আমাদের দেশে ক্রিকেট এনেছেন সাহেবরা। তাই এটা মূলত সাহেবদের খেলা, ছোট থেকে আমরা এমনটাই শুনে এসেছি। তখন গরমকাল মানে ফুটবল, আর শীতকাল মানে ক্রিকেট–মোটামুটি এরকমই একটা বিভাজন ছিল। কিন্তু এখন আর ক্রিকেটকে নিছক শীতকালের খেলা বলা যাবে না। বারোমাসই ক্রিকেট লেগেই আছে। কখনও টেস্ট, কখনও ওয়ানডে, কখনও টি২০। নানা আঙ্গিকে সে হাজির। তার ওপর আইপিএলের ধামাকা তো আছেই। এত এত ক্রিকেটা উঠে আসছেন, কাকে ছেড়ে কার খোঁজ রাখবেন। ভারত একাই এখন চাইলে পাঁচখানা দল নামিয়ে দিতে পারে। কী জানি, পঞ্চম দলটা হয়ত প্রথম দলটাকে হারিয়েও দিতে পারে।
কখনও টি২০ বিশ্বকাপ, কখনও এশিয়া কাপ, কখনও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। টেস্টেও এসে গেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রতিবছরই কিছু না কিছু একটা মহাযজ্ঞ আছেই। কিন্তু তারপরেও বিশ্বকাপের একটা আলাদা তাৎপর্য আছে। চারবছর পর পর হয় বলেই আকর্ষণ এখনও বজায় আছে। যদি আইসিসি এটাকেও টি২০–র মতো দু’বছর ছাড়া ছাড়া করতে যায়, এর জৌলুসও ফিকে হয়ে যাবে। যাই হোক, বারো বছর পর আবার দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। শেষবার, ২০১১ তে অবশ্য শুধু ভারত নয়, পাকিস্তান আর বাংলাদেশও ছিল আয়োজকের তালিকায়। এবার শুধুই ভারতে।
দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হলে সীমাহীন একটা চাপ থাকবেই। ভরে থাকা গ্যালারি কখনও যেমন উজ্জীবিত করে, কখনও আবার বাড়তি স্নায়ুর চাপও এনে দেয়। সেই চাপকে কাটিয়েই ২০১১ তে ধোনির হাতে উঠেছিল বিশ্বকাপ। সন্দেহ নেই, দল হিসেবে ভারত বেশ শক্তিশালী। সিনিয়র–জুনিয়র মেলবন্ধন যেমন আছে, তেমনই সব বিভাগেই রয়েছে দুরন্ত ভারসাম্য। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের কাছে এটাই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। চার বছর পর তাঁরা খেলার জায়গায় থাকবেন কিনা, বলা মুশকিল। নিশ্চয় চাইবেন, অস্তরাগের আলোয় নিজেদের রাঙিয়ে নিতে। সেইসঙ্গে একঝাঁক নতুন মুখ, যাঁরা মূলত আইপিএলের সাম্রাজ্য থেকে উঠে এসেছেন। এই বিশ্বকাপ তাঁদেরও প্রতিষ্ঠার মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বকাপে যেমন অনেক ইন্দ্রপতন ঘটে, তেমনই অনেক নতুন তারার জন্ম হয়। সেই নতুন তারাদের দিকেই আমরা না হয় তাকিয়ে রইলাম।
