উত্তম জানা
রেলের আপার বার্থ মানেই যেন এক বিভীষিকা। উপরের বার্থে টিকিট মানেই যেন এক আতঙ্ক। এমনকী এসি থ্রি বা এসকি টু–তেও পরিস্থিতি একইরকম ভয়াবহ। যাঁদের সুগার আছে, তাঁদের বারবার ওঠা–নামা করতে হয়। তাঁদের কাছে রাতের সফর যেন আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠছে।
অথচ, দুই দশক বা তিন দশক আগেও কিন্তু ছবিটা এমন ছিল না। তখন সহজেই আপার বার্থে ওঠা যেত। অন্তত আপার বার্থে উঠতে যে এত ঝক্কি পোয়াতে হবে, এমনটা কখনও মনে হয়নি। অনেকে বলবেন, বয়স বেড়েছে। ওজন বেড়েছে। এই দুটো চরম সত্যিকে অস্বীকার করছি না। কিন্তু তারপরেও বলতে হয়, পদ্ধতি অনেক জটিল হয়েছে। আগে লোহার রড থাকত। সেখানে পা দিয়ে সহজেই ওঠা যেত। কিন্তু ইদানীং নানা রকমের ওঠার পা–দানি হয়েছে। কোনওটা প্লাস্টিকের, কোনওটা অবার ফাইবারের। পা দিলেই ভারসাম্য হারিয়ে যায়। ধরার হ্যান্ডলও সরু। মনে হয়, এই বুঝি পড়ে যাব। এমনকী কমবয়সি ছেলেরাও দেখি উপরে ওঠার নাম শুনলেই আঁতকে ওঠে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি আসবে। ওঠার পদ্ধতি আরও সহজ ও নিরাপদ হবে, এমনটাই তো কাম্য। কিন্তু হচ্ছে উল্টোটা। রেলের ইঞ্জিনিয়াররা কী ভেবে এইসব সিঁড়ি বানাচ্ছেন, তাঁরাই জানেন। আসলে, রেলের ইঞ্জিনিয়াররা বা রেলকর্তারা সম্ভবত নিজেরা আপার বার্থে ওঠেন না। তাই আপার বার্থ কতটা ভয়াবহ, তাঁদের কোনও ধারণা নেই। আমার অনুরোধ, দুই দশক বা তিন দশক আগে কেমন সিঁড়ি ছিল, সেগুলি এই প্রজন্মের নির্মাতাদের দেখানো হোক। অহেতুক জটিল না করে সেই পুরনো প্রযুক্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
