সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটিয়ে উঠছে নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেটের হাত ধরেই ফিরে আসছে জীবনের মূলস্রোতে। কীভাবে সম্ভব হল এই ঘুরে দাঁড়ানো ? অজনা সেই কাহিনীই তুলে আনলেন মৌতান ঘোষাল।
দু’দশক আগে যে ছবিটা দেখা যেত ক্যারিবিয়ান দিপপুঞ্জে’র ছোট ছোট দেশগুলোতে, সেটাই এখন চেনা ছবি নিউজিল্যন্ডের। সমুদ্র সৈকতে জমিয়ে চলছে বিচ ক্রিকেট। বিশ্বকাপ জ্বরে এতটাই কাবু গোটা দেশ যে নিজেদের প্রধান খেলা রাগবি ভুলে তাঁরা মেতে উঠেছেন ক্রিকেটে। সবকটি বিচেই প্রায় একই ছবি, স্বপরিবারে ক্রিকেট খেলছে পুরো নিউজিল্যান্ড। ১৯৯২ এর পর আবার তাঁদের দেশে বসেছে ক্রিকেট বিশ্বযুদ্ধে’র আসর। আর সেই আনন্দকেই চুটিয়ে উপভোগ করছেন দেশবাসী। নিউজিল্যান্ডে হতে যাওয়া ম্যাচগুলি’র মোট ৪লক্ষ টিকিটের মধ্যে ৩ লক্ষই বিক্রি হয়ে গেছে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই। বিশ্বকাপ ঘিরে তাঁদের উৎসাহের পারদ চড়ছে সময়ের সঙ্গে। হবে নাই বা কেন! খুব খারাপ সময় কাটিয়ে বহুদিন পর আবার কোনও বড় খেলার আসরের মুখ দেখছে ক্রাইস্টচার্চের মত শহরগুলো।
২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল দেশের দ্বিতীয় বড় শহর ক্রাইস্টচার্চ। প্রাণহানী’র সংখ্যা ১৮৫। সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি। দিনটা আজও বিভিষিকা দেশবাসী’র কাছে। এমনিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলার কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় বরাবরই ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ নিউজিল্যান্ড। ছোটখাটো ভূমিকম্পের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থাকে প্রশাসন। কিন্তু সে’দিনটা’র জন্য বোধহয় কোন প্রস্তুতিই যথেষ্ট ছিলনা। বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়ে দেশ। রাগবি বিশ্বকাপের ম্যাচ তড়িঘড়ি সরিয়ে দিতে হয় ক্রাইস্টচার্চের মত দুর্ঘটনাগ্রস্থ এলাকা থেকে।
এরপর দীর্ঘ সময় লেগেছে সবকিছু আগের মতো হতে। আস্তে আস্তে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেও লেগে গেছে প্রায় দু-তিনটে বছর। সেই দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ওঠার পর এই আবার কোনও বড় প্রতিযোগিতা’র আসর দেশে। তাই এই বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তি উৎসাহ তো থাকবেই দেশজুড়ে। এই বিশ্বকাপ যে নিউজিল্যান্ডের মানুষদের কাছে প্রকৃতি’র সঙ্গে অসম লড়াইয়ে জয়ের পর ঘুরে দাড়ানোর প্রতীক। মানব সভ্যতার অহংয়ের জয়গান।

