‌‌‘‌ঘরের ছেলে’‌রকদর আজও আছে

সরোজ চক্রবর্তী
কলকাতা ময়দানে খুব চালু একটা কথা, ‘‌ঘরের ছেলে’‌। ঠিক কোন সময় থেকে এই কথাটা চালু হল, বলা মুশকিল। কার গায়ে প্রথম এই তকমা সেঁটে গেল, সেটাও বলা মুশকিল। কিন্তু বহু বছর ধরেই কথাটা চলে আসছে। এখন, এই কর্পোরেট দুনিয়ায় অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। কিন্তু কেন জানি না, অন্তত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ‘‌ঘরের ছেলে’‌ শব্দ দুটো এখনও হারিয়ে যায়নি।
ঠিক কী কী করলে ঘরের ছেলে হওয়া যায়, এর মানদণ্ড কী, তা নিয়েও বেশ ধোঁয়াশা। ফুটবলার হিসেবে তিনি কত বড়, বা কতদিন খেলেছেন, এগুলোর কোনওটাই হয়তো মানদণ্ড নয়। কাকে যে জনতা বরণ করে নেয়, কাকে কী দেখে সে ‘‌ঘরের ছেলে’‌ বানিয়ে ফেলে, সে তারাই জানে। ছোট থেকেই শুনে আসছি, ইস্টবেঙ্গল হল পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষদের লড়াই করার একটা মঞ্চ। মোদ্দা কথা, বাঙালদের ক্লাব। তাঁরা এই ক্লাবের সঙ্গে একাত্মবোধ করবেন, সেটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের জন্মের কত আগেই সেই বেড়া ভেঙে গেছে। ইস্টবেঙ্গলের পঞ্চপাণ্ডবের কথাই ধরুন। আমেদ খান, আপ্পা রাও, বেঙ্কটেশ, ধনরাজ, সালে। এই পাঁচজনের কেউই তো পূর্ববঙ্গ থেকে আসেননি। বাংলার সঙ্গে, বাংলা ভাষার সঙ্গে তাঁদের দূরদূরান্তের কোনও সম্পর্কও ছিল না। এতদূর থেকে এই কলকাতায় এসে তাঁরা ঘাঁটি গেড়েছিলেন নিখাদ ফুটবলের টানেই। এঁরাও তো দিব্যি ঘরের ছেলেই হয়ে গেছেন। এখনও ‘‌পঞ্চপাণ্ডব’‌ বললেই গর্বের সঙ্গে এই নামগুলো উচ্চারিত হয়। এই প্রজন্মের তরুণরাও দিব্যি জানেন এই পঞ্চপাণ্ডবের কথা। কোনও ভাষা, কোনও জাতি, কোনও সংস্কৃতি তো এঁদের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এঁরা তো দিব্যি ‘‌ঘরের ছেলে’‌ হয়েই ছিলেন। আজও আছেন।
এবার একটু মুখ ফেরাই মোহনবাগানে। প্রচলিত প্রবাদ, মোহনবাগান মানেই ঘটিদের ক্লাব। মোহনবাগান–‌ইস্টবেঙ্গলের লড়াইকে বলা হয় ঘটি বাঙালের লড়াই। কিন্তু মোহনবাগানের প্রবাদ প্রতিম গোষ্ঠ পাল ছিলেন বাঙাল। মোহনবাগান লনে যে অমর একাদশের মূর্তি, তাঁদের অনেকেই পূর্ববঙ্গের। অনেকে বলতেই পারেন, তখন তো ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্ম হয়নি। কিন্তু স্বাধীনতার পরেও মোহনবাগানের হয়ে কোন কোন বাঙালরা খেলছেন, সেই তালিকা বেশ লম্বা। মোহনবাগান জনতার নয়নের মণি চুনী গোস্বামীই ছিলেন বাঙাল। তিনিও কিন্তু দিব্যি ‘‌ঘরের ছেলে’‌ই হয়ে উঠেছিলেন। তিনি টানা ১৪ বছর মোহন বাগান জার্সিতেই খেলেছেন। অন্য কোনও ক্লাবের হাতছানিতে সাড়া দেননি। ফর্মের শীর্ষে থাকতে থাকতেই জার্সি তুলে রেখেছেন। তিনি ঘরের ছেলে হবেন না তো কে হবেন!‌ খেলা ছাড়ার পরেও কখনও তরুণ ফুটবলারদের এনে দিয়েছেন। কখনও হয়েছেন সহ সচিব। একই কথা শৈলেন মান্না সম্পর্কেও। ক্লাবের হয়ে খেলেছেন ১৯ বছর। সর্বকালের সেরাদের একজন। তিনিও কখনও মোহনবাগান ছাড়ার কথা ভাবেননি। তিনিও দীর্ঘদিন কর্মসমিতিতে ছিলেন। বিভিন্ন সঙ্কটে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনিই প্রথম মোহনবাগান রত্ন, তাঁর নামেই ক্লাবের সাজঘর। ঘরের ছেলের উজ্জ্বল তালিকায় তিনিও। পাঁচের দশকেই আরও একজনের কথা বলতেই হয়, বদ্রু ব্যানার্জি। মেলবোর্ন অলিম্পিকে চতুর্থ হওয়া ভারতীয় দলের অধিনায়ক। ক্লাবের হয়েও গৌরব কম নেই। তিনিও কখনও অন্য ক্লাবে যাওয়ার কথা ভাবেননি।
আবার ইস্টবেঙ্গলেই ফেরা যাক। পঞ্চপাণ্ডব কি শুধু ইস্টবেঙ্গলেই খেলেছেন?‌ এমনটাও নয়। কেউ বড় একটা সময় কাটিয়েছেন মোহনবাগানে। কেউ আবার মহমেডানেও খেলেছেন। হয়তো ইস্টবেঙ্গলের থেকে মোহনবাগান জার্সিতে সাফল্যও বেশি। কিন্তু তার পরেও তাঁরা কিন্তু মোহনবাগানের ঘরের ছেলে হয়ে ওঠেননি। মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে এই নামগুলো সেভাবে শোনাও যায় না। এমনকী, এই দিকপালরাও যতদিন বেঁচে ছিলেন, ইস্টবেঙ্গলকেই নিজেদের ক্লাব মনে করতেন। ইস্টবেঙ্গলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসতেন। এত বছর পরেও তাঁদের পরিবারের লোকেদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের বন্ধন অটুট।
অর্থাৎ, ঘরের ছেলের ট্রাডিশন সেই পাঁচের দশকেও ছিল। সেই ভালবাসার স্রোত সেই তখন থেকেই বইতে শুরু করেছে। ছয়ের দশক বলুন, সাতের দশক বলুন, এই স্রোত আরও বেড়েছে বই কমেনি। সুদূর সেকেন্দ্রাবাদ থেকে আসা তুলসীদাস বলরামও দিব্যি ঘরের ছেলে হয়ে উঠলেন। তখনকার ফুটবলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর বলা হত পিকে, চুনী, বলরামকে। পিকে চিরকাল ইস্টার্ন রেলের জার্সিতেই খেলেছেন। চুনীও সবুজ মেরুন রঙের বাইরে যাননি। বলরামের গায়েই উঠেছিল লাল–‌হলুদ জার্সি। অর্থাৎ, এই তিন কিংবদন্তির মধ্যে লাল–‌হলুদ জনতার নয়নের মণি হয়ে উঠতে পেরেছিলেন ভিনরাজ্য থেকে আসা এই মানুষটিই। ফুটবলকে ভালবেসে, বাংলাকে ভালবেসে সারাজীবন বাংলাতেই থেকে গেলেন। সেই ছয়ের দশকেই অরুণ ঘোষ থেকে শান্ত মিত্র, পরিমল দে। পিটার থঙ্গরাজ, সৈয়দ নঈমুদ্দিন, মহম্মদ হাবিব— কাকে ছেড়ে কার নাম বলবেন?‌ সবার গায়েই সেঁটে গেল ঘরের ছেলের তকমা। আবার মোহনবাগান শিবিরে খেলোয়াড় হিসেবে হয়তো ততটা বিখ্যাত নন। কিন্তু বিক্রমজিৎ দেবনাথ, বলাই দে বা পরের দিকে ভবানী রায়রাও কিন্তু ঘরের ছেলেই।
সাতের দশকে উঠে এলেন একঝাঁক বাঙালি তারকা। দুই প্রধানের লড়াইটা যেন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হল। দলবদলও যেন অন্য এক মাত্রা পেল। সেই সময়ের তারকাদের কথা মনে করুন। এবার ঘরের ছেলে বললে আগে মোহনবাগান। সুব্রত ভট্টাচার্য। টানা সতেরো বছর সবুজ মেরুন জার্সিতে ক্লাবকে অনেক গৌরব যেমন এনে দিয়েছেন, ঠিক তেমনই হাজার প্রলোভনেও অন্য শিবিরে পা বাড়াননি। মাঝে মাঝেই কর্তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। কিন্তু মোহন–‌জনতার কাছে তাঁর গুরুত্ব কমেনি। আজও ঘরের ছেলের কথা উঠলে মান্না, চুনীর সঙ্গে সুব্রতর কথাও উজ্জ্বলভাবেই উঠে আসে। সুব্রতরই আরেক সহযোদ্ধা প্রসূন ব্যানার্জি। খিদিরপুর থেকে মোহনবাগানে এসে চুটিয়ে কাটিয়েছেন প্রায় এক দশক। মাঝে মহমেডানে গেলেও ইস্টবেঙ্গলের জার্সি কখনও গায়ে চাপাননি। হয়তো, সেই কারণেই তাঁকে ঘরের ছেলের মর্যাদা দিতে কুণ্ঠা হয়নি সবুজ মেরুন জনতার।
সাতের দশকে তারকার ছড়াছড়ি। তবে এবার একটু অন্যদিকে আলো ফেলা যাক। সুধীর কর্মকার, সুভাষ ভৌমিক, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, শ্যামল ঘোষ, সমরেশ চৌধুরি, গৌতম সরকার, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গাঙ্গুলি। এঁরা প্রত্যেকেই যেন ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে। সুভাষ ভৌমিক বা সুরজিৎ সেনগুপ্ত আজ আমাদের মধ্যে নেই ঠিকই, কিন্তু তাঁরাও কিন্তু আজীবন ইস্টবেঙ্গলকেই নিজের ক্লাব মনে করে গেছেন। তাঁরা কি অন্য ক্লাবে খেলেননি?‌ সুভাষ–‌সুরজিৎ দুজনেই মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন। সেখানেও তাঁদের সাফল্য কম নেই। কিন্তু তারপরও ইস্টবেঙ্গল জনতার কাছে যে ভালবাসা পেয়েছেন, তা অন্য কোথাও পাননি। তাঁরা নিজেরাও বারবার কৃতজ্ঞচিত্তে সে কথা স্মরণ করে গেছেন। সুধীর কর্মকার, গৌতম সরকারদেরও একসময় ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল। সাময়িক একটা ভুল বোঝাবুঝিও হয়েছিল। কিন্তু কালের নিয়মে সেসব কোথায় হারিয়ে গেছে। থেকে গেছে শুধু হৃদয় উজাড় করা ভালবাসাটুকুই। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যর কথাই ধরুন। বাকি অনেকেই নিজের সেরা সময়ে ক্লাব বদল করেছেন। কিন্তু মনোরঞ্জন একের পর এক লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজীবন এই জার্সিকে আঁকড়েই থাকতে চেয়েছিলেন। কোনও একটা কারণে হয়ত অভিমান হয়েছিল। এক বছরের জন্য জার্সি বদল করেছিলেন। কিন্তু টাকার অঙ্কে নয়। শোনা যায়, মাত্র এক টাকার বিনিময়ে তিনি মোহনবাগানে সই করেন। পরের বছর সব অভিমান ভুলে আবার ফিরে এসেছিলেন সেই লাল হলুদ জার্সিতেই। হ্যাঁ, এটাই হৃদয়ের টান। পরে এই ইস্টবেঙ্গলেই কোচিং করেছেন। প্রথমবার জাতীয় লিগের স্বাদ এনে দিয়েছেন। আজও মনোরঞ্জন যেন ইস্টবেঙ্গলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
  আটের দশক বলুন বা নয়ের দশক। ছবিটা কিন্তু একইরকম। কৃশানু–‌বিকাশের কথাই ধরুন। দুই ক্লাবেই চুটিয়ে খেলেছেন। মোহনবাগানকেও ট্রফি দিয়েছেন। কিন্তু কৃশানু–‌বিকাশ বললেই ইস্টবেঙ্গল জনতার যে আবেগ, সেই আবেগ কিন্তু সবুজ মেরুন গ্যালারিতে পাবেন না। বাইচুং ভুটিয়া। যাত্রা শুরু ইস্টবেঙ্গল থেকেই। পরে দু’‌দফায় মোহনবাগানেও গেছেন। কিন্তু তিনি ‘‌ইস্টবেঙ্গলি’ হয়েই থেকে গেছেন। কখনই সেভাবে ‘‌মোহনবাগানি’‌ হয়ে উঠতে পারেননি। আরও একজনের কথা না বললে চূড়ান্ত অবিচার হবে। তিনি তুষার রক্ষিৎ। শান্ত, ভদ্র, শিল্পী ফুটবলার। যতই পেশাদারিত্বের হাওয়া আসুক, সব প্রলোভন উপেক্ষা করে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কিন্তু এই জার্সিতেই থেকে গেছেন। কখনও অন্য কোনও শিবিরে যাওয়ার কথা ভাবেননি। আট ও নয়ের দশকে মোহনবাগানের ঘরের ছেলে বলতে ভেসে ওঠে সত্যজিৎ চ্যাটার্জির নাম। তিনিও চোদ্দ বছর খেলেছেন এই জার্সিতে। কখনও হয়েছেন সহকারী কোচ, কখনও ফুটবল সচিব। ঘরের ছেলে হিসেবে তাঁকে বরণ করতেও কোনও কার্পণ্য রাখেনি মোহন জনতা।  
বিদেশিদের দিকেও একটু আলো ফেলা যাক। ইস্টবেঙ্গলে একের পর এক বিদেশি দাপটের সঙ্গে খেলে গেছেন। কখনও মজিদ–‌জামশিদ, কখনও চিমা–‌এমেকা, কখনও আবার ওকোরো, মুসা, ডগলাস, ইয়াকুবু, চিডি। অন্যদিকে, মোহনবাগান শুরু করেছে অনেক দেরিতে। চিমাকে দলে নিতে বদলাতে হয় সংবিধান। কিন্তু জনতার নয়নে সেরা বিদেশি!‌ অবশ্যই জোস র‌্যামিরেজ ব্যারেটো। আড়াই দশক ধরে এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ক্লাব সমর্থকদের কাছে যে ভালবাসা পেয়েছেন, তা আর কোনও বিদেশি পাননি। অনেক তথাকথিত ঘরের ছেলের থেকেও তিনি যেন একটু বেশিই ‘‌ঘরের ছেলে’‌।  
তালিকাটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতেই পারে। মোদ্দা কথা, ইস্টবেঙ্গল যেভাবে সবাইকে ‘‌ঘরের ছেলে’‌ বলে আপন করে নিতে পারে, মোহনবাগান যেন কোথাও একটু পিছিয়ে। এর রহস্যটা কী?‌ আসলে, একজন ফুটবলারের ফুটবল জীবনের আয়ু কতদিন?‌ কারও ক্ষেত্রে পাঁচ বছর। কারও ক্ষেত্রে দশ–‌বারো বছর। পুরো সময়টা যে একই ক্লাবে সবাই খেলেন, এমনও নয়। কিন্তু তার পরের জীবনটা?‌ খেলার মাঠ থেকে যখন তিনি সরে আসেন, তখন সেই পুরনো ক্লাব কতটা যোগাযোগ রাখে?‌ ক্লাবের অনুষ্ঠানে প্রাক্তনদের কতটুকু সম্মান দেওয়া হয়!‌ জীবনের নানা সমস্যায় ক্লাব কতটা পাশে থাকে?‌ এই জায়গায় ইস্টবেঙ্গল সত্যিই অনেক এগিয়ে। ইস্টবেঙ্গলে প্রাক্তনদের যা সম্মান, মোহনবাগান এই জায়গায় অনেকটাই পিছিয়ে। আসলে এটা একটা পরম্পরা। যে ব্যাটনরা এখনকার প্রজন্মও বয়ে নিয়ে চলেছেন। এভাবেই সুরজিৎ সেনগুপ্ত–‌শ্যামল ঘোষেরা খুঁজে আনেন বাইচুংদের, সেভাবেই বাইচুংরাও খুঁজে আনেন অন্য কোনও পাহাড়ি তরুণকে। ‘‌ঘরের ছেলে’‌ না হলে এই একাত্মতাবোধটা আসে না।
কর্পোরেট আসার পর নাকি ‘‌ঘরের ছেলে’র কদর কমে আসছে। কিন্তু এই সময়েও ইস্টবেঙ্গলে যেমন সৌভিক ঘোষ আছেন, তেমনই মোহনবাগানে আছেন সুভাশিস বসু। ‌আরও পেশাদারিত্ব আসুক। আরও সাফল্যও আসুক। কিন্তু পরকে আপন করে নেওয়ার সেই ট্রাডিশনটাও থাকুক। ‘‌পরের ছেলে’‌কে ‘‌ঘরের ছেলে’‌ বানিয়ে নেওয়ার মতো হৃদয়টাও যেন হারিয়ে না যায়।   ‌
‌

Previous post কাউকে নয়, তিনি শুধু নিজেকেই বাঁচাতে চান
Next post ‌ট্রেনের সেই আজব ভদ্রলোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *