উত্তম জানা
যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তাই হল। ভোটের আর এক সপ্রাহও বাকি নেই। অথচ, প্রায় তিরিশ লক্ষ ভোটার ভোট দিতেই পারবেন না। বেশ কয়েক মাস ধরে চূড়ান্ত হয়রানির পর এটাই নিট ফল।
যদি অবৈধ বা ভুয়ো ভোটার বাদ যেতেন, তাহলে আপত্তির কিছু ছিল না। কিন্তু যাঁদের নাম এবারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রইল না, তাঁদের অধিকাংশই বৈধ ভোটার। অনেকে সাত পুরুষ ধরে এখানকার বাসিন্দা। অনেকে ২০০২ সালে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নামক ভুতুড়ে ব্যবস্থায় এই বিরাট সংখ্যক মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরেই থেকে গেলেন। স্রেফ নির্বাচন কমিশনের অদূরদর্শিতা আর গোঁয়ার্তুমির জন্যই এমন পরিণতি। ভোটার তালিকা সংশোধন নয়, শুরু থেকেই তাঁরা যেন বাংলার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করতে নেমেছিলেন। নিজেরাই যা ইচ্ছে, নোটিশ জারি করছেন। নিজেরাই কদিন পর বদলে ফেলছেন।
কখনও বলেছেন, যাঁরা ২০০২ সালে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের কোনও চিন্তা নেই। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ২০০২ ভোট দেওয়ার পরেও তাঁদের বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নামের বানান সামান্য এদিক–ওদিক, অমনি তাঁদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তির মধ্যে। কেউ ব্যানার্জি, তাঁর বাবা হয়তো বন্দ্যোপাধ্যায়, অতএব ডেকে পাঠাও। এসআইআর–কে কার্যত প্রহসনে পরিণত করল নির্বাচন কমিশন। আদালত বারবার সতর্ক করেছে। কিন্তু তারপরও নিজেদের শুধরে নেওয়ার কোনও চেষ্টা দেখা যায়নি। উল্টে নানারকম হুমকি। কখনও ধর্মের নামে চলেছে উস্কানি, কখনও বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি। ভোটারদের আশ্বস্ত করার কোনও চেষ্টাই করেনি এই কমিশন। ভোটার লিস্টে নাম থাকা বা না থাকার সঙ্গে যে নাগরিকত্বের সম্পর্ক নেই, এই আশ্বাসটুকুও পাওয়া যায়নি। ফলে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সংসদে বিরোধীরা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়েছিল। যথারীতি স্পিকার মশাই খারিজ করে দিয়েছেন। এখন মনে হচ্ছে, শুধু নিজের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট শাস্তি নয়। আরও বড় শাস্তি তাঁর প্রাপ্য। বাংলার ভোট চুকে যাক। তারপর এই কমিশনারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থের মামলা হোক। যেভাবে রাজ্যের বিরাট অংশের মানুষকে হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়েছে, তার জন্য অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা হোক। দলমত নির্বিশেষে বাংলার সাধারণ জনতার উচিত ধিক্কার দেওয়া।
