অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো বন্ধ হোক

অনির্বাণ বসু

দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন চেয়ারে বসে কোন কথা বলতে হয়, আর কোন কথা বলতে নেই, এই সাধারণ জ্ঞানটুকু অনেকেরই নেই। আবার তার নমুনা পাওয়া গেল সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায়। কারা খুন করেছেন, এখনও পরিষ্কার নয়। কী কারণ, তাও জানা যায়নি। কিন্তু আলটপকা মন্তব্য করতেই হবে। সেই তালিকায় কেউই তেমন পিছিয়ে নেই।
ভাল করে জানার আগেই শিক্ষামন্ত্রী দুম করে দায় চাপিয়ে দিলেন বিজেপির ওপর। এরকম একটি অর্বাচীন লোক এই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, সেটা ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে। যেটা অনুব্রত মণ্ডলকে মানায়, সেটা শিক্ষামন্ত্রীকে মানায় না।
এটা নতুন নয়। সাম্প্রতিককালে যত খারাপ ঘটনা ঘটেছে, প্রথমেই বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আগে এটা সিপিএমের ওপর চাপানো হত, এখন বিজেপির ঘাড়ে। পরে দেখা যাচ্ছে, ঘটনা অন্যরকম। সাম্প্রতিককালে অধিকাংশ ঘটনাতেই দেখা যাচ্ছে পরে সেটা ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে। নেতারা উল্টোপাল্টা বললে কাগজে সেটা ছাপা হবে ঠিকই, কিন্তু স্থানীয় মানুষেরা ঠিকই জানেন ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত। সাময়িকভাবে হাওয়া গরম করা যাচ্ছে, কিন্তু আখেরে এতে দলের ক্ষতিই হয়ে যাচ্ছে, এটা কি তৃণমূল নেতৃত্ব বোঝেন!‌
কোনও কিছু ঘটলেই তৃণমূলের কোন নেতা কী বলতে পারেন, এটা এখন সকলেই জেনে গেছেন। আসলে, মিথ্য বলতে বলতে দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের মিথ্যেবাদী বানিয়ে ফেলেছেন। এখন ভুল করে সত্যি কথা বললেও লোকে আর বিশ্বাস করে না। এই মিথ্যের অনুপ্রেরণা–‌টা একেবারে সর্বোচ্চ জায়গা থেকেই আসছে।

satyajit biswas
অধিকাংশ খুনের ঘটনায় বাড়ির লোকেরা বলছেন একজনের কথা। স্থানীয় লোকেরাও জানেন গোষ্ঠীকোন্দলের কথা। কিন্তু জেলা নেতারা বা রাজ্য নেতারা দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন বিজেপির ঘাড়ে। পুলিশকে দিয়ে জোর করে সেইসব কথা বলানো হচ্ছে। পেটোয়া মিডিয়া তো আছেই। এক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটছে। তদন্তের আগেই শিক্ষামন্ত্রী আবোল তাবোল বকে গেলেন। একজন মন্ত্রীকে যে এই ভাষায় কথা বলতে নেই, তা কে শেখাবে!‌ তদন্তের আগেই মন্ত্রী যদি এমন অর্বাচীনের মতো প্রলাপ বকেন, তাহলে তদন্তকারীদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন তাঁদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায় শাসকদলের নেতা–‌মন্ত্রীদের আড়াল করা। ফলে, আসল অপরাধী পার পেয়ে যায়। পরে আসল সত্যি ঠিক বেরিয়ে আসে। কিন্তু তখন স্বীকার করা যায় না। এভাবেই একের পর এক ঘটনা ধামাচাপা পড়ছে। তাই এই খুনখারাপি বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে।
শাসক দল এবং তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতা নেত্রী যেভাবে অপরাধী খোঁজার বদলে অপরাধী আড়াল করার খেলায় নেমেছেন, তাতে এই রোগ আরও সংক্রমিত হবে। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়বে। একদিন হয়ত তাঁদেরও চরম শিক্ষা পেতে হবে।

Previous post বইমেলার সেই দুপুরে
Next post আবার সেই জোটের ফাঁদে পা দেবেন?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *