কোনটা গর্বের আর কোনটা লজ্জার, এই বোধ টুকুও নেই!

রক্তিম মিত্র
ভোটের বাজারে সবকিছুই কেমন যেন গুলিয়ে যায়। যে যা পারছেন, দাবি করে বসছেন। কেউ কেউ আবার প্রবল উৎসাহে হুংকার ছেড়ে যাচ্ছেন। একেবারে উঁচু থেকে নিচু, অবান্তর কথায় বিশেষ ফারাক নেই।

যেমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। গ্যারান্টি দেওয়ায় তাঁর কোনও বিকল্প নেই। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নানা গ্যারান্টি দিয়ে চলেছেন। প্রতিবারই ভোটের সময় নিয়ম করে আসেন আর হুংকার দেন এবার সারদার অপরাধীদের জেল হবেই। সেই 2016 থেকে এই ভাঙ্গা রেকর্ড শুরু হয়েছে। কত নির্বাচন পেরিয়ে গেল, কত বছর পেরিয়ে গেল, এখনও এই ভাঙা ভাঙ্গা রেকর্ডের কোনও বিরাম নেই।

এবার নতুন যোগ হয়েছে আরজি কর। অভয়ার মাকে পাশে বসিয়ে ঘোষণা করলেন, এবার আরজি করের ফাইল খোলা হবে। অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে। প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, আর জি করের ফাইল এতদিন কাদের হাতে ছিল? মর্মান্তিক সেই ঘটনার তিন চারদিন পরেই তদন্তের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল সিবিআই এর হাতে। কার্যত অশ্ব ডিম্ব প্রসব করা ছাড়া সিবিআই আর কিছুই করেনি। তাদের তদন্তের যা নমুনা, এই রাজ্যের সিভিক ভলেন্টিয়াররা, তার থেকে ঢের ভাল তদন্ত করতেন। সিবিআইয়ের তদন্তে তো কোন পাকিস্তান বা জঙ্গিরা বাধা দেয়নি। বিজেপির ভক্তরা মাঝে মাঝেই বলে থাকেন, তদন্তে প্রমাণ লোপাট হয়েছে। সেই প্রমাণ লোপাট কারা করল, সবাই জানে। শুধু সি বি আই জানেন। যারা প্রমাণ লোপাট করল, তারা অন্তত একটা ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিল, তাদের কিছুই হবে না। সিবিআই তাদের স্পর্শ করতে পারবেনা। দেখা গেল, সেই দুর্বৃত্তদের অনুমানই সত্যি। সিবিআই কার্যত কিছুই করল না। এই অভিযোগও শুধু বিরোধীদের নয়। বরং তিনি যার হয়ে প্রচার করতে এলেন, অভয়ার মায়ের। এখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মঞ্চে হুংকার দিচ্ছেন, ফাইল খোলা হবে। নিজের ব্যর্থতাকে এভাবে উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে ভাল আর কেউ করতে পারেন না।

এবার তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বেশ কয়েক মাস ধরে হুংকার দিয়ে আসছেন, এই রাজ্যে কোটি কোটি অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। তার জন্য দায়ী করছেন বর্তমান সরকারকেই। বর্ডার সামলানো কাদের দায়িত্ব, সেটাই মাঝে মাঝে গুলিয়ে যায়। যদি সত্যিই কোটি কোটি অনুপ্রবেশকারী ঢুকে থাকেন, সবার আগে তো এমন কীর্তিমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করা উচিত। নিজের ব্যর্থতা নিজেও বোঝেন না! কখনও মতুয়াদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, একজন মতুয়ার নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না। অথচ বাদ যাওয়া মতুয়াদের সংখ্যা লক্ষাধিক। কয়েক মাস আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকেও কি বেমালুম ভুলে গেলেন।

এবার ভক্তদের কথায় আসা যাক। তাঁরা নিশ্চিত, এবার বিজেপির সরকার হচ্ছে। এমনকি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও আসে, তবু কোনও চিন্তা নেই। কারণ শ্রীমান অমিত শাহ আছেন। ১২০ আসন পেলেও বাকি প্রায় ৩০ খানা আসন জোগাড় করা নাকি কোনও ব্যাপারই নয়। তিনি নাকি ৩০ জন এম এল এ কে কিনে নেবেন। আহা, কী গর্বের কথা! দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, টাকা দিয়ে বিরোধী বিধায়কদের কিনে নেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পর্কে কী চমৎকার শ্রদ্ধা! এমন প্রশংসা শুনে অমিত শাহ গর্বে আপ্লুত হতেই পারেন, কিন্তু এটা যে তাঁকে প্রকারান্তরে ডাকাত বলা হল, এটুকু বোঝার বুদ্ধি, তাঁর অন্তত নেই।

Previous post এস আই আরে ব্যর্থ, ভোট গ্রহণে সফল নির্বাচন কমিশন
Next post বামেরা জিতবেন? বাঙালি এখনও এতটা সাবালক হয়নি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *