অজয় কুমার
অনেকদিন আগেই তিনি চলে গেছেন অবসরের দুনিয়ায়। তবু হঠাৎ করেই আবার তাঁর নামটা ভেসে উঠল। টেনে আনলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। বলে ফেললেন, জাস্টিস চন্দ্রচূড় তো এই মামলা খারিজ করে দিয়েছিলেন। নতুন প্রধান বিচারপতির রায়ে এত এত মানুষের চাকরি চলে গেল।
মুখ্যমন্ত্রীর একটা আইনের ডিগ্রি আছে। তিনি নিজেকে আইনজীবী বলতে বেশ গর্ববোধ করেন। যদিও তাঁর কথাবার্তা শুনে মনে হয় না, আইন সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা আছে। এমন আজগুবি সব কথা বলেন, আইনে যার ব্যাখ্যা মেলে না। ২৬ হাজার শিক্ষকের কর্মহীন হওয়ার পেছনে নিজের ভূমিকার সাফাই দিতে গিয়ে যাঁর যাঁর নাম মনে পড়ল, বলে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, সবাই দায়ী, একমাত্র তাঁরই কোনও দোষ নেই।
প্রথমত, জাস্টিস চন্দ্রচূড় এই মামলা মোটেই খারিজ করেননি। তিনি সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। সব মামলা যেভাবে তারিখ পে তারিখ হয়, এক্ষেত্রেও তারিখের পর তারিখ দিয়ে সরকারকে স্বস্তি দিয়েছিলেন। চন্দ্রচূড় সাহেবের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর আস্থা থাকারই কথা। আরজি কর কাণ্ডের মতো ঘটনাকে যেভাবে তিনি সামাল দিলেন, এতপর কৃতজ্ঞতা থাকারই কথা। হাইকোর্টের মামলাকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিজের কাছে টেনে নিলেন। তারপর সেই তারিখ পে তারিখ। নিরন্তর ঝুলিয়ে গেলেন। আস্ত একটি অশ্বডিম্ব প্রসব করে বিদায় নিলেন। তাঁর অধিকাংশ রায়ই হয় কেন্দ্রকে, নতুনবা রাজ্যকে স্বস্তি দেওয়ার রায়। বিরাট কোনও কেলেঙ্কারি থেকে আড়াল করার রায়। সে রামমন্দিরের মামলাই হোক বা সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলা। কোথাও তিনি অতি তৎপর। আবার কোথাও তিনি হাঁটেন শম্বুক গতিতে।
এই মামলায় তিনি শিক্ষকদের প্রতি মানবিক ছিলেন, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তিনি মানবিক ছিলেন সরকারকে স্বস্তি দিতে। ভালই হল, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর নাম টেনে আনলেন। বুঝিয়ে দিলেন কৃতজ্ঞতার কথা। দুই প্রধান বিচারপতির ফারাক কতটা, সেটাও তিনিই বুঝিয়ে দিলেন।
অনেকদিন চন্দ্রচূড়বাবু শিরোনামে নেই। আমরা আপাতত তাঁর বড়সড় পোস্টিং কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে আছি।
