সরল বিশ্বাস
খুব ছোটবেলা থেকেই একটি কথা শুনে আসছি। মানুষের সমস্যার কথা বিধানসভায় তুলে ধরব। যিনিই ভোটে দাঁড়াতেন, তিনিই এমন একটা আশ্বাস দিতেন।
আবার বিধায়ক বিধানসভায় ভাষণ দিয়েই এলাকায় ফিরে দাবি করতেন, আপনাদের সমস্যার কথা বিধানসভায় জানিয়েছি।
প্রশ্ন হল, বিধানসভায় এসব বলে কতখানি লাভ হত? সমস্যা কি আদৌ মিটত? নাকি সমস্যা যে তিমিরে, সেই তিমিরেই থেকে যেত?
বিধানসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল উল্লেখ পর্ব। বা মেনশন আওয়ার। প্রশ্নোত্তর পর্বের পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা এই পর্ব চলে। বিধায়করা নিজের নিজের এলাকার কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সেই দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা। মন্ত্রী তাঁর দপ্তরের সচিবকে বা অন্যান্য অফিসারদের বলবেন বিষয়টি খোঁজ নিতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
কিন্তু সব তো নিয়মমাফিক হয় না। তাই একটা সময় শিথিলতা আসে। বিধায়ক যথারীতি বলতেন। মন্ত্রী যথারীতি সভায় অনুপস্থিত থাকতেন। বিধায়কের দাবি মন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছোতো না। আগে তবু এইসব দাবিদাওয়ারকথা কাগজে বেরোতো। ইদানীং কাগজ থেকে এই বিষয়টা কার্যত ব্রাত্য হয়ে গেছে। কে কী দাবি তুলছেন, জানাও যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বিধানসভায় উল্লেখ পর্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। সচিবালয় যেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে বিধায়কের দাবি পাঠিয়ে দেন, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় মন্ত্রীকে বলা হয়েছে, দ্রুত বিষয়টি দেখতে এবং অগ্রগতির কথা সেই বিধায়ককে চিঠি লিখে জানাতে। বিধায়কের দাবির একটি প্রতিলিপি তাঁর অধীনস্থ সিএমও–তেও পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, সেই দাবির কতটা কার্যকর হল, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ও তদারকি করবে।
নিঃসন্দেহে সাধু উদ্যোগ। এতে বিধায়কদের যেমন উৎসাহ বাড়বে, তেমনই তাঁদের তোলা বিভিন্ন দাবি উপযুক্ত গুরুত্ব পাবে, আশা করাই যায়। সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় বিধানসভার ছবি খুব একটা উজ্জল হয়নি। এমনকী অনেকক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমন কিছউ মন্তব্য করেছেন বা হুঙ্কার দিয়েছেন, যা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলাটা শোভনীয় নয়। কিন্তু এই পদক্ষেপ বিধানসভার মর্যাদা কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনবে। বিধানসভা যেন হল্লাবাজির আখড়া না হয়ে ওঠে, সেটা দেখা সকলের কর্তব্য। এক্ষেত্রে শাসকের দায় ও দায়িত্ব সবসময়ই বেশি। নানা কারণে উল্লেখ পর্ব তার গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছিল। অবশেষে উল্লেখ পর্বের গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাকে স্বাগত।
