হায় রে!‌ আই এফ এ–‌র সংবিধানই বদলে ফেলতে হল!‌

রজত সেনগুপ্ত
মুখ্যমন্ত্রীর দাদার খেয়াল বলে কথা। তাঁর ইচ্ছে হয়েছে, তিনি আই এফ এ সভাপতি হবেন। কার সাধ্য সে ইচ্ছায় বাধ সাধে!‌ অতএব, আই এফ এ–‌ সংবিধানটাই বদলে ফেলা হচ্ছে। যেন মুখ্যমন্ত্রীর দাদাকে আই এফ এ–‌র সভাপতি করা যায়।

আর কোনও জটিলতা রইল না। ঠিক হয়ে গেল, মুখ্যমন্ত্রীর দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় হবেন আই এফ এ–‌র সভাপতি। আর এখনকার সভাপতি সুব্রত দত্ত হবেন আই এফ এ–‌র চেয়ারম্যান। এই চেয়ারম্যান পদটি নতুন তৈরি হচ্ছে। যদিও গভর্নিং বডিতে তা অনুমোদন করতে হবে। কিন্তু তার আগেই দিব্যি ঘোষণা হয়ে গেল। ধরে নেওয়াই হয়েছে, গভর্নিং বডির কোনও সদস্যই এসব নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলবেন না।

ajit banerjee

কয়েকদিন আগেই সভাপতি হওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর দাদা। ইদানীং তিনি যা ইচ্ছেপ্রকাশ করছেন, তাই হয়ে যাচ্ছে। তাঁর ইচ্ছে হয়েছিল, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হবেন। কিন্তু ভোট হলে জিতবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই আগের সভাপতিকে নির্বাচন থেকেই সরিয়ে দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের ইচ্ছে হল, তিনি রাজ্যের হকি অ্যাসোসিয়েশনের সচিব হবেন। হয়ে গেলেন। তারপর ইচ্ছে হল বিওএ–‌র সচিব হবেন। হয়ে গেলেন। দুই ভাইয়ের ইচ্ছে হল, কমনওয়েলথ গেমস দেখতে যাবেন। বাংলা থেকে কোনও পুরুষ খেলোয়াড় না গেলেও দুই কর্তা হিসেবে তাঁরা চলে গেলেন। ভাইয়ের ইচ্ছে হল, মোহনবাগানের ফুটবল সেক্রেটারি হবেন। হয়ে গেলেন।

এবার দাদার ইচ্ছে হল, আই এফ এ সভাপতি হবেন। তাও প্রায় হয়েই গেলেন। কোনদিন ভাইয়ের হয়ত ইচ্ছে হবে, সিএবি–‌র সেক্রেটারি হতে। কী বললেন?‌ নিয়ম নেই। ধুর মশাই, কিছুই বোঝেন না। দাদা ও ভাইয়ের ইচ্ছেটাই শেষ কথা। তাঁদের ইচ্ছে হলে আইন বদলে যাবে।

Previous post হাতিকে বোকা বানানো এতই সহজ!‌
Next post রাজকুমারের মৃত্যু ও কিছু অপ্রিয় প্রশ্ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *