বেঙ্গল টাইমস প্রতিবেদনঃ বিধানসভা ভোটের আগে কুপন কেলেঙ্কারিকে ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সিপিএম নেতা গৌতম দেব অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূলের সমস্ত প্রার্থীকে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল তৃণমূল ভবন থেকে। সেই টাকার কুপন পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। সেদিন অনেকেই গৌতমবাবুর কথায় বিশ্বাস করেননি। কিন্তু ক্রমশ প্রকাশ হচ্ছে, তিনি ভুল বলেননি।
সিবিআই তদন্তেও বারবার সেটা উঠে এসেছে। কিন্তু আজ সরকারিভাবেই তা স্বীকার করে নিলেন স্বপনকান্তি ঘোষ। তিনি এখনও তৃণমূল বিধায়ক। দল সাসপেন্ড করলেও এখনও সেই সাসপেনশনের চিঠি পাননি। দলের দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সোচ্চার। বুধবার তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকেও পনেরো লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বছরে ৪০ কোটি টাকা আয়কর দেন। তাঁর মতো একজন বিত্তশালী প্রার্থী ওই সামান্য পনেরো লাখ টাকা নিতে গেলেন কেন ? স্বপনবাবু বলেন, ‘আমি সেই টাকা ফেরত দিতেই চেয়েছিলাম। আমাকে যখন টাকা দেওয়া হয়, আমি মুকুল রায়ের কাছে যাই। আমি বলি, নির্বাচনের খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য আমার আছে। তাহলে আমি এই টাকা নিয়ে কী করব ? তখন মুকুল রায় বলেন, এটা দল দিচ্ছে। সবাইকেই দেওয়া হচ্ছে। এখন তুমি না নিলে অনেকে ভুল বুঝবে। ভাববে, তুমি নিজেকে বেশি মহান করে দেখাতে চাইছো।’ স্বপনকান্তির দাবি, ‘মুকুল রায় এই কথা বলার পর আমি আর ফিরিয়ে দিইনি। তখন আমাকেও এই টাকা নিতে হয়।’
তবে তাঁর কুপনগুলি কী হয়েছিল, তা অবশ্য বলতে পারেননি স্বপনবাবু। তিনি বলেন, ‘কুপনের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে আমি যে কুপন পাইনি, এটুকু বলতে পারি।’ সিউড়ির বিদ্রোহী বিধায়কের এই মন্তব্যের পর ঝড় উঠতে পারে রাজ্য রাজনীতিতে। সেই সময় গৌতম দেব বলেছিলেন, ‘একমাত্র উপেন বিশ্বাস ছাড়া সব প্রার্থী এই টাকা নিয়েছেন। কুপন পোড়ানো হয়েছে, সেই ছবিও আছে।’
গৌতম দেবের এমন অভিযোগের পর মানহানীর মামলা করেছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু আদালতে ১৯ বার মুকুল রায় হাজিরা দিলেও যিনি মামলা করেছিলেন, সেই মুকুল রায় একবারও আসেননি। বারবার সময় পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। গৌতম দেব বলেছিলেন, ‘আমার অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে আমি জেলে যাব। নইলে মুকুল রায় জেলে যাবে। যে মামলা করল, সে নিজেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’
বুধবার সন্ধে। গৌতমবাবু তখন আই সি ইউতে। ঠিক তখনই স্বপনকান্তি কার্যত মেনে নিলেন, গৌতম দেব সেদিন সত্যি কথাই বলেছিলেন।


