অকারণ আতঙ্ক তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন

মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে হবে। এটা নিয়ে কি কোনও দলের কোনও দ্বিমত আছে?‌ এটা তো সব দলেরই দাবি। কোনও দলই কি দাবি করেছে যে, মৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় রেখে দিতে হবে?‌ তাহলে এমন হুঙ্কার, এমন হুমকির কারণ কী?‌ নির্বাচন কমিশন চাইলে সুন্দরভাবে ব্যাপারটার নিষ্পত্তি করতে পারত। কিন্তু তাঁরা হাওয়া গরম করতেই ব্যস্ত। ফলে, যেটা সহজে হতে পারত, সেটা নিয়ে অহেতুক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

গত এক বছরে কাদের মৃত্যু হয়েছে, সেই তালিকা তৈরি করা কি খুব কঠিন?‌ মনে করুন কোভিডের সময়ের কথা। প্রতিদিন বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করতেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন হাসপাতালে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, কতজনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে, কতজন করোনা–‌মুক্ত হয়েছেন, নতুন করে কতজন ভর্তি হয়েছেন, সব হিসেব পেশ করতেন। অর্থাৎ, রাজ্য প্রশাসনের সেই মেশিনারি রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা থাকলে তাঁরা রাজ্য প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সেই মেশিনারি ব্যবহার করতে পারতেন। যাঁদের হাসপাতালে মৃত্যু হচ্ছে, তার রেকর্ড থাকে। ব্লক হাসপাতাল, সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ তা জেলা প্রশাসনকে জানাতে পারে। প্রতিদিন না হোক, মাসে একবার সারা মাসের রিপোর্ট দিতে পারে। আবার ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করে পঞ্চায়েত বা পুরসভা। তারাও ব্লক প্রশাসনের মাধ্যমে বা সরাসরি জেলা প্রশাসনকে প্রতিমাসে সেই তালিকা পাঠাতে পারে। নির্বাচন কমিশন প্রতিমাসে জেলা প্রশাসনের কাছে সেই তালিকা চেয়ে পাঠাতে পারে। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশন সদিচ্ছা ও তৎপরতা দেখালে মৃত ভোটারদের চিহ্নিত করা ও বাদ দেওয়া খুব সহজেই সম্ভব। কিন্তু তাঁরা সারা বছর ঘুমিয়ে থাকবেন আর ভোট এলেই হঠাৎ করে জেগে উঠবেন। সারা বছর সক্রিয় থাকলে যে কাজটা সহজেই হয়ে যায়, হঠাৎ ভোটের আগে হুমকি দিতে গিয়ে সেই সহজ কাজটাকে অহেতুক জটিল করে তোলেন। মানুষকে অহেতুক আতঙ্কিত করে তোলেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে বাধ্য হচ্ছি, তাঁদের যেমন সদিচ্ছার অভাব রয়েছে, তেমনই দূরদর্শিতারও অভাব রয়েছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, কোনও পুরসভা যদি ভুল তালিকা দেয় বা তথ্য গোপন করে!‌ তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকুক। ইচ্ছাকৃত গাফিলাতি করলে নির্বাচন কমিশন সরাসরি ব্যবস্থা করতে পারবে, এমন আইনি বন্দোবস্ত করাই যায়। এরপরেও হয়তো কিছু ফাঁক থাকবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সেই ফাঁক ভরাট করাও সম্ভব।

মৃত ভোটার যদি চিহ্নিত করা যায়, তাহলেই প্রায় সত্তর–‌আশি ভাগ কাজ হয়ে গেল। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে না হয়, ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার কাজ শুরু হোক। সবকিছু একসঙ্গে করতে গিয়ে পুরোপ্রক্রিয়াটাই ঘেঁটে যাচ্ছে।

 

Previous post জুজু দেখানোই যেন কেন্দ্রের কাজ
Next post কবিতা:‌ পিছুটান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *