অরিত্র দাস
পুজোয় যেমন ছিল নতুন জামাকাপড়, তেমনি পুজো মানে ছিল পুজো সংখ্যাও। অধিকাংশ শিক্ষিত বাঙালির ঘরেই কোনও না কোনও পুজো সংখ্যা নেওয়া হত। কোনও কোনও বাড়িতে একাধিক পুজো সংখ্যাও দেখা যেত।
কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চেনা ছবিটা যেন বদলে গেছে। এখন পুজো সংখ্যা যেন লুপ্তপ্রায় এক প্রজাতি। অধিকাংশ ঘরেই এখন আর পুজো সংখ্যা দেখা যায় না। কারণ হিসেবে বলা হয়, এখন নাকি আর পড়ার সময় নেই। সত্যিই কি এখন আমরা সবাই বিরাট ব্যস্ত হয়ে পড়েছি?
চারপাশে তাকিয়ে দেখলে এমনটা তো মনে হয় না। দিব্যি সারা দিন লোকে ফোনে মুখ গুঁজে আছে। তরুণ প্রজন্মকে একা দায়ী করে লাভ নেই। মাঝবয়সী, এমনকী বয়স্করাও ফোনেই মগ্ন। গৃহবধূরাও কিন্তু ফাঁক পেলেই বিরাট একটা সময় কাটান ফোনের সঙ্গেই। এতই যদি ব্যস্ততা, তাহলে ফোন হাতে দিনে সাত–আট ঘণ্টা কাটানোর সময় পাওয়া যায় কীভাবে?
আসলে, আমরা পড়তে ভুলে গেছি। আসলে, আমাদের ধৈর্য তলানিতে এসে ঠেকেছে। এক পাতা পড়ার জন্য যে মনোযোগ দরকার, সেটুকুও আমাদের নেই। অথচ, এই সহজ সত্যিটা স্বীকার করার মতো সৎসাহস টুকুও নেই। শুধু তাই নয়, অন্য কেউ কথা বললে, দু মিনিট সেই কথা শোনার শিষ্টাচার টুকুও নেই। তার মাঝেই পাঁচ বার ফোন ঘাঁটতে হবে।
কিন্তু শুধু নিরাশা দিয়ে তো জীবন চলে না। যে সু অভ্যেস আমরা হারিয়ে ফেলেছি, আমাদেরই তা ফিরিয়ে আনতে হবে। এই পুজো থেকেই না হয় সেই অভিযান শুরু হোক। এবার পুজোর আগে অন্তত একটা করে পুজো সংখ্যা কিনুন। যেটা খুশি। পুরোটা পড়তে হবে না। আপনার যেসব লেখা পছন্দ, সেগুলোই পড়ুন। যদি দশটা লেখাও পড়তে পারেন, সেটাও জানবেন বিরাট প্রাপ্তি। জানবেন, আপনার ভেতর থেকে হারিয়ে যাওয়া মানুষটাকে কিছুটা হলেও খুঁজে পেলেন।
