তিনহাজারি ভাণ্ডার সবাই কেন পাবেন?‌

সজল মুখার্জি

গ্রাম গঞ্জে অনেক মহিলাই ক্ষুব্ধ। কারণ, অনেকের নাম নাকি অন্নপূর্ণা যোজনায় কাটা গিয়েছে। অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

কিন্তু আমার মনে হয়, সরকারি অপ্রিয় হলেও সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। যাঁর স্বামী আশি হাজার টাকা মাইনে পান, তাঁর স্ত্রীকে বা মেয়েকে কেনই বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হবে?‌ যাঁর তিন তলা বাড়ি, বাড়িতে তিনটে এসি মেশিন, দুটো চার চাকা গাড়ি, তাঁরাও কী অবলীলায় লক্ষ্মী ভাণ্ডার নিয়ে এসেছেন। তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন। এভাবে সরকারি অনুদানে ভাগ বসাতে নেই, এই আত্মসম্মান বোধটুকুও তাঁদের ছিল না।

স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি বা আশা কর্মীরাও অপ্রিয় হতে চাননি। তাই সবার নামের তালিকাই পাঠিয়ে দিতেন। কার আর্থিক অবস্থা কেমন, তার যথার্থ অনুসন্ধান হয়নি। এবার সরকার যে সীমিত সংখ্যক মহিলাকে এই সুবিধা দিচ্ছেন, এটা সত্যিই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এমনিতেই সরকারি ভাণ্ডারে তেমন অর্থের জোগান নেই। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ থমকে আছে। অর্থের অভাবে যথার্থ কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তার ওপর যদি এই খয়রাতি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে রাজ্যের অর্থনীতি আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। যাঁদের সত্যিই সরকারি সাহায্য দরকার, সরকার শুধু তাঁদেরই সাহায্য করুক। শুধু তাই নয়, যাঁদের সরকার আর্থিক সাহায্য করছে, তাঁদের কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাও ভেবে বের করুন। বিনা পরিশ্রমে অর্থদান সেই মহিলাদের জন্যও সম্মানজনক নয়।

ভোটকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যে কোনও অনুদান আসলে খয়রাতি। মূলত ভোটের কথা ভেবেই এমন প্রকল্প নেওয়া হয়। আগের সরকারও ভোটের কথা ভেবেই লক্ষ্মী ভাণ্ডার চালু করেছিল। তবে পাঁচ বছর ধরে এই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া খুব সহজ ছিল না। সেই কৃতিত্বটা অবশ্যই আগের সরকারের প্রাপ্য। বিজেপির প্রচারেও তিন হাজারের টোপ বারেবারেই দেওয়া হয়েছে। লোকে বিশ্বাসও করেছে। কিন্তু এত মহিলাকে যে তিন হাজারি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া সম্ভব নয়, এই সত্যিটা তখন ইচ্ছে করেই উহ্য রাখা হয়েছিল। নিশ্চিতভাবেই অনেকে আশাহত হয়েছেন। এখন ভোট হলে রাগে তাঁরা হয়তো উল্টোদিকের বোতাম টিপবেন। তবু বলব, সরকারের সিদ্ধান্ত অপ্রিয় হলেও সময়োচিত।

Previous post গল্প:‌ হারায়ে খুঁজি
Next post এক ঘণ্টায় বিরিয়ানি আসে, বই তো আসে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *