মহাকালের কাছে সমকালের উপহার

‘‌ও কখন আসবে ঠিক নেই, কিন্তু আসবেই/‌ কেয়ারটেকার যেন লণ্ঠনটা জ্বালিয়ে রাখে।’‌ শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের এপিটাফে এমনই মর্মস্পর্শী লাইন লিখেছিলেন পূর্ণেন্দু পর্ত্রী।

কিছুটা সেই সূত্র ধরেই বলা যায়, তিনি কখন আসবেন, ঠিক নেই। কিন্তু একবার না একবার আসবেনই। প্রেসবক্সে পাশের চেয়ারটা যেন খালি থাকে।

কিন্তু কেই বা আসবেন!‌ পাশের চেয়ারটা কেই বা খালি রাখবেন?‌
আসবেন সুনীল গাভাসকার। ধারাভাষ্যের ব্যস্ততার মাঝেই একবার না একবার ঠিক ঢুঁ মেরে যাবেন প্রেসবক্সে। এসে বসবেন ঠিক দেবাশিস দত্তর পাশের চেয়ারে। সেই কারণেই পাশের চেয়ারটা ফাঁকাই থাকে। বছরের পর বছর, দশকের পর দশক, এটাই পরিচিত ছবি। বলা যায়, প্রেস বক্সের ওপেন সিক্রেট।

খেলা ছাড়ার পরেও বিশ্বের নানা প্রান্তে ধারাভাষ্যের জন্য ছুটে বেড়াতে হয় গাভাসকারকে। দেবাশিস দত্তর পায়েও সেই কবে থেকেই চাকা লাগানো। এক দেশ থেকে অন্য দেশ, এক শহর থেকে অন্য শহর। ক্রিকেটার–‌সাংবাদিক সম্পর্ককে ছাপিয়ে সেই কোনকাল আগে এই সম্পর্ক নিয়েছে অন্য এক মাত্রা।

সেই সুনীল গাভাসকার পেরিয়ে গেলেন পচাত্তর বছরের মাইলস্টোন। লন্ডনে পালিত হল জন্মদিন। গ্যারি সোবার্স থেকে ক্লাইভ লয়েড, জিওফ্রে বয়কট থেকে সৌরভ গাঙ্গুলি— যেন তারকার মেলা। কত উপহার যে জমা পড়ল!‌ সব প্যাকেটবন্দি। আচ্ছা, সেদিন প্রেস বক্সের সেই পাশে বসা লোকটা কী উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন?‌ তিনি তুলে দিয়েছিলেন দুটি বই। একটি ইংরাজি, অন্যটি বাংলা। এত এত উপহারের মধ্যে থেকে একটিরই প্যাকেট খুললেন সানি। উল্টে পাল্টে, নেড়ে চেড়ে দেখলেন বই দুটি।

দুটো বই আসলে নিছক দুটো বই নয়। একটা দীর্ঘ সম্পর্কের উদ্‌যাপন। একটা লম্বা পথ চলার গুরুদক্ষিণা। সেইসঙ্গে একটি মানুষকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটের বিবর্তনের ইতিহাস। ‌

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, সাক্ষাৎকারে, ঘরোয়া আড্ডায় দেবাশিস দত্ত একটি কথা প্রায়ই বলেন, আমার বাবা গৌরীশঙ্কর দত্ত। কিন্তু এছাড়াও আমার আরও তিনজন বাবা আছেন, যাঁরা আমাকে জন্ম দেননি। কিন্তু আমার জীবনে তাঁদের ভূমিকা বাবার থেকে কম নয়। একজন অশোক দাশগুপ্ত, যিনি আমাকে সারা পৃথিবী ঘুরিয়েছেন। একজন পিকে ব্যানার্জি, যিনি মানুষ চেনার চোখ খুলে দিয়েছেন। একজন সুনীল গাভাসকার, বছরের পর বছর যিনি আমাকে আগলে রেখেছেন, চার দশক ধরে বস্তাভর্তি এক্সক্লুসিভ খবর দিয়ে গেছেন।

সুনীল গাভাসকার সংক্রান্ত কোনও খবর মানে, সেটা প্রথম প্রকাশিত হবে আজকালে। সেখান থেকে ফলো আপ করবেন অন্যরা। ক্রিকেট ও মিডিয়ার দুনিয়ায় এটা নিয়ে তেমন কোনও লুকোছাপা নেই। এত এত এক্সক্লুসিভ। তার মধ্যে যদি সেরা বাছতে বলা হয়!‌ পিছিয়ে যেতে হবে ১৯৮৭ তে। অনেক আগেই ডন ব্র‌্যাডম্যানের সর্বাধিক শতরানের রেকর্ড ছাপিয়ে গেছেন। আমেদাবাদে দশ হাজার রানের মাইলস্টোনেও পৌঁছে গেছেন। বেঙ্গালুরু ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি উইকেটে সেই ৯৬ রানের ইনিংসও খেলে ফেলেছেন।

মুম্বইয়ের বেঙ্গল লজে নির্দিষ্ট ঘরের ফোনটা বেজে উঠল। ওপারে সুনীল গাভাসকার। সরাসরি জানতে চাইলেন, আগস্টে লন্ডনে এমসিসির বাই সেন্টিনারি ম্যাচ। আসতে পারবে?‌

যাঁর কাছে জানতে চাইলেন, এই ২০২৪ সালে দাঁড়িয়ে তাঁর পাসপোর্টে অন্তত একশোবার ইংল্যান্ডের ছাপ পড়েছে। কিন্তু ঘটনাটা সাতাশির। তখন সেই তরুণ সাংবাদিকের কাছে লন্ডনে যাওয়া আর চাঁদে যাওয়া প্রায় একই ব্যাপার। তাই সেদিনের সেই সাংবাদিক প্রিয় ‘‌সানিভাই’‌কে বলেই বসলেন, ‘‌আগে তো কখনও যাইনি, অফিস পাঠাবে কিনা বলতে পারছি না।’‌ ওদিক থেকে ক্রিকেটের তেনজিং নোরগের আশ্বাস, ‘‌অফিসে বলো, ওখানে গেলে, একটা সুপার ইন্টারন্যাশলান স্কুপ হবে।’‌

গাভাসকার তখন ক্রিকেট জীবনের পশ্চিম সীমান্তে। হোল্ডিং, রবার্টস, মার্শাল, গার্নার, লিলি, টমসন, ইমরান— কত দিকপাল বোলারকে সামলেছেন হেলমেট ছাড়াই। হয়তো সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জানতেন, কার কাছে কোনটা প্রিয়। ‘‌লন্ডন দারুণ শহর, ওখানে টেমস নদী আছে, ঘুরে আসবে চলো’‌ এমনটা বললে এই তরুণ তেমন আগ্রহী হবে না। এই ছোকরা খবরের গন্ধ বোঝে। এই ছোকরা শুধু খবরেরই গন্ধ খোঁজে। তাই একে খবরের টোপ দিতে হবে। সেটাই তার কাছে পৃথিবীর সবথেকে মহার্ঘ্য। এক্সক্লুসিভের গন্ধ পেলেই উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুও চলে যেতে পারে।

অগত্যা, দেবাশিস দত্ত জানালেন সম্পাদক অশোক দাশগুপ্তকে। আজকাল মনে তখন মধ্যবিত্তের টানাটানির সংসার। দুম করে তো আর লন্ডনে পাঠানো যায় না। সম্পাদক জানতে চাইলেন, ‘‌আরে, খবরটা কী, সেটা তো জানতে হবে।’‌ সানির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও বেশ নিবিড়। এই আজকাল প্রকাশন থেকেই একসময় বেরোতো সারা দেশে সাড়া ফেলে দেওয়া ‘‌ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার’‌। যার অতিথি সম্পাদক ছিলেন সুনীল গাভাসকার। কিন্তু গাভাসকারের মজবুত ডিফেন্স। ভাঙতে চাইলেন না। শুধু এটুকু বললেন, ‘‌যা হবে, তুমিই পাবে।’‌

এমসিসির বাই সেন্টিনারি ম্যাচ কভার করতে পৌঁছে গেলেন দেবাশিস দত্ত। কিন্তু খবরটা কী?‌ তাঁর মনেও যেন খচখচ করছে। চারপাশে এত তারকার মেলা। এই হেঁটে যাচ্ছেন মার্শাল, ওপাশে রিচার্ড হেডলি। এদিকে ইমরান তো ওদিকে মাইক গ্যাটিং। কিন্তু কোনও দিকেই যেন মন নেই। কেন এতদূর তাঁকে উড়িয়ে আনা হয়েছে, জানতেই হবে।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সুনীল গাভাসকার জানিয়ে দিলেন, ‘‌আমি আর টেস্ট খেলব না। এটাই আমার শেষ পাঁচদিনের ম্যাচ। কিন্তু এখনই এই খবর লেখা চলবে না। যেদিন ম্যাচ শুরু হবে, সেদিন যেন ছেপে বেরোয়। তার আগে নয়। আগে তুমি লিখবে। তার পরের দিনে আমি ঘোষণা করব।’‌

এ যেন মেঘ না চাইতেই জল। সুনীল গাভাসকার অবসর নিচ্ছেন!‌ এতবড় এক্সক্লুসিভ!‌ কিন্তু লেখা যাবে না!‌ এই খবর জানার পরেও পেটে চেপে রাখা যায়!‌ যদি অন্য কেউ বুঝে ফেলে!‌ যথারীতি সানি আশ্বস্ত করলেন, ‘‌ভয় নেই, আর কেউ জানবে না। আমি কাউকে বলব না। আসলে, লর্ডসে আমার কোনও সেঞ্চুরি নেই। তাছাড়া, এই বাইসেন্টিনারি ম্যাচটা খেলার ইচ্ছেও অনেকদিনের। কিন্তু আমি আগে অবসর ঘোষণা করে দিলে আমাকে আর ডাকত না। তাই যেদিন শুরু হবে, সেদিন সকালে বেরোক। তারপর তো আমাকে বাদ দিতে পারবে না।’

২০ আগস্ট লর্ডসে শুরু হল সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ। সেইদিন সকালেই আজকালের প্রথম পাতায় আট কলাম জুড়ে সেই এক্সক্লুসিভ। সেই ম্যাচে সানি করেছিলেন ১৮৮ রান। লর্ডসে সেঞ্চুরির স্বপ্ন যেমন পূর্ণ হল। তেমনই, আগে দেবাশিস দত্ত এক্সক্লুসিভ করার পর, ছেপে বেরিয়ে যাওয়ার পর জানালেন ক্রিকেট বিশ্বকে।

‌কৃতজ্ঞ দেবাশিস মাঝে মাঝেই বলেন, ‘‌এই মানুষটা আমাকে দু’‌হাত ভরে দিয়েছেন। যা কেউ কাউকে দেয়নি, দেবেও না।’ ক্রিকেট মহলে দেবাশিস দত্তর একটা পরিচিত নাম হল ‘‌মাফিয়া’‌। কিন্তু কোন যাদুমন্ত্র বলে এই ‘‌মাফিয়া’ গাভাসকারের এমন বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠলেন, তা নিয়ে গবেষণা হতেই পারে।‌ সম্পর্কের সুর কোন তারে বাঁধা হয়েছিল, জানা নেই। তাই হয়তো প্রেস বক্সে ওই ফাঁকা চেয়ারটায় এসে ঠিক বসে পড়েন।

এবার বইয়ে আসা যাক। আগেই লিখেছি, এই বই একটা সম্পর্কের উদযাপন। ইংরাজি বইয়ের নাম?‌ SUNNY G. ‘‌জি’‌ কেন?‌ অনেকরকম ব্যাখ্যা হতে পারে। হতে পারে, ‘‌জি’‌ গাভাসকার পদবির আদ্যক্ষর। হতে পারে, নামের পর সম্মানসূচক ‘‌জি’‌ সম্বোধন (‌যেমন, অমিতাভজি, লতাজি)‌। গাভাসকারের ষাট বর্ষপূত্তিতেও (‌২০০৯)‌ ষাটটি লেখার সংকলন নিয়ে অভিনব উপহারের ডালি সাজিয়েছিলেন দেবাশিস। সেই বইয়ের নাম ছিল, ‘‌সুনীল গাভাসকার দ্য লিটল মাস্টার।’‌

আরেকজনের কথা না বললে অন্যায় হবে। তিনি শ্যাম ভাটিয়া। দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী। ক্রিকেট পাগল এক মানুষ। বাড়িতে রয়েছে ক্রিকেট মিউজিয়াম। রয়েছে দিকপাল ক্রিকেটারদের দুষ্প্রাপ্য সব স্মারক। আরও বড় পরিচয়, গাভাসকারের অনুরাগী। তাঁরও ইচ্ছে ছিল, গাভাসকারকে দারুণ কোনও উপহার দেওয়ার। ইচ্ছে ছিল, গাভাসকারের টেস্ট অভিষেকের পঞ্চাশ বছরে (‌২০২১)‌ জমকালো কিছু একটা করার। কিন্তু করোনা আবহে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে এল সানির পচাত্তর বছরে কোনও একটা উপহার দেওয়ার সুযোগ। চাইলেন, নানা রঙের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার এক মালা গাঁথতে। জানতেন, সানিভাইকে তিনি যেভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাইছেন, তা হয়তো একজনই বাস্তবায়িত করতে পারেন। মিলে গেল দুবাই–‌কলকাতা। শ্যামের বাঁশি তুলে নিলেন ‌দেবাশিস। শ্যাম ভাটিয়ার শুধু একটাই আর্জি ছিল, ‘‌গাভাসকারের ওপর এ যাবৎ যত বই হয়েছে, তার মধ্যে এটা যেন সেরা হয়।’‌ কিন্তু হাতে সময় তো অল্প। তিন মাসও বাকি নেই। দুই মলাটে এত দিকপালকে ধরা কি চাট্টিখানি কথা! সকালে সোবার্স, তো দুপুরে লয়েড। এক ফোনে বয়কট, তো অন্য ফোনে জাহির আব্বাস। কাউকে ধরতে হবে গভীর রাতে, কাউকে ভোরের দিকে। তালিকা বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে থামল!‌ বাদ গেলেন না ভারতীয় কিংবদন্তিরাও। গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ, মোহিন্দার অমরনাথ, কপিলদেব, শচীন তেন্ডুলকার। একেক লেখার সঙ্গে দুষ্প্রাপ্য সব ছবি। ই মেল, হোয়াটসঅ্যাপের যুগে ছবি পাওয়া হয়তো কঠিন নয়। তবু স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকেননি। দুষ্প্রাপ্য ছবির খোঁজে উড়ে গেছেন দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বই। উঁকি মারতে হয়েছে অনেকের ব্যক্তিগত অ্যালবামে। আর লেখাগুলি নিছক নিষ্প্রাণ রচনাবলি নয়। নিছক ওজনদার নামের ভিড় নয়। একেকজন তুলে ধরেছেন একেকটা আঙ্গিক। প্রতি লেখার পরতে পরতে যেন ধরা দিচ্ছেন অজানা এক সানি।

শুধু সেলিব্রিটি নয়, খুঁজে বেড়িয়েছেন এমন এমন মানুষকে, যাঁদের আমরা চিনিই না, কিন্তু যাঁদের ঝুলিতে অনেক গল্পের সম্ভার। যেমন ধরা যাক, বিজয় ভোসলে। অতি বড় সানি অনুরাগীও নিশ্চিতভাবে নামটা শোনেননি। প্রবীণ এই মানুষটি থাকেন অকল্যান্ডে, মেয়ের কাছে। যে বইয়ে সোবার্স, লয়েডদের মতো দিকপাল লোকেরা লিখছেন, সেই বইয়ে হঠাৎ অখ্যাত বিজয় ভোসলের লেখা কেন?‌ কী তাঁর পরিচয়?‌ আসলে, তিনি ছিলেন গাভাসকারের প্রতিবেশী। সানি যখন ১৯৭১–‌এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নির্বাচিত হলেন, তখন কোনও কিটব্যাগ ছিল না। এই বিজয় ভোসলের কিট ব্যাগ নিয়েই পাড়ি দিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে। সেই অভিষেক সিরিজেই এল ৭৭৪ রান (‌যা, এই ৫৩ বছর পরেও রেকর্ড)‌। ফিরে এসে কৃতজ্ঞ সানি সেই কিট ব্যাগ ফেরত দিতে গেলেন। কিন্তু বিজয় ভোসলে কিছুতেই ফেরত নেবেন না। কিন্তু অন্যের জিনিস ফেরত না দিলেই বা কেমন দেখায়!‌ তাই সানি ফেরত দিলেন। তারপর সেই কিট ব্যাগের কী হল?‌ নিশ্চয় যত্ন করে সাজানো আছে!‌ নিশ্চয় কোনও মিউজিয়ামে আছে!‌ না, সেই কিট ব্যাগ পুড়িয়ে ফেলেছিলেন বিজয় ভোসলে। হঠাৎ এমন পাগলামো কেন?‌ মর্মস্পর্শী লেখায় অকল্যান্ড থেকে সেই প্রবীণ লিখেছেন, ‘‌এত বড় স্মৃতি রাখতে পারতাম না। এর ভার বইতে পারতাম না। তাই পুড়িয়ে ফেলেছি।’‌ এমন অনেক অজানা কাহিনি, এমন অনেক মণিমুক্তো ছড়িয়ে আছে পাতায় পাতায়।  


আর বাংলা বই!‌ এই উপহার যেন আরও মহার্ঘ্য। প্রচ্ছদের সবুজ ক্যানভাস যেন সবুজ মাঠ। তার মাঝে ব্যাটিংরত সাদা পোশাকের ঝকঝকে সানি। ৭৫ বছরে ৭৫টি লেখার ডালি সাজিয়ে মন ছুয়ে যাওয়া এক শ্রদ্ধাঞ্জলি। বাবা মনোহর গাভাসকার, মা মীনাল গাভাসকারের চোখে ছেলের কথা যেমন আছে, তেমনই আছে সানির প্রথম অধিনায়ক অজিত ওয়াদেকার বা একদা ওপেনিং সঙ্গী গোপাল বসুর লেখাও। এঁরা কেউই আর পৃথিবীতে নেই। স্মৃতিগুলো, লেখাগুলো থেকে গেছে। যেমন থেকে গেছে মান্না দে বা লতা মঙ্গেশকারের স্মৃতিচারণও। বইটি শুরুই হচ্ছে সাতাশিতে লেখা অশোক দাশগুপ্তর দুরন্ত একটি লেখা দিয়ে। সানি কি নিছক একজন ক্রিকেটার!‌ নিছক একজন ধারাভাষ্যকার!‌ ছোট্ট নাম, কিন্তু ব্যপ্তিটা যে বিশাল। সেই হিমালয়কেই যেন স্পর্শ করার চেষ্টা এই দুটি বইয়ে। কিন্তু এমন দুটি বই প্রকাশ করতে কারা এগিয়ে এল?‌ ইংরাজি ও বাংলা, দুটি বই–‌ই জন্ম নিল দীপ প্রকাশনের গর্ভগৃহ থেকে। এমন আন্তর্জাতিক মানের ইংরাজি বই কলকাতার প্রকাশক দিনের আলো দেখাচ্ছেন, ভাবতে গর্ব হয় বৈকি।

শুরুতে লেখা কথাগুলোর জন্য এবার নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেওয়াই ভাল। না, এই বই কখনও জন্মদিনের উপহার হতে পারে না। এই বই শুধু গুরুদক্ষিণাও নয়। অনেক বইয়ের ভিড়েও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নিয়ে, চিরন্তন তকমা নিয়ে বই দুটো থেকে যাবে। হয়ে উঠবে মহাকালের কাছে সমকালের উপহার। 

Previous post মন জুড়ে তখন শুধুই রঞ্জিত মল্লিক
Next post গম্ভীরবাবুর ‘‌মন কী বাত’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *