রেজ্জাক সাহেব, এটাই আপনার সঠিক ঠিকানা

নন্দ ঘোষের কড়চা

মাঝে কিছুটা বিরতি। আবার ফিরে এলেন নন্দ ঘোষ। এতদিন সবাই তাঁর দোষ ধরে এসেছে। এবার তিনি বেরিয়েছেন অন্যের দোষ ধরতে। একেকদিন তাঁর শিকার একেকজন। আজ তিনি কলম ধরলেন রেজ্জাক মোল্লাকে নিয়ে।

nanda ghosh logo
রেজ্জাক সাহেবের মনের সাধ এতদিনে পূর্ণ হতে চলেছে। এতদিনে তিনি মনের মতো দল খুঁজে পেয়েছেন।
সিপিএমে থাকাকালীন তিনি বারবার বলেছিলেন, ‘কাঁচা চুলের মদ্দ ছেলি চাই’। কম বয়সী কাঁচা চুলের ছেলে সিপিএমে অনেক আছে। ঋতব্রত, শতরূপ, সায়নদীপ, দেবজ্যোতি। কিন্তু তারা রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনাও করে। এমন ছেলে রেজ্জাক সাহেবের পছন্দ নয়। তাঁর চাই ‘মদ্দ ছেলি’।
রেজ্জাক সাহেব সিপিএমে থাকাকালীন আরও বলেছিলেন, দল সংখ্যালঘুদের গুরুত্ব দেয় না। সিপিএমে মহম্মদ সেলিম আছেন, আনিসুর রহমান আছেন, রেজ্জাক সাহেব নিজে ছিলেন। কিন্তু এঁরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন না। এমন সব নেতিয়ে পড়া সংখ্যালঘু নেতাদের রেজ্জাক সাহেবের পছন্দ নয়। তাঁর চাই তাজা সংখ্যালঘু নেতা।
শোনা যাচ্ছে, রেজ্জাক সাহেব তৃণমূলে যোগ দেবেন। তৃণমূলও তাঁকে দলে চায়। কিন্তু তৃণমূলে ব্যানার্জি, চ্যাটার্জি, মুখার্জি, রায়, মিত্র, বসু, গুপ্ত, বিশ্বাস ভর্তি। সংখ্যালঘু মুখের বড়ই অভাব। তাছাড়া, তাঁদের কারও বয়স পঞ্চাশের কম নয়।
এমন দলে যোগ দিলে রেজ্জাক সাহেবের মুখ পুড়তে পারে। তাই তৃণমূল নেতৃত্ব আরাবুলকে দলে ফিরিয়ে নিল। তিনি সংখ্যালঘু, তিনি তাজা, কাঁচা চুলের মদ্দ ছেলি। তিনি ঋতব্রত, শতরূপদের মতো লেখাপড়া করেন না। বরং অধ্যাপিকাকে জগ ছুঁড়ে মারেন। শুধু অধ্যাপিকা কেন, নিজের দলের সহকর্মীকেও হামলা করতে ছাড়েন না। এমন ‘মদ্দ ছেলি’কে রেজ্জাক সাহেবের পছন্দ হবেই। ঋতব্রতকে রাজ্যসভায় পাঠানোয় রেজ্জাক সাহেবের খুব গোঁসা হয়েছিল। তিনি নিশ্চয় তাঁর নতুন দলকে বলবেন, আরাবুলকে রাজ্যসভায় পাঠাতে।

rejjak

রেজ্জাকসাহেব বুদ্ধবাবুকে বলেছিলেন, হেলে ধরতে পারে না। কেউটে ধরতে গেছে। তাই রেজ্জাক সাহেব বুদ্ধবাবুকে ছেড়ে এমন নেত্রীর কাছে গেছেন, যাঁর ঝাঁপিতে আরাবুল, মনিরুল, কেষ্টা প্রভৃতি অনেক কেউটে, গোখরো আছে। এই কেউটেদের ছোবলে কেমন বিষ, সে তো রেজ্জাক সাহেব ভালই জানেন। এই কেউটেদের ছোবলেই তো বছর দেড়ের আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।
দেরি করবেন না রেজ্জাক সাহেব, দেরি করবেন না। অবিলম্বে এই ‘মদ্দ ছেলি’দের দলে যোগ দিন। এটাই আপনার উপযুক্ত দল।

(এই লেখাটি লিখেছেন রবি কর। আপনিও হয়ে উঠতে পারেন নন্দ ঘোষ। সমসাময়িক কোনও ঘটনাকে নিয়ে বা কোনও চরিত্রকে নিয়ে আপনিও লিখুন। লেখা পাঠানোর ঠিকানাঃ bengaltimes.in@gmail.com)

Previous post নাটোরের বনলতা নয়, আমাদের সুচিত্রা সেন !
Next post রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *