এবার নতুন বৃত্তের সন্ধানে নীরজ

সোহম সেন
সেই কবে থেকে একটা প্রশ্নই তাড়া করছে নীরজ চোপড়াকে। নব্বই মিটার কবে হবে?‌ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা পাওয়ার পরও এই প্রশ্নটার কোনও বিরাম নেই।

এশিয়ান গেমন আর কমনওয়েলথ গেমস। এই দুই মহাযজ্ঞে সোনা এসে গেছে অন্তত বছর পাঁচেক আগেই। টোকিও অলিম্পিকের সোনাও বছর দুই হয়ে গেল। বাকি ছিল আর দুটো বড় মাইলস্টোন। ডায়মন্ড লিগ ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। ডায়মন্ড লিগে সোনার পাট গতবছর চুকিয়ে দিয়েছিলেন। নীরজের ট্রফি ক্যাবিনেটে একটাই অসম্পূর্ণতা ছিল। তা হল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা। এবার সেটাও এসে গেল।

গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্রানাডার অ্যান্ডারসন পিটার্স কোয়ালিফাইং রাউন্ডেই ছিটকে গেছেন। কিন্তু তারপরেও লড়াইটা খুব সহজ ছিল না। চেক প্রজাতন্ত্রের জ্যাকুব ভাদলেচ বা জার্মানির জুলিয়ান ওয়েবার ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছিলেন। সবাইকে চমকে দিয়ে পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম নিয়ে গেলেন রুপো। জ্যাভেলিনেও এবার ভারত–‌পাক লড়াইয়ের আবহ।

সোনা জয়ের পর হরিয়ানার যুবকের মনে হতেই পারে, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। কিন্তু বুঝিয়ে দিলেন, পা আছে বাস্তবের মাটিতেই। তাই জানালেন, জ্যাভেলিন এমন একটা খেলা, যেখানে ফিনিশিং লাইন বলে কিছু হয় না। হ্যাঁ, এই একটা সোনা কখনও পাইনি। একটা প্রত্যাশা তো ছিলই। কিন্তু শুধু প্রত্যাশাটাই তো যথেষ্ট নয়। দরকার ছিল নিবিড় প্রস্তুতি। যদি ভেবে নিই, সব ট্রফি পাওয়া হয়ে গেল, তাহলেই মুশকিল। বরং, এখন এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার সময়। এখনও সামনে এশিয়ান গেমস, ডায়মন্ড লিগের ফাইনাল। আর পরের বছরই অলিম্পিক। একদিকে ধারাহবাহিকতা বজায় রাখা, অন্যদিকে নিজেকে চোটমুক্ত রাখা, এই দুটোই বড় চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু নব্বই মিটার। ওই মাইলস্টোন কবে অতিক্রম করবেন?‌ নীরজের কথায়, ‘‌গত বছর প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেই গিয়েছিলাম। ৬ সেন্টিমিটার বাকি থেকে গিয়েছিল। এই বছর চোটের জন্য কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলাম। এখনও পুরোপুরি সুস্থ নই। তার মাঝেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এল। আর নব্বই মিটার!‌ ওটাও যে কোনও দিন এসে যাবে। কবে আসবে, আমি নিজেও জানি না। কারণ, বারবার ৯০ মিটার শব্দ দুটোকে তাড়া করতে চাই না। ওই মাইলস্টোনের কথা ভেবে নিজেকে অহেতুক চাপে ফেলতেও চাই না। যেদিন হওয়ার, ঠিক হয়ে যাবে।’‌

বোঝাই যাচ্ছে, বয়স ২৫ বছর হলেও বেশ পরিণত। অলিম্পিক!‌ সেই ভাবনাকেও আপাতত সরিয়ে রাখছেন। আবার ফোকাস সেই এশিয়ান গেমসে। এই পদক জেতা হয়ে গেছে পাঁচ বছর আগেই। দ্বিতীয়বারের হাতছানি। আসলে, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। নতুন বৃত্তটাকে নতুন করে শুরু করতে চান পানিপথের যুবক।

Previous post ক্রীড়া দিবসের জন্য এর থেকে ভাল দিন কী হতে পারত!‌
Next post যে কোনও জোট ভেস্তে দিতে তৃণমূল একাই যথেষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *