বাস, মেট্রো, চায়ের দোকান। সর্বত্রই আলোচনায় উঠে আসছে এসআইআর। সবার মধ্যেই কেমন যেন একটা আতঙ্ক। অথচ, তাঁদের আতঙ্কের কোনও কারণই ছিল না। পাঁচ পুরুষ ধরে এখানকার বাসিন্দা, ২০০২ কেন, ১৯৫২ সালের ভোটার লিস্টেও তাঁদের পুর্বপুরুষের নাম আছে, তাঁরাও যেন আতঙ্কিত। প্রশ্ন হল, এই আতঙ্কের আবহ কেন?
যাঁরা পরে এসেছেন, যাঁদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাঁরা আতঙ্কিত হলে তবু না হয় একটা মানে বোঝা যেত। দেশের আমজনতা আতঙ্কিত, এটাকে কেউ কেউ বিজেপির সাফল্য বলে দেখাতে চাইছে। এই অর্বাচীনদের কী করে বোঝাই, দেশের মানুষকে আতঙ্কিত করা সরকারের কাজ নয়, সেই আতঙ্ক দূর করে ভরসা দেওয়া হল সরকারের কাজ।
আসলে, ভোট এলেই তাঁদের একটা করে জুজু বের করতে হবে। ২০১৯ ভোটের আগে আনা হল এনআরসি জুজু। তারপর আনা হল সিএএ নিয়ে হুঙ্কার। আচ্ছা, গত পাঁচ–ছয় বছর ধরে এই নিয়ে খোদ বিজেপি–কে কতটা সিরিয়াস মনে হয়েছে? মতুয়া সঙ্ঘের কজন সিএএ–তে আবেদন করেছেন? স্বয়ং শান্তনু ঠাকুরকে একবার বলুন তো সিএএ–তে আবেদন করতে। যিনি এত এত লোক খেপাচ্ছেন, তিনি নিজেই সিএএ–কে পাত্তা দিচ্ছেন না।
একটা সরকারের কী কাজ, তা এই সরকার আদৌ জানে তো! অন্তত প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণ শুনে তেমনটা মনে হয় না। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে অন্তত আটজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। ওই চেয়ারে বসে এতখানি অবান্তর কথা বলতে আর কাউকে শুনেছি বলে মনে হয় না। কোনটা তাঁর কাজ, সেটা বোঝেন না বলেই অকাজে এত আগ্রহ। আতঙ্ক তৈরি করা আর লোক খেপানো, এটাই যেন কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
