তারপর একদিন মনে হয়, আরে, বাঘ তো নেই! তখন বিহার থেকে বাঘ নিয়ে আসতে হয়। আমি অবশ্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি না। আমি তো আর প্রেস কনফারেন্স করতে পারি না। রেডিওতে ‘‌মন কী বাত’‌ বলতে পারি না। আমার কথাগুলো আপনাদেরই বুঝে নিতে হবে।

শুধু একটা অনুরোধ, আমার নামে এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেবেন না, যা আমি রাখতে পারব না। আমাকে এনে পর্যটন বাড়ানোর স্বপ্ন দেখতেই পারেন। কিন্তু পর্যটক আসবেন কি না, সেটা নির্ভর করবে অনেক কিছুর ওপর। রাস্তা, যোগাযোগ, থাকার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, জঙ্গলের পরিবেশ—সব কিছুর ওপর। শুধু আমি একা কতটা জনপ্রিয় হলাম, তার ওপর নয়। আর আমার জন্য যদি স্থানীয় মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের জীবনযাপনে বাধা পড়ে, তা হলে সেটা যেন আমার ঘাড়ে না চাপানো হয়। আমি এখানে কাউকে তাড়াতে আসিনি। আমি এসেছি নিজের মতো করে বাঁচতে।

আপনারা মানুষ। আপনাদের বুদ্ধি আছে, আইন আছে, পরিকল্পনা করার ক্ষমতা আছে। আপনারা নিশ্চয়ই এমন ব্যবস্থা করতে পারবেন, যাতে বাঘও থাকে, মানুষও থাকে, পর্যটনও বাড়ে, জঙ্গলও বাঁচে।

শেষে একটা কথা বলি। মানুষের মুখে শুনেছি, ‘তুমি যে এ ঘরে কে তা জানত?’ আমাকে দেখে হয়তো অনেকেই এই প্রশ্ন করবেন। বক্সার জঙ্গলে কে এল, কোথা থেকে এল, কী তার পরিচয়—এসব নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু আমি চাই, একদিন মানুষ প্রশ্নটা একটু অন্যভাবে করুন। ‘বাঘটা এখানে এসে কেমন আছে?’ এই প্রশ্নের মধ্যেই আমার বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা লুকিয়ে আছে।

আমি ভালো থাকলে জঙ্গল ভালো থাকবে। জঙ্গল ভালো থাকলে হরিণ থাকবে, পাখি থাকবে, হাতি থাকবে। আর জঙ্গল ভালো থাকলে মানুষও তার সুফল পাবে। পর্যটনও তখন আপনাআপনি বাড়তে পারে।

তাই পায়ে পড়ি বাঘমামা বলে আমাকে তুষ্ট করার দরকার নেই। আমার নামে বড় বড় পোস্টারও ছাপতে হবে না। শুধু জঙ্গলটাকে জঙ্গল থাকতে দিন। তার ভিতরে থাকা প্রাণীদের বাঁচতে দিন। আর জঙ্গলের পাশে থাকা মানুষগুলোকেও তাঁদের মতো করে বাঁচার সুযোগ দিন।

আমি কথা দিচ্ছি, অকারণে কাউকে ভয় দেখানোর কোনও ইচ্ছে আমার নেই। তবে একটা কথা মনে রাখবেন—আমি বাঘ। আমারও আত্মসম্মান আছে। আমাকে সার্কাসের বাঘ বানিয়ে ফেলবেন না যেন!

আর হ্যাঁ, পর্যটকদের বলবেন, আমাকে দেখতে এলে একটু ধৈর্য ধরতে। আমি কোনও সিনেমার নায়ক নই যে ডাক দিলেই ক্যামেরার সামনে হাজির হব। আমি কখনও ঝোপের আড়ালে থাকব, কখনও দূরের পাহাড়ে চলে যাব, কখনও হয়তো সারাদিন ঘুমোব। তাতে রাগ করবেন না।

আমাকে দেখতে না পেলে জঙ্গল দেখবেন। পাখির ডাক শুনবেন। গাছের ছায়ায় বসবেন। নদীর জল দেখবেন। হয়তো বুঝতে পারবেন, জঙ্গলের সৌন্দর্য শুধু বাঘের গায়ে ডোরাকাটা দাগে আটকে নেই।

আর যদি কোনও দিন সত্যিই আমার মুখোমুখি হয়ে যান, তা হলে দয়া করে আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে যাবেন না। আমার অটোগ্রাফেরও প্রয়োজন নেই আপনার। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বনকর্মীদের নির্দেশ মেনে চলবেন। আপনারা আপনাদের মতো বাঁচুন, আমাকেও আমার মতো বাঁচতে দিন।

কারণ, বক্সায় বাঘ ফিরেছে—এই খবরটা যেন একদিন সত্যিই আনন্দের খবর হয়ে ওঠে। মানুষের উৎখাতের, আতঙ্কের কিংবা দুর্ঘটনার খবর নয়।

ইতি,

বক্সার নবাগত বাঘমামা।

Previous post হুমায়ুনের কাছে সব ‘‌মাস লিডার’‌কেই ম্লান মনে হয়
Next post বেঙ্গল টাইমস। ই ম্যাগাজিন। ১ অক্টোবর সংখ্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *