শান্তনু দাম
নিরপেক্ষ সাজার কোনও ইচ্ছে নেই। শুরুতেই বলে নেওয়া যাক, আমি একজন বাম সমর্থক। না, বামেদের হয়ে কখনও মিছিল করিনি। ভোট প্রচারও করিনি। কোনও দলের সদস্যও নই। তবে, আমার মতো অনেকেই আছেন, যাঁরা নিজের তাগিদেই ব্রিগেডে যান। কর্মক্ষেত্রে, পাড়ায় অনেক আপস করতে হলেও যাঁরা এখনও লাল পতাকা দেখলে মনে মনে উদ্বেল হয়ে ওঠেন।
থাক এসব কথা। সরাসরি প্রসঙ্গে আসি। আবার জোট নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে নাকি সীতারাম ইয়েচুরির একপ্রস্থ কথা হয়েছে। বিধানসভার মতোই আবার জোটের দিকে বল গড়াচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বেঙ্গল টাইমসের মাধ্যমে আমার তীব্র আপত্তি জানিয়ে রাখলাম।
১) বিধানসভার জোট থেকেও শিক্ষা হয়নি? এত এত আসনে কংগ্রেসকে জেতানো হল। কংগ্রেসই মূল বিরোধী দল হয়ে গেল।
২) বামেরা একা লড়লে অন্তত সত্তর খানা আসন হত। সোজা কথা, বামেদের ভোট কংগ্রেসে পড়লেও কংগ্রেসের ভোট সেভাবে বামেদের দিকে পড়েনি।
৩) কংগ্রেসের এখন কজন বিধায়ক, কংগ্রেস নেতারাই জানেন না। একে একে কতজন যে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন, কোনও হিসেব নেই। আরও কতজন পা বাড়িয়ে আছেন, কে জানে!
৪) এবারও যদি জোট হয়, কংগ্রেসের তিন-চারটি আসন হয়ত নিশ্চিত হবে। কিন্তু বামেরা কটা আসন পাবে? জোর দিয়ে একটা কেন্দ্রের নামও বলা যাবে?
৫) কংগ্রেসের ভোট অনেকটাই ব্যক্তি নির্ভর। অর্থাৎ, একজনকে ম্যানেজ করলে অনেকগুলো ভোট সেইদিকে পড়তে পারে। এই ম্যানেজ করার ব্যাপারে তৃণমূল এগিয়ে থাকবে, এ নিয়েও সন্দেহ নেই।

৬) কংগ্রেস নিজের ভোট ধরে রাখুক। তাতেই বামেদের সুবিধে। তাতে কংগ্রেস যদি তিন–চারটে আসন পায়, তবে পাক।
৭) বামেদের সঠিক শক্তি কত, সেটাও যাচাই হওয়া দরকার। জোট হলে কার কত ভোট মিশেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যায়। কার কেমন শক্তি, সে সম্পর্কে নিজেদের সচেতন থাকা উচিত।
৮) কেরলে বাম–কংগ্রেস লড়বে। অথচ, এখানে জোট। কী ব্যাখ্যা দেবেন? কেরলে কংগ্রেস খারাপ? বাংলার কংগ্রেস ভাল? কেরলে রাহুল খারাপ লোক। আর বাঙালিদের কাছে রাহুল ভাল?
৯) যতই জোট হোক, সংসদীয় গণতন্ত্রে আসনই বড় কথা। এই আসন সংখ্যায় নিশ্চিতভাবেই তৃণমূল এগিয়ে থাকবে। অর্থাৎ, বামেদের থেকে মমতাই বেশি গুরুত্ব পাবেন।
১০) সারা বছর একসঙ্গে দলগত কর্মসূচি হল না। শুধু ভোটের আগে জোট হলে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে? এটা সুবিধাবাদী জোট মনে হতেই পারে।
১১) কংগ্রেস প্রায় অর্ধেক আসন দাবি করে বসবে। যেখানে কিছুই সংগঠন নেই, সেইসব এলাকাও ছাড়তে হবে। এমন অনেক এলাকা যেখানে বামেরা জিততে পারতেন বা লড়াই করতে পারতেন, সেগুলি ছেড়ে দিতে হবে।
১২) শরিকদের মধ্যে আবার ভুল বোঝাবুঝি শুরু হবে। কে কতখানি স্বাগত জানাবেন, জানা নেই। অহেতুক এই বিতর্ককে টেনে আনার দরকার কী? শরিকদের যতই সমালোচনা হোক, এই কঠিন সময়েও শরিকরা কিন্তু ছেড়ে যায়নি।
আমি একান্তই আমার মতামত জানালাম। জানি না, বাম কর্মী সমর্থকরা একমত হবেন কিনা। এই নিয়ে একটা সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্ক হতেই পারে।
